আমি বললাম তাহলে পোয়ারোকে গিয়ে আমি কি কি জানাব। লরেন্স বলল আমি যাতে পোয়ারোকে বলি যে সে সত্যিই কথাটার অর্থ কিছুই বুঝতে পারছে না।
এই সময় বাড়ির পেটা ঘড়িটার শব্দ কানে এল। আমরা দুজনে একসঙ্গে বাড়িতে ঢুকলাম। পোয়ারোকে বসে থাকতে দেখলাম। জন ওকে দুপুরের খাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আমরা স্থির করলাম যে দুর্ঘটনার বিষয়ে কোনো আলোচনা করব না। সকলে মিলে যুদ্ধের বিষয়ে আলোচনা করতে লাগলাম।
ডরকাস আমাদের বিস্কুট আর পানীয় পরিবেশন করল। এই সময় পোয়ারো হঠাই মেরী ক্যাভেণ্ডিসের দিকে ঘুরে বসে বলল। সে আবার পুরোনো স্মৃতিটাকেই জাগিয়ে তুলতে বাধ্য হচ্ছে কারণ তার দুএকটা জিজ্ঞাসা আছে। মেরী ক্যাভেণ্ডিসের কোনো আপত্তি আছে কিনা সে জানতে চাইল। মেরী বললেন পোয়ারো যা জানতে চান স্বচ্ছন্দে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।
পোয়ারো জিজ্ঞাসা করল সিনথিয়ার ঘর থেকে মিসেস ইঙ্গলথর্পের ঘরে যাওয়ার দরজাটা বন্ধ ছিল কিনা। মেরী প্রশ্নটা শুনে অবাক হয়ে বলল দরজাটা যে বন্ধ ছিল একথা তো তিনি তদন্তের সময়ও বলেছিলেন।
পোয়ারো বলল মিসেস ক্যাভেণ্ডিস তার প্রশ্নের উদ্দেশ্যটা ঠিক বুঝতে পারেননি। তার প্রশ্ন হল দরজাটা এমনি ভেজানো ছিল না খিল বন্ধ ছিল। মেরী এবার বুঝতে পেরে বললেন তিনি ঠিক মনে করতে পারছেন না। সম্ভবতঃ দরজাটা খিল এঁটে বন্ধ ছিল। কারণ দরজাটা খোলা যাচ্ছিল না।
পোয়ারো বলল শুধুমাত্র সম্ভাবনা দিয়ে কাজ চলবে না, ব্যাপারটা সম্বন্ধে নিশ্চিত হতে হবে।
কথার মাঝখানে হঠাৎ লরেন্স বাধা দিয়ে বলল সে দেখেছিল দরজায় খিল আঁটা ছিল।
পোয়ারো বলল তাহলে তো আর কিছু বলার নেই ওকে যেন একটু হতাশ দেখাল।
খাওয়া-দাওয়ার পর পোয়ারো আমাকে ওর সঙ্গে যেতে অনুরোধ করল। আমি সম্মত হলাম। বাগানের মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে পোয়ারো আমাকে জিজ্ঞাসা করল আমি কি ভাবছি। আমি শান্ত স্বরেই বললাম যে কিছু ভাবছি না। পোয়ারো চুপ করে রইল।
একটু পরে আমি পোয়ারোকে বললাম তার কথাটা আমি লরেন্সকে জানিয়েছি। পোয়ারো জানতে চাইল কথাটা শুনে লরেন্সের প্রতিক্রিয়া কি হয়েছিল। আমি বললাম যে লরেন্স কথাটার মাথা মুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারেনি। ভাবলাম কথাটা শুনে পোয়ারো হয়ত হতাশ হয়ে পড়বে, কিন্তু ঠিক উল্টোটা ঘটল। পোয়ারো বলল সে জানত যে এরকমই হবে। পোয়ারোকে আর কোনো কথা জিজ্ঞাসা করতে একটুও ইচ্ছে হল না।
পোয়ারো কথা প্রসঙ্গে বলল সিনথিয়াকে তো খাওয়ার আসরে দেখা গেল না। আমি বললাম সিনথিয়া হাসপাতালে গেছে, সে আজ থেকে আবার কাজে যোগ দিয়েছে।
