জ্যাপ জানতে চাইলেন পোয়ারো কেন গ্রেপ্তার মুলতুবী রাখতে চাইছেন। গম্ভীর হয়ে মাথা নেড়ে পোয়ারো বলল তারা ইচ্ছে হলে ইঙ্গলথর্পপঁকে গ্রেপ্তার করতে পারে কিন্তু এতে কোনো লাভ হবে না, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করা যাবে না।
পোয়ারোর কথা শুনে জ্যাপের মুখ বেশ গম্ভীর হয়ে উঠল। সামারহের মুখে অবিশ্বাসের হাসি ফুটলো। আমি অবাক হয়ে গেলাম।
জ্যাপ রুমাল দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে বললেন যে তারও তো ওপরওয়ালা আছে, তাদের সন্তুষ্ট করাটাই আসল কথা। তাই তিনি ব্যাপারটা একটু পরিষ্কার ভাবে জানতে চাইছেন।
পোয়ারো মুহূর্ত খানেক চিন্তা করল। তারপর বলল তার এ ব্যাপারে মুখ খোেলার কোনো ইচ্ছা ছিল না। তবে জ্যাপ যখন জানতে চাইছেন তখন সে চুপ করে থাকে কি করে। পোয়ারো জিজ্ঞাসা করল জ্যাপ এখন স্টাইলসে যাচ্ছেন কিনা।
জ্যাপ জানালেন করোনার ও ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করে তারা আধঘণ্টার মধ্যেই স্টাইলসে যাবেন। পোয়ারো বললেন তারা যেন যাবার সময় তাকে গ্রামের শেষ বাড়িটা থেকে ডেকে নেন, সেও তাদের সঙ্গে যেতে ইচ্ছুক।
পোয়ারো বলল স্টাইলসে মিঃ ইঙ্গলথর্প যদি কোনো প্রমাণ দিতে অস্বীকার করে তাহলে সে এমন প্রমাণ দিতে পারবে যে তাতেই তারা বুঝতে পারবেন যে মিঃ ইঙ্গলথর্পের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই টিকবে না।
জাপকে খুশী মনে হল। অতঃপর তারা বিদায় নিয়ে চলে গেল।
এবার আমি ভাবলাম পোয়ারোকে কিছু জিজ্ঞাসা করব, কারণ আমার মনের মধ্যে হাজার খানেক প্রশ্ন জেগেছে।
কিন্তু পোয়ারো নিজেই মুখ খুলল, বলল মিঃ ইঙ্গলথর্পের কাণ্ড দেখে সে অবাক হয়ে গেছে। আমি বললাম সে তো শুধু লোকটার বোকামিই দেখছে। ও সত্যিকার দোষী বলেই চুপ করে আছে কারণ, এছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
পোয়ারো বলল অনেক উপায় আছে। যদি সে নিজে কখনও কোনো খুন করত তাহলে ইঙ্গলথর্পের চেয়ে অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য কাহিনী তৈরি করত।
পোয়ারোর কথা শুনে আমার খুব হাসি পেল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম ঐ গোয়েন্দা দুজনকে সে যা বলেছে তা তার মনের কথা কিনা; সে কি সত্যিই ইঙ্গলথর্পকে নির্দোষ বলে ভাবছে। পোয়ারো বলল নির্দোষ না ভাবার তো কোনো কারণ নেই। আমি বললাম যে ইঙ্গলথর্পের বিরুদ্ধে প্রমাণগুলো তো খুবই জোরালো। পোয়ারোও মাথা নেড়ে সায় দিল।
কথা বলতে বলতে আমরা লিস্টওয়েজ কুটিরের সামনে এসে গেলাম। পোয়ারো বলতে লাগল ইঙ্গলথর্পের বিরুদ্ধে প্রমাণগুলো খুব বেশি জোরালো। যতক্ষণ এগুলো অস্পষ্ট ও অকথিত ছিল ততক্ষণ ওগুলো অগ্রাহ্য করা এরকম অসম্ভব ছিল কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ব্যাপার হল অপরাধী নিজেকে যত গভীর জালে জড়িয়ে ফেলছে ততই সুবিধা হয়ে যাচ্ছে। ইঙ্গলথর্পের মুক্তির জন্য শুধু একটু ছিদ্রপথ প্রয়োজন।
