এবার জন মিঃ ওয়েলসের সঙ্গে মিঃ ইঙ্গলথর্পের কাগজপত্র দেখা যায় কিনা এ ব্যাপারে আলোচনা করতে লাগল।
একটু পরে জন পোয়ারোর কাছে এগিয়ে এল, জিজ্ঞাসা করল আমরা তার সঙ্গে যাব কিনা, তার মার কাগজপত্রগুলো দেখার জন্য। ওগুলো মিঃ ইঙ্গলথর্প তার হাতে ছেড়ে দিয়েছেন।
জন আরো বলল, ছোট ঘরটা দেখে তারপরে তার মার ঘরে যাবে। মিসেস ইঙ্গলথর্পের গোলাপী নথিপত্রের ব্যাগটা ভাল করে দেখতে হবে বলে সে জানাল, কারণ তার মা সবসময় দরকারী কাগজপত্র ঐ ব্যাগে রাখতেন।
মিঃ ওয়েলস হাল্কাভাবে বললেন ব্যাগের মধ্যে একটা নতুন উইল থাকতেও পারে।
পোয়ারো হঠাৎ বলে উঠল একটা নতুন উইল ব্যাগে আছে। আমরা সবাই চমকে উঠলাম। পোয়ারো তাড়াতাড়ি বলল একটা উইল ছিল বলা যেতে পারে। জন জিজ্ঞাসা করল ছিল মানে কি, এখন তাহলে সেটা কোথায় গেল। পোয়ারো বলল পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে, মিঃ ওয়েলস বললে একথা পোয়ারো কি করে বলছেন।
পোয়ারো তার পকেট থেকে মিসেস ইঙ্গলথর্পের ঘরের তাপচুল্লীর মধ্যে থেকে পাওয়া সেই আধপোড়া কাগজের টুকরোটটা তুলে ধরল, সামান্য কথায় ব্যাপারটা বুঝিয়ে দিল।
মিঃ ওয়েলস বললেন এটা তো পুরানো উইলও হতে পারে। পোয়ারো বলল সে এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে গতকাল বিকালেই এই উইলটা লেখা হয়েছিল।
জন ও আইনজ্ঞ ভদ্রলোক দুজনেই একসঙ্গে অসম্ভব বলে চিৎকার করে উঠল।
পোয়ারো জনের দিকে তাকিয়ে বলল সে যদি তার মালীকে ডেকে পাঠায় তাহলে এই মুহূর্তে ব্যাপারটির সত্যতা প্রমাণিত হয়ে যাবে।
জন ঘণ্টা বাজালো, ডরকাস সাড়া দিতেই জন তাকে মালী ম্যানিংকে ডেকে দিতে বলল। ডরকাস চলে যেতেই আমরা চুপচাপ বসে রইলাম। পোয়ারোকে বেশ উৎফুল্ল দেখাচ্ছিল। সে নিজের মনে একটা বইয়ের তাকের ধুলো ঝাড়তে লাগল।
একটু পরেই ভারী জুতোর শব্দ শোনা গেল দরজার বাইরে। জন ম্যানিংকে ভেতরে ডাকল।
ম্যানিং ধীরে ধীরে ঘরের মধ্যে এসে দাঁড়াল। ওর পিঠটা একটু যেন ঝুঁকে পড়েছে তবে দেখে মনে হয় তেমন কিছু বয়স হয়নি। ওর চোখ দুটো বেশ বুদ্ধিদীপ্ত বলে মনে হল।
জন ম্যানিংকে বলল যে পোয়ারো তাকে কিছু প্রশ্ন করবেন, সে যেন সেগুলির ঠিকমত উত্তর দেয়। ম্যানিং মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।
পোয়ারো পায়ে পায়ে ম্যানিং-এর সামনে এগিয়ে গেল। সে প্রশ্ন করল গতকাল বিকালে বাড়ির দক্ষিণ দিকের বাগানে ফুলগাছগুলো ম্যানিং বসাচ্ছিল কিনা।
ম্যানিং জানাল সে আর উইলিয়াম দুজনে মিলে করছিল।
পোয়ারো এবার জিজ্ঞাসা করল, মিসেস ইঙ্গলথর্প কি তখনই তাদের জানলায় এসে ডাকেন, ম্যানিং মাথা নেড়ে সায় জানাল।