পোয়ারো বলতে লাগল সিনথিয়া বেশ পরিশ্রমী, এবং দেখতে বেশ সুন্দরীও। সে জিজ্ঞাসা করল সিনথিয়া কি তার ডাক্তারখানাটা দেখতে চাইলে দেখাবে। আমি বললাম না দেখানোর কোনো কারণ নেই বরং খুশীই হবে সে কারণ ওটা দেখাবার মতই।
পোয়ারো প্রশ্ন করল সিনথিয়াকে রোজ যেতে হয় কিনা। আমি বললাম ওর শুধু বুধবার পুরোদিন আর শনিবার আধবেলা ছুটি। পোয়ারো বলল সময়টা মনে রাখতে হবে।
এবার পোয়ারো জানতে চাইল সিনথিয়ার ওখানে মারাত্মক বিষ আছে কিনা। আমি বললাম নিশ্চয়ই আছে, সেগুলো একটা আলাদা আলমারীতে রাখা থাকে, ঘরের বাইরে গেলেই চাবিটা সবসময় নিজের কাছে রাখে।
আলমারীটা কোথায় রাখা থাকে, জানলার ধারে কিনা পোয়ারো জিজ্ঞাসা করল। ওর প্রশ্নগুলো শুনে আমি অবাক না হয়ে পারলাম না। আমি জানতে চাইলাম কেন সে এই প্রশ্ন করছে। পোয়ারো বলল তার একটু আশ্চর্য মনে হচ্ছিল, তাই।
আমরা কথা বলতে বলতে পোয়ারোর বাড়ির কাছে এসে পড়েছিলাম। পোয়ারো তার বাড়িতে খেতে বলল আমাকে। আমি বললাম যে এখন আর যাব না, একটু বড় রাস্তা দিয়ে ঘুরে বাড়ি যাব।
স্টাইলসের চারদিকের দৃশ্য বড়ই মনোহর। গাছপালার মধ্য দিয়ে হাঁটতে বেশ ভালোই লাগছিল, চারদিক শান্ত, নিস্তব্ধ। হাঁটতে হাঁটতে একটা গাছের নিচে এসে হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়লাম। মনে হল সব কথা ভুলে যাই, এমনকি পোয়ারোর কথাও। কিন্তু মনের গতি বড়ই বিচিত্র। ঘুরে ফিরে সেই হত্যাকাণ্ডের কথাটাই আবার মনে হতে লাগল। ভাবতে ভাবতে বোধহয় একটু তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলাম। মনে হল লরেন্স অ্যালফ্রেড ইঙ্গলথর্পপকে খুন করে বসেছে–আধো ঘুম আধো জাগরণে এটাই বুঝি দেখতে পেলাম। মনে হল জন যেন চিৎকার করছে। চমকে উঠতেই তন্দ্রা ছুটে গেল আমার।
চারদিকে তাকালাম, এরকম জায়গায় ঘুমিয়ে পড়াটা একটুও ঠিক হয়নি বুঝতে পারলাম। হঠাৎ সামনের দিকে নজর পড়তেই দেখতে পেলাম জন ও মেরী ক্যাভেণ্ডিস আমার কিছু দূরে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। ভাগ্যিস আমাকে দেখতে পায়নি ওরা। ওদের ভাবভঙ্গী দেখে সহজেই বোঝা যায় যে ওরা ঝগড়া করছে।
জন বলে উঠল সে একথা বিশ্বাস করে না। মেরী শান্ত গলায় বলল তার কাজকর্মে বাধা দেবার অধিকার জনের নেই। জন বলল মাত্র গত শনিবার তার মাকে কবর দেওয়া হয়েছে। আর মেরী ঐ লোকটার সঙ্গে ঢলাঢলি করছে এত সারা গ্রামে টিঢ়ি পড়ে যাবে।
মেরী জিজ্ঞাসা করল জন কি শুধু গ্রামে টিটি পড়ার ভয়েই কাহিল হয়ে পড়ছে। জন বলল শুধু তা নয়, ঐ লোকটাকে সে আর সহ্য করতে পারছে না, লোকটা একটা পোলিশ ইহুদী। মেরী উত্তরে বলল শরীরে একটু ইহুদী রক্ত থাকা ভালো, তাতে যত আকাট ইংরেজ আছে তাদের বুদ্ধি খুলতে পারে।
