ডাঃ বরস্টিন বললেন কফির কাপটা সম্পূর্ণ গুড়ো হয়ে যাওয়ায় ঐ কাপের তলানি বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়নি।
ডাঃ বরস্টিনের সাক্ষ্য দেওয়া শেষ হলে ডাঃ উইলকিন্স এলেন। তিনি ডাঃ বরস্টিনের কথাগুলোরই পুনরাবৃত্তি করলেন।
মিসেস ইঙ্গলথর্প আত্মহত্যা করতে পারেন কিনা প্রশ্ন করা হলে ডাঃ উইলকিন্স দৃঢ়তার সঙ্গে সে কথা অস্বীকার করে বললেন, মৃতা মিসেস ইঙ্গলথর্পের হার্ট একটু দুর্বল থাকলেও অন্যদিক দিয়ে তার স্বাস্থ্য বেশ ভালোই ছিল, মানসিক প্রফুল্লতারও কোনো অভাব ছিল না। তাই এসব বিবেচনা করেই বলা যায় আত্মহত্যা করার মত মহিলা উনি ছিলেন না।
এরপর সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য লরেন্স ক্যাভেণ্ডিসের ডাক পড়ল। লরেন্সের সাক্ষ্য জনের সাক্ষ্যেরই পুনরাবৃত্তি। তবে লরেন্স চলে আসার সময় একটু ইতস্ততঃ করে করোনারকে বলল তার ধারণা তার মার মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে, অবশ্য তার ধারণা ভুলও হতে পারে।
করোনার গভীরভাবে জানতে চাইলেন তার এরকম মনে হওয়ার কারণ কি।
লরেন্স বলল তার মা মারা যাওয়ার কিছুদিন আগে থেকেই একটা টনিক খাচ্ছিলেন, যাতে স্ট্রিকনিন থাকত।
করোনার একথা শুনে বিস্মিত হলেন। জুরীরাও নড়েচড়ে বসল।
লরেন্স বলে যেতে লাগল, সে শুনেছে এরকম ওষুধ ক্রমাগত ব্যবহার করার ফলে কখনও কখনও মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। তার মা হয়ত সেদিন ঐ ওষুধ একটু বেশি মাত্রায় খেয়ে ফেলেছিলেন ভুল করে।
করোনার বললেন তারা এই প্রথম জানতে পারলেন যে মিসেস ইঙ্গলথর্প স্ক্রিকনিন খেতে অভ্যস্ত ছিলেন। এই সূত্রটি জানানোর জন্য তারা লরেন্সের কাছে কৃতজ্ঞ।
এরপর ডাঃ উইলকিন্সকে করোনার আবার আহ্বান করলেন। তিনি ব্যাপারটা শুনেই উড়িয়ে দিলেন, বললেন মিঃ ক্যাভেণ্ডিসের কথাটা একেবারে অসম্ভব। স্ত্রিকনিন এক হিসাবে একটু ক্ষতিকারক বিষ, তবে ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করলে এতে হঠাৎ মৃত্যু ঘটার কোনো কারণ নেই। এটা দীর্ঘদিন ধরে অতি মাত্রায় ব্যবহার করতে থাকলে নানা উপসর্গ দেখা দিতে বাধ্য। কিন্তু মিসেস ইঙ্গলথর্পের ক্ষেত্রে এরকম হলে তার নিশ্চয়ই নজরে আসত।
করোনার প্রশ্ন করলেন মিসেস ইঙ্গলথর্প যদি অতিমাত্রায় ঐ টনিক গ্রহণ করে থাকেন তাহলে কি হতে পারে?