এরপর কি হয়েছিল পোয়ারো জানতে চাইল। ম্যানিং বলল মিসেস ইঙ্গলথর্প উইলিয়ামকে সাইকেল করে গ্রাম থেকে একটা উইলের কাগজ না কি যেন আনতে বলেছিলেন। উইলিয়াম ওটা নিয়ে ফিরে আসার পর তারা আবার গাছ লাগাতে থাকে।
পোয়ারো প্রশ্ন করল তারপর মিসেস মিসেস ইঙ্গলথর্প আর তাদের ডেকেছেন কিনা। ম্যানিং বলল যে তিনি তাদের ডেকে একটা কাগজে সই করতে বলেছিলেন। এবং তারা দুজনে মিসেস ইঙ্গলথর্পের সইয়ের নিচে সই করেছিল।
এবার পোয়ারো কড়া সুরে জিজ্ঞাসা করল কাগজটাতে কি লেখা ছিল তা কি সে দেখেছে। ম্যানিং জানাল লেখাটার ওপর একটা ব্লটিং চাপা দেওয়া ছিল।
পোয়ারো জানতে চাইল ম্যানিং কি দেখেছে এরপর মিসেস ইঙ্গলথর্প ঐ কাগজটা নিয়ে কি করেছিলেন? ম্যানিং বলল মিসেস ইঙ্গলথর্প কাগজটা একটা খামে ভরে গোলাপী একটা ব্যাগের মধ্যে রেখেছিলেন, যেটা ঐ ডেস্কের ওপর ছিল।
পোয়ারো প্রশ্ন করল মিসেস ইঙ্গলথর্প প্রথমে কটার সময় তাদের ডেকেছিলেন। ম্যানিং জানাল প্রায় বিকাল চারটের সময়। পোয়ারো তাকে বলল সে এবার চলে যেতে পারে। ম্যানিং মাথায় হাত ঠেকিয়ে ধীরে ধীরে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
আমরা পরস্পরের মুখের দিকে তাকালাম। জন বলে উঠল এ এক অদ্ভুত সমাপতন। মিঃ ওয়েলস জনকে জিজ্ঞাসা করল সে কেন এরকম বলছে। জন বলল এছাড়া আর কিই বা বলা যায়, কারণ মারা যাওয়ার দিনই কেন মিসেস ইঙ্গলথর্প উইলটা করলেন।
মিঃ ওয়েলস এবার জিজ্ঞাসা করলেন গতকাল বিকালে মিসেস ইঙ্গলথর্পের সঙ্গে কার ঝগড়া হয়েছিল। জন কাঁপা কাঁপা গলায় বলে উঠল মিঃ ওয়েলস কি জানতে চাইছেন। জনের মুখটা খুব ফ্যাকাসে দেখাল।
মিঃ ওয়েলস বলতে লাগলেন যে ঐ ঝগড়ার পরেই মিসেস ইঙ্গলথর্প খুব তাড়াতাড়ি একটা নতুন উইল করেছিলেন। যদিও সেই উইলে কি লেখা ছিল তা আর কোনোদিনই জানতে পারা যাবে না।
জন মিঃ ওয়েলসের কথার কোনো উত্তর দিল না। সে পোয়ারোকে বলতে লাগল যে সে তার কাছে কৃতজ্ঞ কারণ পোয়ারো না বললে ঐ দ্বিতীয় উইলটার কথা অজানা থেকে যেত। পোয়ারো কিভাবে ঐ উইলটা সম্বন্ধে সন্দেহ করল জন সেকথা জানতে চাইল।
মৃদু হেসে পোয়ারো বলল। একটা পুরনো খামের অংশ আর নতুন বসানো ফুলগাছ দেখে তার মনে সন্দেহ হয়।
জনের বোধ হয় আরও কিছু জানার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই একটা মোটরগাড়ির শব্দ শুনে আমরা জানলার দিকে তাকালাম। দেখলাম গাড়ি থেকে মিস ইভি হাওয়ার্ড নামছেন।
জন একপ্রকার ছুটেই ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। পোয়ারো হতচকিত হয়ে আমার দিকে জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে তাকাল। আমি বললাম মিস হাওয়ার্ড এসেছেন, ইনি হলেন এমন একজন যার কিছু বুদ্ধি বিবেচনা আছে, এবার একটু নিশ্চিত হওয়া যাবে।