পোয়ারোর মনের মধ্যে যে কি চলছে তা বোঝা আমার সাধ্য নয়। তাই চুপচাপ থাকাই শ্রেয় মনে করলাম।
মিনিট খানেক পরে পোয়ারো বলতে লাগল ঘটনাটা এইভাবে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। যদি কোনো চালাক লোক তার স্ত্রীকে বিষ খাইয়ে মারতে চায় তাহলে ষড়যন্ত্রটা সে কিভাবে করতে পারে। একদিন গ্রামের এক ওষুধের দোকান থেকে একটা কুকুরকে মারব বলে স্ট্রিকনিন কিনলো, তারপর সেই রাতে বিষ প্রয়োগ করল না, স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার জন্য অপেক্ষা করে রইল, ঝগড়ার কথা বাড়ির সকলেই জানল। লোকটা এতটুকু সাবধান না হয়ে সেদিন রাতেই খুন করল।…কোনো লোক কখনও এত বোকা হতে পারে! কেউ যদি ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করতে চায় তবেই সে একরকম কাজ করবে।
আমি বললাম মিঃ ইঙ্গলথর্পপকে যদি পোয়ারো নিরপরাধ বলে মনে করে তাহলে সে স্ট্রিকনিন কেন কিনেছিল। পোয়ারো বলল যে ইঙ্গলথর্প মোটেই স্ট্রিকনিন কেনেনি। আমি বললাম মেস যে তাকে সনাক্ত করেছে।
পোয়ারো রহস্য উদঘাটন করল, বলল মেস ইঙ্গলথর্পের পোশাকে ওরই মত দাড়িওয়ালা চশমা পরা একজনকে দেখেছে এবং তাকে হয়ত দূর থেকে দেখেছে। তাছাড়া মেস ঐ দোকানে মাত্র দিন পনেরো কাজ করছে।
আমি বললাম, তাতে কি হয়েছে?
পোয়ারো আমাকে বাধা দিয়ে জিজ্ঞাসা করল সে যে সূত্রগুলোর কথা বলেছিল সেগুলো আমার মনে আছে কিনা। আমি একটু চিন্তা করলাম। পোয়ারো আমাকে দ্বিতীয় সূত্রটার কথা মনে করতে বলল।
আমার মনে পড়ে গেল, বললাম সে বলেছিল মিঃ ইঙ্গলথর্প অদ্ভুত পোশাক পরে, ওর কালো দাড়ি আর চশমা আছে।
পোয়ারো হঠাৎ বলল কেউ যদি লরেন্স বা জনের ছদ্মবেশ নিতে চায় তাহলে সেটা সহজ হবে কিনা। আমি বললাম যে তা সহজসাধ্য নয় কারণ ওদের দুজনেরই মুখের দাড়িগোঁফ কামানো।
পোয়ারো বলল ঠিক তাই। কিন্তু অ্যালফ্রেড ইঙ্গলথর্পের ক্ষেত্রে ছদ্মবেশ ধরার কোনো অসুবিধা নেই, কারণ ওর পোশাক, দাড়ি আর চশমা তার আসল ব্যক্তিত্ব আর রূপটা আড়াল করে ফেলেছে। তাহলে অপরাধীর মনস্তত্ত্ব বলে তার প্রথম ও প্রধান উদ্দেশ্য হবে নিজের ওপর থেকে সন্দেহ অন্যের ঘাড়ে ফেলা। এই ঘটনায় এরকম একজন লোক তো হাতের কাছেই রয়েছে…সে হল মিঃ ইঙ্গলথর্প। সকলেই ওর অপরাধ সম্বন্ধে নিঃসন্দেহ হবে এটা জানা কথা। তা সত্ত্বেও অপরাধী একেবারে নিশ্চিত হবার জন্য ইঙ্গলথর্পের ছদ্মবেশে স্ট্রিকনিন কিনল।
পোয়ারো বলল আসলে মেস কোনোদিন আসল ইঙ্গলথর্পের সঙ্গে কথা বলেনি, তাই ঐ দাড়ি আর চশমার আড়ালে তার পক্ষে ঐ লোকটা যে ছদ্মবেশী তা বোঝা সম্ভব ছিল না।