ডঃ উইলকিন্স জানালেন, তিন-চার দাগ ওষুধ খেলেও মৃত্যু ঘটার সম্ভাবনা নেই। মিসেস ইঙ্গলথর্প প্রত্যেবার বেশি করেই ঐ ওষুধ তৈরি করে আনতেন ট্যাডমিনস্টারের কুটসের ওষুধের দোকান থেকে। দেহে ময়না তদন্তের সময় যে পরিমাণ স্ট্রিকনিন পাওয়া গেছে সেটা পেতে হলে পুরো বোতলের ওষুধ একেবারে খাওয়ার কথা, যা একেবারেই অবাস্তব।
একজন জুরী জিজ্ঞাসা করলেন ওষুধের দোকানের কোনো কর্মচারী ভুল করতে পারে কি না। ডাঃ উইলকিন্স বললেন সেটা হলেও হতে পারে।
কিন্তু এরপরেই ডরকাসের সাক্ষ্য শুনে ঐ সম্ভাবনা বাতিল করে দিতে হল। ডরকাস জানাল ওষুধটা নতুন তৈরি করা হয়নি, বেশ কিছুদিন ধরেই মিসেস ইঙ্গলথর্প সেটা খাচ্ছিলেন। মারা যাওয়ার দিন শেষ দাগটা খেয়েছিলেন।
শেষ পর্যন্ত অবশ্য ওষুধের ব্যাপারটা বাতিল করতে হল। করোনার অন্যান্য সাক্ষ্য গ্রহণ করতে শুরু করলেন। ডরকাস জানাল দুর্ঘটনার দিন কিভাবে মিসেস ইঙ্গলথর্প ঘন্টা বাজালে ডরকাস বাড়ির সকলকে ডেকে তোলে।
এরপর মেরী ক্যাভেণ্ডিসকে সাক্ষী দিতে ডাকা হল। বেশ ঋজু ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে শান্তভাবে সাক্ষ্য দিতে লাগলেন তিনি। করোনারের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানালেন কিভাবে রাত সাড়ে চারটের সময় ঘড়ির অ্যালার্ম শুনে তিনি উঠে পড়েন তারপর হঠাৎ একটা ভারী কিছু পড়ার শব্দ পান।
করোনার বললেন সম্ভবতঃ খাটের পাশের টেবিলটা পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে থাকতেন।
মেরী ক্যাভেণ্ডিসের ঘন্টার শব্দ শোনার পর কি কি হয়েছিল বলতে লাগলে করোনার বললেন সে সব কথা তো জানা হয়ে গেছে। তারা শুধু আগের দিনের ঝগড়ার সম্বন্ধে জানতে চান।
মেরী ক্যাভেণ্ডিস অবাক হয়ে বললেন তিনি এ ব্যাপারে কি বলবেন। তার কণ্ঠস্বর একটু উদ্ধত শোনাল।
করোনার আবার বলতে লাগলেন মেরীকে একথা জিজ্ঞাসা করার পেছনে একটা কারণ আছে। তিনি শুনেছেন মেরী ঐ সময় ছোট ঘরের বড় জানলার পাশে একটা বেঞ্চে বসে বই পড়ছিলেন।
মেরী বলতে বাধ্য হলেন যে তিনি ওখানে বসেছিলেন। করোনার প্রশ্ন করলেন ঘরের জানালাটা নিশ্চয়ই খোলা ছিল।
ফ্যাকাশে মুখে মেরী স্বীকার করতে বাধ্য হলেন যে জানলা খোলা ছিল।
করোনার এবার প্রশ্ন করলেন তাহলে নিশ্চয়ই ঘরের ভেতরের কথাবার্তা তিনি শুনতে পেয়েছিলেন।
মেরী বললেন কোনো কথা তার কানে আসেনি তা নয়, তবে পরের গোপনীয় কথা শোনার অভ্যেস তার নেই। মেরীর মুখটা সামান্য লাল হয়ে উঠল।
করোনার মেরীকে যা শুনেছেন তা বলার জন্য চাপ দিলেন।
মেরীর দিকে তাকিয়ে মনে হল তিনি যেন কিছু চিন্তা করছেন। বাইরের শান্ত ভাবটা অবশ্য বজায় রাখছে। একটু পরে তিনি বললেন তার মনে পড়েছে। মিসেস ইঙ্গলথর্প স্বামী-স্ত্রীর কলঙ্ক বা এরকম ধরনের কোনো কথা বলছিলেন।
করোনারকে সন্তুষ্ট মনে হল। তিনি এবার বললেন মেরী যখন বুঝলেন ব্যাপারটা স্বামী-স্ত্রীর গোপনীয় কিছু তখন তিনি সেখান থেকে সরে গেলেন না কেন?
মেরী ক্যাভেণ্ডিসের চোখে মনে হল যেন একটু ঝিলিক খেল গেল। এই প্রশ্নটা শুনে করোনারের প্রতি যে একটা ক্রোধ ফুটে উঠছে তা বুঝতে অসুবিধা হল না। তবুও বেশ শান্ত স্বরেই মেরী বললেন তিনি সরে যাননি কারণ সেখানে বসে থাকতে ভালো লাগছিল, তবে মনটা তার বইয়ের মধ্যেই ছিল।
