মেরী ক্যাভেণ্ডিস টেবিলের ধারে হাত দুটো ঝুলিয়ে বসেছিলেন, মুখে কোনো কথা নেই, যেন একেবারে প্রতিমা।
সিনথিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখলাম ওকে বেশ অবসাদগ্রস্ত বলে মনে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ওকে জিজ্ঞাসাই করে ফেললাম ও কি অসুস্থ বোধ করছে। সিনথিয়া জানাল তার ভীষণ মাথা ধরেছে।
পোয়ারো তাড়াতাড়ি আর এক কাপ কফি নিয়ে সিনথিয়ার সামনে ধরে বলল, মাথা ধরার এমন সুন্দর ওষুধ আর নেই। পোয়ারো কাপে চিনি দিতে যেতেই সিনথিয়া বলে উঠল সে কফিতে চিনি খায় না।
কথাটা শুনে পোয়ারোকে বেশ চিন্তিত দেখাল। ওর চোখ দুটো চাপা উত্তেজনায় জ্বলজ্বল করছে।
এমন সময় ঘরে ঢুকলো ডরকাস। জনের দিকে তাকিয়ে বলল মিঃ ওয়েলস তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন, নামটা শুনেই মনে পড়ল ভদ্রলোক হলেন সেই আইনজ্ঞ যাঁকে মিসেস ইঙ্গলথর্প গতরাত্রে চিঠি লিখেছিলেন।
ডরকাসকে জন তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়িয়ে বলল ওঁকে তার পড়বার ঘরে নিয়ে যেতে।
ডরকাস চলে যেতেই জন আমাদের দিকে তাকিয়ে বলল মিঃ ওয়েলস তার মায়ের আইনজ্ঞ। পোয়ারোকে সে তার সঙ্গে যাবার জন্য অনুরোধ করল।
সকলে একসাথে এগিয়ে যেতে যেতে পোয়ারোর কানে কানে বললাম যে তাহলে এবার একটা তদন্ত হচ্ছে।
পোয়ারো অন্যমনস্ক ভাবে মাথা নাড়ল। বুঝতে পারলাম কিছু একটা হয়েছে যার জন্য পোয়ারো বেশ চিন্তিত। আমি তার চিন্তার কারণটা জানতে চাইলাম। পোয়ারো বলল সিনথিয়া কফিতে চিনি খান না এটাই তার চিন্তার কারণ। আমি জিজ্ঞাসা করলাম সে কি আমার সঙ্গে ঠাট্টা করছে।
পোয়ারো জানাল ব্যাপারটা ঠাট্টার নয়। তার বারবার মনে হচ্ছে কফির কাপগুলো পরীক্ষা করা দরকার। কিন্তু তার পরক্ষণেই পোয়ারো একদম চুপ করে গেল।
জনের সঙ্গে আমরা পড়ার ঘরে ঢুকে পড়লাম, জন দরজাটা বন্ধ করে দিল।
মিঃ ওয়েলস মধ্যবয়স্ক ভদ্রলোক বেশ হাসিখুশি। দেখলেই বোঝা যায় উনি আইন ব্যবসায়ী।
জন তাকে বলল যে তিনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, এজন্য কোনো তদন্তের দরকার হয়ত হবে না। মিঃ ওয়েলস মাথা ঝাঁকিয়ে বললেন বাড়ির লোকেদের অসুবিধা হলেও কিছু করার নেই কারণ এক্ষেত্রে ডাক্তারী সার্টিফিকেট না থাকায় এছাড়া কোনো উপায় নেই, তদন্ত একটা করতেই হবে।
জন গম্ভীরভাবে জানতে চাইল তাদের সকলেই কি এ ব্যাপারে সাক্ষী দিতে হবে। মিঃ ওয়েলস জানালেন জনকে এবং মিঃ ইঙ্গলথর্পপকে সাক্ষী দিতে হবে। আর অন্যরা নিয়মরক্ষার জন্য যাবে।
জনের মুখ দেখে মনে হল তার মুখে একটা নিশ্চিত ভাব ফুটে উঠেছে।
মি ওয়েলেস বললেন জনদের যদি কোনো অসুবিধা না থাকে তাহলে শুক্রবারই তদন্ত করা যেতে পারে। আর ময়না তদন্ত সেদিন রাতেই হবে কিনা জিজ্ঞাসা করলেন।
