করোনার বললেন তাহলে ইঙ্গলথর্প সেই সময় কোথায় ছিলেন তা বলতে তিনি অস্বীকার করছেন? ইঙ্গলথর্প বললেন করোনার যা খুশী ভেবে নিতে পারেন।
পোয়ারোর দিকে তাকিয়ে দেখলাম সে বেশ অস্বস্তি বোধ করছে। অস্ফুট স্বরে সে বলে উঠল ইঙ্গলথর্প গ্রেপ্তার হতে চায় নাকি।
মিঃ ইঙ্গলথর্প সত্যি একটা বাজে ধারণার সৃষ্টি করলেন।
করোনার এবার অন্য প্রশ্ন করলেন। তিনি জানতে চাইলেন মঙ্গলবার বিকালে মিঃ ইঙ্গলথর্প তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি করেছিলেন কিনা।
মিঃ ইঙ্গলথর্প জানালেন যে জুরীরা ভুল শুনেছেন তার স্ত্রীর সঙ্গে ঐ সময় তার কোনো ঝগড়া হয়নি। কারণ সারা বিকাল তিনি বাড়িতেই ছিলেন না।
করোনার জানালেন দুজন সাক্ষী তাদের স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া শুনেছেন। ইঙ্গলথর্প নির্বিকারভাবে বলল ওরা ভুল করেছে।
পুরো ব্যাপারটা আমার কাছে হেঁয়ালির মত মনে হতে লাগল। পোয়ারোর দিকে তাকিয়ে দেখলাম তার মুখে একটা অদ্ভুত হাসির ঝিলিক দেখা যাচ্ছে।
করোনোর জিজ্ঞাসাবাদ চালাতে লাগলেন। তিনি জানতে চাইলেন মিসেস ইঙ্গলথর্প তার মৃত্যুকালে যে দুটো কথা বলেছিলেন সে সম্বন্ধে মিঃ ইঙ্গলথর্পের মতামত কি।
ইঙ্গলথর্পপ বললেন সেই সময় ঘরে খুবই কম আলো ছিল। ডাঃ বরস্টিনের চেহারার সঙ্গে তার চেহারার যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে অর্থাৎ বরস্টিনের মত তার মুখে দাড়ি রয়েছে। সেই অল্প আলোতে মিসেস ইঙ্গলথর্প ডাঃ বরস্টিনকেই মিঃ ইঙ্গলথর্প বলে মনে করেছিলেন।
পোয়ারো অস্ফুট স্বরে স্বগতোক্তি করে বলল যে মিঃ ইঙ্গলথর্প বেশ ভালোই বলেছেন।
ইঙ্গলথর্প বলতে লাগলেন সকলে তার স্ত্রীর শেষ সময়ের কথাকে দোষারোপ বলে কেন ভাবছেন। তার মতে তার স্ত্রী আসলে তাকে কিছু অনুরোধ করতে চেয়েছিল।
করোনার এক মুহূর্ত চিন্তা করলেন। তারপর বললেন তাদের বিশ্বাস মিঃ ইঙ্গলথর্প নিজেই তার স্ত্রীর জন্যে কফি ঢেলে নিয়ে গিয়েছিলেন।
মিঃ ইঙ্গলথর্প জানালেন কফিটা তিনিই ঢেলেছিলেন, কিন্তু তিনি নিয়ে যেতে পারেননি, কারণ এক বন্ধু সেই সময় তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন, পরে যখন তিনি ফিরে আসেন তখন আর কাপটাকে টেবিলের ওপর দেখতে পাননি।
কথাটা সত্যি কিনা বুঝতে পারলাম না। ইঙ্গলথর্পের এতে কতটা সুবিধা হল তাও বুঝলাম না কারণ কফিতে বিষ মেশানোর যথেষ্ট সুযোগ উনি পেয়েছিলেন।
হঠাৎ পোয়ারোর ধাক্কা খেয়ে চমকে গেলাম, পোয়ারো দরজার কাছে বসে থাকা দুজন মানুষের দিকে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করলো। দুজনের মধ্যে একজন বেশ দীর্ঘ, সুপুরুষ আর অন্যজন ছোটোখাটো বুদ্ধিদীপ্ত।
