এর বেশি কিছু মেরী জানেন কিনা করোনার জিজ্ঞাসা করল। মেরী জানাল এর চেয়ে বেশি কিছু তারা জানা নেই।
প্রশ্নোত্তর শেষ হয়ে গেলেও আমার মনে হল, করোনার ওর সাক্ষ্যে খুব একটা সন্তুষ্ট হননি। হয়ত তার ধারণা মেরী ক্যাভেণ্ডিস অনেক কিছু গোপন করেছেন।
এরপর দোকান কর্মচারী অ্যামি হিল সাক্ষী দিতে এল। ওর সাক্ষ্যে জানা গেল, ১৭ই বিকালে স্টাইলসের মালী উইলিয়াম আর্লকে ও একটা ছাপানো উইলের ফর্ম বিক্রি করেছিল।
এবার উইলিয়াম ও ম্যানিং সাক্ষ্য দিতে এল। ওরা জানাল সেদিন একটা উইলে সাক্ষী হিসাবে তারা সই দিয়েছিল। সে সময় ছিল প্রায় বিকাল সাড়ে চারটে।
সিনথিয়া মারডকের ডাক পড়ল। সিনথিয়া অবশ্য কিছুই জানতে পারল না কারণ মেরী ক্যাভেণ্ডিস ওকে জাগানোর আগে পর্যন্ত দুর্ঘটনার কথা সে কিছুই জানতে পারেনি।
অতঃপর করোনার সিনথিয়াকে বিদায় দিলেন।
এবার ডাক এল ইভিলিন হাওয়ার্ডের।
মিস হাওয়ার্ড মিসেস ইঙ্গলথর্পের ১৭ তারিখের লেখা চিঠি দাখিল করলেন। চিঠিটা আমি আর পোয়ারো আগেই দেখেছিলাম। চিঠিটা এই রকম ছিল :
স্টাইলস কোর্ট
এসেক্স
১৭ জুলাই
প্রিয় ইভিলিন,
ঝগড়াটা কি মেটানো যায় না? আমার প্রিয় স্বামীর সম্বন্ধে তুমি যা বলেছে, তা অবশ্য ভুলে যাওয়া অসম্ভব আমার পক্ষে, বয়স হয়ে গেছে তো…তবুও তোমাকে ভালোবাসি।
তোমারই একান্ত
এমিলি ইঙ্গলথর্প।
জুরীরা মনোযোগ সহকারে চিঠিটা দেখলেন।
করোনার একটু হতাশ হয়ে বললেন এই চিঠি থেকে এমন কিছুই জানা গেল না যা সমস্যা সমাধানের সহায়ক হতে পারে।
মিস হাওয়ার্ড বলতে লাগলেন বেচারী এমিলি বুঝতে পেরেছিলেন ওকে বোকা বানানো হয়েছিল। করোনার বললেন চিঠিতে তো এরকম কোনো কথা নেই। ইভি উত্তরে বললেন এমিলি পছন্দ করতেন না বলেই চিঠিতে সেরকম কিছু লেখা ছিল না। তিনি বললেন এমিলি নাকি চাইছিলেন তিনি ফিরে আসুন। কিন্তু এমিলি নিজের ভুল স্বীকার করতে চাননি।
আমি লক্ষ্য করলাম করোনার, মিঃ ওয়েলস, আর অন্যান্য জুরীরা একটু মৃদু হাসলেন। মিস হাওয়ার্ডের চরিত্র ওরা সকলেই বুঝে নিয়েছেন।
করোনার এবার মিস হাওয়ার্ডকে বিদায় জানালেন।
এরপরই সবচেয়ে উত্তেজনার ব্যাপার ঘটল যখন করোনার ওষুধের দোকানের কর্মচারী অ্যালবার্ট মেসকে সাক্ষ্য দিতে ডাকলেন।
মেস শুকনো মুখে এসে দাঁড়াল। করোনারের প্রশ্নের উত্তরে জানাল যে সে একজন যোগ্য ওষুধ প্রস্তুতকারক। তবে ঐ দোকানে সে নতুন এসেছেন আগের কর্মচারী যুদ্ধে চলে যাওয়ার জন্য।
