আমি আশ্চর্য হয়ে বললাম সিন্দুকের মধ্যে ওটা কে রাখতে পারে?
পোয়ারো বলল, ঐ সিন্দুকের মধ্যে দাড়িটা যে রেখেছে সে খুবই বুদ্ধিমান। দাড়িটা ওখানে রেখে সে যে কেশিলের আশ্রয় নিয়েছে তার ফলে কেউ তাকে সন্দেহ করতে পারবে না। পোয়ারো এও বলল যে এবার আমাদের আরও বুদ্ধির পরিচয় দিতে হবে, কিন্তু এমন ভাব। দেখাতে হবে সে যেন আমাদের বুদ্ধির পরিমাপ করতে না পারে।
এবার পোয়ারো বলল এই বাড়িতে তার একজন সহযোগী দরকার। আমি অসন্তুষ্ট হয়ে বললাম যে আমিই তো আছি। পোয়ারো বলল আমাকে ছাড়াও আরো একজনকে দরকার। পোয়ারোর কথাতে আমি মনে খুব আঘাত পেলাম। পোয়ারো সম্ভবত ব্যাপারটা বুঝতে পেরেই গভীর দৃষ্টি মেলে আমার দিকে তাকালো, বলল আমি তার উদ্দেশ্যটা বুঝতে পারিনি, আসলে আমি তার সঙ্গে যে কাজ করছি তা–সকলেই জানে, এমন আরেকজনকে দরকার সে আমাদের সঙ্গে নেই।
আমি ব্যাপারটা বুঝলাম, জনকে দিয়ে কাজ হবে কিনা জিজ্ঞাসা করলাম।
পোয়রো বলল জনকে দিয়ে হবে না। হঠাৎ দেখলাম মিস হাওয়ার্ড এদিকে আসছেন।
পোয়ারো বলল, মিস হাওয়ার্ডই তার সহযোগী হবার কাজটা ঠিকমতো করতে পারবেন।
পোয়ারোর অনুরোধ শুনে মিস হাওয়ার্ড কয়েক মিনিট কথা বলতে রাজী হলেন। আমার মনে হল ভদ্রমহিলা পোয়ারোকে তেমন আমল দিতে চাইছেন না। আমরা একটা ঘরে ঢুকে বসতেই পোয়ারো দরজাটা বন্ধ করে দিল।
মিস হাওয়ার্ড তাড়া দিলেন। পোয়ারো বলল তার একটা জিজ্ঞাসা আছে এবং সে মিস হাওয়ার্ডের কাছ থেকে সঠিক উত্তর প্রত্যাশা করছে। মিস হাওয়ার্ড জানালেন তিনি মিথ্যে কথা বলেন না। পোয়ারো প্রশ্ন করল হাওয়ার্ড কি বিশ্বাস করেন যে মিসেস ইঙ্গলথর্পকে ওর স্বামীই বিষ খাইয়েছেন। মিস হাওয়ার্ড বললেন এ ব্যাপারে তিনি স্থির নিশ্চিত যে অ্যালফ্রেডই এমিলিকে বিষ খাইয়েছে।
পোয়ারো জানাল সে হাওয়ার্ডের কথা না হয় মানল। কিন্তু তার প্রশ্ন মিস হাওয়ার্ড কেন ইঙ্গলথর্পকে দোষী মনে করছেন। হাওয়ার্ড বললেন এটাই সত্যিই তাই।
পোয়ারো মৃদু হেসে বলল আসলে মিস হাওয়ার্ড মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে চান যে ইঙ্গলথর্পপই অপরাধী। কিন্তু তার অবচেতন মন বলতে চায় ঐ অপরাধ সে করেনি। এর ফলে তিনি একটা মানসিক দ্বন্দ্বের শিকার হয়ে পড়েছেন।
মিস হাওয়ার্ড যেন পোয়ারোর কথাগুলো মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনল, তারপরে চিৎকার করে বলে উঠল পোয়ারো যা বলছে সব মিথ্যা।
পোয়ারো কোনো কথা না বলে শুধু গম্ভীরভাবে মাথা নাড়ল।
মিস হাওয়ার্ড বললেন পোয়ারো যাতে তার সাহায্য না চায়, কারণ সে সাহায্য করতে পারবে না। পোয়ারো বলল সে সাহায্য চাইছে না, তার অনুরোধ মিস হাওয়ার্ড যেন শুধু তার সহযোগী হয়ে থাকেন।