জন মাথা নেড়ে সায় জানাল।
এতক্ষণ পরে পোয়ারো মুখ খুলল। সে মিঃ ওয়েলসকে জিজ্ঞাসা করল তিনি এই রহস্য সমাধানের ব্যাপারে কোনো সাহায্য করতে পারেন কিনা, মিঃ ওয়েলস অবাক হলেন।
পোয়ারো মিঃ ওয়েলসকে বললেন তিনি তো মিসেস ইঙ্গলথর্পের চিঠি পেয়েই এখানে এসেছেন, সুতরাং তিনি কোনো সূত্র জানেন কিনা, সেই কথাই পোয়ারো জানতে চাইছেন।
মিঃ ওয়েলস জানালেন তিনি সেদিন সকালেই চিঠি পেয়েছেন। চিঠিতে কোনো দরকারী কথা ছিল না, শুধু লেখা ছিল মিসেস ইঙ্গলথর্প একটা বিশেষ জরুরী ব্যাপারে তার পরামর্শ চান।
পোয়ারো সেই জরুরী ব্যাপারটা জানতে চাইল। মিঃ ওয়েলস বললেন সে ব্যাপারে চিঠিতে কিছু লেখা ছিল না।
জন বলল ব্যাপারটা অত্যন্ত দুঃখজনক, পোয়ারো গম্ভীরভাবে মাথা নাড়ল।
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে পোয়ারো মিঃ ওয়েলসেক বলল যদি তার ব্যবসায়ের নীতিবিরুদ্ধ না হয় তাহলে তার একটা জিজ্ঞাসা ছিল–মিসেস ইঙ্গলথর্পের মৃত্যুতে তার সম্পত্তির মালিকানা কার হাতে বর্তাবে।
পোয়ারোর প্রশ্ন শুনে মিঃ ওয়েলস একটা ইতস্ততঃ করলেন, তারপর জনের দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলেন একথা বললে জনের কোনো আপত্তি আছে কিনা। জন মাথা নেড়ে জানাল তার কোনো আপত্তি নেই।
মিঃ ওয়েলস বলতে শুরু করলেন। মিসেস ইঙ্গলথর্পের গত আগস্ট মাসের শেষ উইল অনুসারে, পরিচারিকাকে কিছু সামান্য অর্থদান করার পর বাকি সবই তার সৎ ছেলে জন ক্যাভেণ্ডিসের হবে।
পোয়ারো বলল এই উইলটা করে মিসেস ইঙ্গলথর্প তো লরেন্সের উপর অবিচার করলেন। মিঃ ওয়েলস জানালেন মিসেস ইঙ্গলথর্প জানতেন যে একমাত্র জনই স্টাইলসের সম্পত্তি রক্ষা করতে পারবে, সুতরাং তিনি যথার্থ উইলই করেছেন।
পোয়ারো চিন্তিত মুখে মাথা নেড়ে বলল, ইংল্যান্ডের আইন অনুসারে মিসেস ইঙ্গলথর্পের পুনর্বিবাহের ফলে তার আগের উইল এমনিই বাতিল হয়ে যাবে।
মিঃ ওয়েলস মাথা নেড়ে সায় দিলেন, বললেন আগের উইলের কোনো মূল্যই এখন আর নেই। পোয়ারো জিজ্ঞাসা করল মিসেস ইঙ্গলথর্প কি এ ব্যাপারটা সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল ছিলেন।
জন বলে উঠল মিসেস ইঙ্গলথর্প জানতেন যে পুনর্বিবাহের ফলে আগের উইল বাতিল হয়ে যায়। এই ব্যাপারেই গতকালই তারা আলোচনা করেছিল।
মিঃ ওয়েলস বলেছিলেন মিসেস ইঙ্গলথর্প তার শেষ উইলে জনকে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী করেছেন। সেজন্য পোয়ারো জানতে চাইলেন মিসেস ইঙ্গলথর্প কি আরো উইল করেছিলেন।
মিঃ ওয়েলস জানালেন, মিসেস ইঙ্গলথর্প প্রত্যেক বছরই একটা করে নতুন উইল করতেন এবং যাকে যখনই তাঁর ভালো লাগত তাকেই তখন উইল করে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী করে বসতেন।