দু-একটা সাধারণ কথাবার্তার পর করোনার জানতে চাইলেন মেস কয়েকদিনের মধ্যে কারও কাছে স্ত্রিকনিন বিক্রি করেছিলেন কিনা। মেস মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল। করোনার জানতে চাইলেন কবে সে বিক্রি করেছে। মেস জানাল সোমবার ১৬ তারিখে সে স্ট্রিকনিন বিক্রি করে। করোনার এবার জানতে চান সে কাকে বিক্রি করেছে।
সারা ঘর নির্বাক নিস্তব্ধ হয়ে সাক্ষীর দিকে তাকিয়ে আছে। মেস জানাল সে মিঃ ইঙ্গলথর্পকে স্ট্রিকনিন বিক্রি করেছিল।
ঘরের সকলের নজর গিয়ে পড়ল এক পাশে বসে থাকা অ্যালফ্রেড ইঙ্গলথর্পের ওপর। কিন্তু লোকটার কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। শুধু নিথরভাবে একবার মেসের মুখের দিকে তাকিয়েছিল যখন মেস তার নাম বলছিল। আমি ভেবেছিলাম লোকটা হয়ত তীব্র প্রতিবাদ করবে, কিন্তু সেরকম কিছুই হল না–মুখে শুধু একটা বিস্ময়ের ঝিলিক খেলে গেল।
করোনার মেসকে তীব্র স্বরে প্রশ্ন করল সে এইভাবে যখন তখন স্ত্রিকনিন বিক্রি করে নাকি। মেস প্রশ্নটা শুনে বেশ ঘাবড়ে গেল, তবু তাড়াতাড়ি বলে উঠল মিঃ ইঙ্গলথর্প একটা কুকুর মারার জন্য বিষটা চেয়েছিলেন বলে সে বিক্রি করেছিল।
করোনার আবার প্রশ্ন করলেন সে বিষ কিনলে একটা খাতায় সই করতে হয় কিনা, মেস তাড়াতাড়ি খাতাটা বের করে দেখাল। করোনার তাকে ভবিষ্যতের জন্য সাবধান করে বিদায় দিলেন।
এরপর ডাক পড়ল অ্যালফ্রেড ইঙ্গলথর্পের। লোকটাকে অদ্ভুত সংযত দেখাল। করোনারের সোজাসুজি আক্রমণের উত্তরে অ্যালফ্রেড ইঙ্গলথর্প জানালেন তিনি বিষ কেনেননি, স্টাইলসে কোনোও কুকুর নেই, শুধু বাইরে একটা ছোট কুকুর বহাল তবিয়তেই আছে।
করোনোর সই করা খাতাটা সামনে বাড়িয়ে ধরে মিঃ ইঙ্গলথর্পকে জিজ্ঞাসা করলেন তিনি এই সইটা অস্বীকার করতে চাইছেন কিনা।
মিঃ ইঙ্গলথর্প বললেন ঐ হাতের লেখাটা তার নয়। তিনি পকেট থেকে একটা পুরনো খাম বের করে নিজের নাম সই করে জুরীদের সামনে ধরলেন। সত্যিই লেখা দুটোর মধ্যে কোনো মিল দেখা গেল না।
করোনোর মিঃ ইঙ্গলথর্পকে জিজ্ঞাসা করলেন তাহলে মিঃ মেসের সাক্ষ্য সম্বন্ধে তার বক্তব্য কি? মিঃ ইঙ্গলথর্প শান্ত কণ্ঠে বললেন, মিঃ মেস ভুল করেছেন।
এবার একটু ইতস্ততঃ করে করোনার জানতে চাইলেন সোমবার ১৬ তারিখে সন্ধ্যাবেলায় মিঃ ইঙ্গলথর্প কোথায় ছিলেন? ইঙ্গলথর্প বললেন তাঁর মনে পড়ছে না। করোনার তাকে ভালোভাবে ভাবতে বললেন। ইঙ্গলথর্প মাথা নেড়ে জানালেন তার যতদূর মনে পড়ছে সম্ভবত তিনি কোথাও বেড়াচ্ছেন। করোনার গম্ভীরভাবে জানতে চাইলেন ইঙ্গলথর্প কোনো দিকে বেড়াচ্ছিলেন, তার সঙ্গে কেউ ছিল কিনা। ইঙ্গলথর্প জানালেন তিনি একাই ছিলেন তবে কোথায় ছিলেন তার মনে পড়ছে না।