মিস ওয়ার্ড জিজ্ঞাসা করলেন তাকে সহযোগী হয়ে কি কাজ করতে হবে? পোয়ারো তাকে শুধু চোখ কান খুলে ল করতে বললেন।
মিস হাওয়ার্ড মাথা নেড়ে বললেন তাতে তার কোনো আপত্তি নেই। তিনি মনে প্রাণে চান ন্যায় তোক। একথা বলে তিনি ধীরে ধীরে ঘরের বাইরে চলে গেলেন।
ওর গমনপথের দিকে পোয়ারো কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর অস্ফুট স্বরে বলল মহিলার হৃদয় আর বুদ্ধি দুই আছে তাই সে তাকে সহযোগী হিসাবে বেছে নিয়েছে।
মিস হাওয়ার্ড ও পোয়ারোর এই দীর্ঘ কথোপকথনের কিছুই আমার মাথায় ঢুকল না। পোয়ারোকে একথাটা জানাতে ও খুবই অবাক হল। আমি তাকে অনুরোধ করলাম ব্যাপারটা আমাকে বুঝিয়ে দিতে। পোয়ারো বলল সে আমাকে বোঝাতে পারবে না। কারণ সে চায় এই গোপনীয়তা তার আর মিস হাওয়ার্ডের মধ্যে থাকুক।
এই কাজটা যে রীতিমত অন্যায় একথা না বলে আমি পারলাম না।
পোয়ারো বলল সে কোনো কিছুই আমার কাছে গোপন করেনি, সব ব্যাপারই আমার জানা শুধু আমাকে এর থেকে সিদ্ধান্ত তৈরি করে নিতে হবে। পোয়ারোর কথার কোনো উত্তর দিলাম না। মনে মনে এই ভেবে দুঃখ হল যে পোয়ারো আমার কোনো মূল্যই দিতে চায় না। স্থির করলাম যদি কোনো সূত্র খুঁজে পাই তাহলে তা পোয়ারোকে জানাব না। একেবারে শেষে তাকে আশ্চর্য করে দেব। অনুভব করলাম যে নিজেকে এবার একটু জাহির করা দরকার।
০৯. পোয়ারোর অদ্ভুত অনুরোধ
দিন কয়েক ধরে পোয়ারোর অদ্ভুত অনুরোধের কথাটাই মাথায় ঘুরছিল। কিন্তু লরেন্সকে এখনও পর্যন্ত কথাটা বলা হয়ে ওঠেনি কারণ সুযোগই পাইনি।
সেদিন বাগানে ঘুরছিলাম, নানা কথা মনে আসছিল। হঠাৎ লরেন্সকে দেখতে পেলাম। বাগানের মধ্যে ছোট খেলার মাঠটাতে লরেন্স দুটো বল নিয়ে নিজের মনে নাড়াচাড়া করছিল। মনে হল এই সময়ই কথাটা বলার সুযোগ। না হলে পোয়ারো যা ব্যস্তবাগীশ নিজেই হয়ত কোনোদিন জিজ্ঞাসা করে বসবে, এটা হতে দিতে মন চাইল না। তাই সরাসরি লরেন্সের কাছে গিয়ে বললাম যে আমি তাকেই খুঁজছিলাম।
লরেন্স কি ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করল। আমি বললাম পোয়ারো তাকে একটা কথা জানাতে বলেছিল। লরেন্স উদগ্রীব হয়ে উঠল। আমি আড় চোখে ওর দিকে তাকিয়ে বললাম কথাটা হলবাড়তি কফির কাপটা খুঁজে বের করুন, তা হলে আর চিন্তার কারণ থাকবে না।
লরেন্স বিস্মিত হয়ে জানতে চাইল পোয়ারো এই কথার দ্বারা কি বলতে চাইছেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম সে কি কিছুই বুঝতে পারছে না। লরেন্স মাথা নাড়ল।