আমি ফিসফিস করে পোয়ারোকে জিজ্ঞাসা করলাম যে ওরা কারা। আমার কানে প্রায় মুখ ঠেকিয়ে পোয়ারো বলল ঐ ছোটখাটো মানুষ হল স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের ডিটেকটিভ ইনসপেক্টর জিমি জ্যাপ। অন্যজনও ইয়ার্ডেরই লোক।
০৭. তদন্তের কাজ শেষ
তদন্তের কাজ শেষ হয়ে গেলে পোয়ারো আর আমি বাইরে বেরিয়ে আসতেই পোয়ারো আমার হাত ধরে একপাশে টেনে নিল। ওর উদ্দেশ্যে বুঝতে অসুবিধা হল না, স্কটল্যাণ্ডের ইয়ার্ডের দুজন প্রতিনিধির জন্যই পোয়ারো অপেক্ষা করতে চায়।
একটু পরে ওরা দুজন এলেই পোয়ারো ছোটোখাটো চেহারার লোকটিকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল তিনি পোয়ারোকে চিনতে পারছেন কিনা। ইনসপেক্টর তাকে দেখেই উৎফুল্ল হয়ে উঠলেন। তার সঙ্গীর সাথেও তিনি পোয়ারোর পরিচয় করিয়ে দিলেন। তারা দুজনে পুরনো স্মৃতিচারণ করতে লাগলেন। কবে তারা কোথায় একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। কোথায় জাল করার রহস্য উদঘাটন করেছিলেন। সব ক্ষেত্রেই যে পোয়ারোর কৃতিত্ব ছিল সেকথাও তিনি অকপটে স্বীকার করলেন।
দুই বন্ধুর অতীত স্মৃতিচারণ শুনতে শুনতে একটু এগিয়ে আসতেই পোয়ারো আর ইসপেক্টর পরিচয়ের পালাটা চুকিয়ে নিলেন। ইনসপেক্টর জ্যাপের সঙ্গীর পরিচয় পেলাম তিনি সুপারিনটডেন্ট সামারহে।
পোয়ারো তাদের এখানে আসার কারণটা কি বেশ হাল্কাভাবেই জানতে চাইল।
জ্যাপ চোখ টিপে বললেন এই মামলার জন্যই তাদের এখানে আসা। তার মানে মামলাটা খুবই সহজ। পোয়ারো গম্ভীর গলায় বলল তার কিন্তু তা মনে হয় না।
সামারহে বলল ব্যাপারটাকে কঠিন মনে হওয়ার কোনো কারণ নেই, মিঃ ইঙ্গলথর্প তো হাতেনাতে ধরা পড়ে গেছেন।
জ্যাপ পোয়ারোর দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকালেন। তারপর সামারহেকেপ করতে বলে বললেন, যে এসব ব্যাপারে পোয়ারোর চেয়ে আর কেউ ভালো বোঝে না। তিনি পোয়ারোর ধারণা কি জানতে চাইলেন।
পোয়ারোর মুখে মৃদু হাসি খেলে গেল, জ্যাপ পোয়ারোকে বলতে লাগলেন তারা যা কিছু দেখছেন সবই বাইরে থেকে, কিন্তু পোয়ারো ঘটনাস্থলে থাকার জন্য অনেক সুবিধা পেয়েছেন। জ্যাপ জিজ্ঞাসা করলেন পোয়ারো কিছু সূত্র পেয়েছেন কিনা। আর একথাও স্বীকার করলেন তদন্তের সময় যা শুনেছেন তাতে পোয়ারো ছাড়া অন্য কেউ বললে বিশ্বাসই করতেন না যে মিঃ ইঙ্গলথর্প তার স্ত্রীকে খুন করেছেন। তিনি অবাক হয়েছেন একথা ভেবে যে জুরীরা কেন ওকেই খুনী বলে সাব্যস্ত করল না।
পোয়ারো জানতে চাইলেন তারা গ্রেপ্তারী পরোয়ানা নিয়ে এসেছেন কিনা।
জ্যাপ ঠিকমতো উত্তর দিলেন না, বললেন পোয়ারো যা হোক কিছু ভেবে নিতে পারে। পোয়ারো ব্যাগ্র কণ্ঠে বলে উঠল তার মতে এখন গ্রেপ্তারটা মুলতুবী রাখাই ভালো। সামারহে দৃঢ় কণ্ঠে বললেন তা সম্ভব নয়।
