এরপর ডরকাস চলে গেল। আমি মুখ ফসকে জিজ্ঞাসা করে ফেললাম পোয়ারো কিভাবে জানল মিসেস ইঙ্গলথর্প ঘুমের ওষুধ খেতেন।
পোয়ারো আমার কথা শুনে একটা কার্ডবোর্ডের বাক্স বের করে দেখাল। আমি প্রশ্ন করলাম সে ওটা কোথায় পেল। পোয়ারো জানাল এটাই তার ছনম্বর সূত্র যা সে মুখ ধোয়ার বেসিনের কাছে পেয়েছে।
আমি বললাম ডরকাস কিন্তু জানিয়েছে মিসেস ইঙ্গলথর্প শেষ পুরিয়াটা দুদিন আগে খেয়েছিলেন। সেই অনুসারে ছনম্বর সূত্রটা মূল্যহীন।
পোয়ারো আমাকে বাক্সটা ভালো করে দেখতে বলল। আমি কিন্তু কোনো বিশেষত্ব খুঁজে পেলাম না। এই ব্যাপারটা পোয়ারো বুঝতে পেরে আমাকে লেবেলটা লক্ষ্য করতে বলল। পোয়ারোর কথামতো লেবেলটা ভালো করে দেখলাম, তাতে শুধু লেখা আছে প্রয়োজন অনুযায়ী ঘুমের আগে একটা পুরিয়া : মিসেস ইঙ্গলথর্প।ব্যাপারটা আমি তবুও কিছু বুঝতে পারলাম না।
পোয়ারো আমাকে বুঝিয়ে বলল ঐ বাক্সটার লেবেলে কোনো কেমিস্টের নাম নেই। কিন্তু কোনো কেমিস্ট কখন নামের লেবেল না দিয়ে বাক্স পাঠায় না।
ব্যাপারটা বুঝে আমি বশে উত্তেজনা অনুভব করলাম। পোয়ারো আমাকে চিন্তিত হতে বারণ করল।
এমন সময় পায়ের শব্দ শুনে তাকিয়ে দেখলাম অ্যানী এসে গেছে। অ্যানী বেশ অল্পবয়সী। দুর্ঘটনার জন্য তাকে বেশ উত্তেজিত মনে হল।
পোয়ারো দেরি না করে অ্যানীকে কয়েকটা প্রশ্ন করল। মিসেস ইঙ্গলথর্প গত রাত্রে কটা চিঠি লিখেছিলেন এবং সেগুলোর নাম ঠিকানা অ্যানী জানে কিনা পোয়ারো জিজ্ঞাসা করল।
একটু চিন্তা করে অ্যানী বলল মোট চারটে চিঠি ছিল, একটা মিস হাওয়ার্ডের নামে, একটা উকিল মিঃ ওয়েলসের নামে আরেকটা ট্যাডমিন, টারের খাবারওয়ালা রসের নামে। কিন্তু বাকি চিঠিটা কার নামে ছিল তা অনেক চিন্তা করেও অ্যানী মনে করতে পারল না।
পোয়ারো এবার দ্বিতীয় প্রশ্নটা করল, মিসেস ইঙ্গলথর্পের ঘরে একটা সসপ্যানে সে কিছু কোকো দেখেছে। সেজন্য তার জিজ্ঞাসা হল উনি কি রোজই কোকো খেতেন।
অ্যানী জানাল দুধ চিনি আর দুচামচ রাম মেশানো থাকত। সে-ই রোজ গিন্নিমার ঘরে সেটা পৌঁছে দিত। পোয়ারো জানতে চাইল কটার সময় অ্যানী এটা দিয়ে আসত। অ্যানী বলল জানালার পর্দাগুলো টেনে দেওয়ার সময়।
পোয়ারো এবার জিজ্ঞাসা করল সে কি রান্নাঘর থেকেই সোজা ওটা নিয়ে যেত? অ্যানী জানাল যে রান্নাঘরে গ্যাসচুল্লীর কাছে বেশি জায়গা নেই, তাই ঠাকুর ঐ কোকো আগে বানিয়ে রাখত। অ্যানী সেটা বাঁদিকের টেবিলে রেখে দিত। পরে সময়মত গিন্নিমার ঘরে দিয়ে আসত।
পোয়ারো প্রশ্ন করল গতরাত্রে কটার সময় সে কোকোটা টেবিলে রাখে। অ্যানী বলল প্রায় সওয়া সাতটার সময় টেবিলে রাখে আর আটটা নাগাদ মিসেস ইঙ্গলথর্পের ঘরে নিয়ে যায়।
এই কথাগুলো শুনে পোয়ারো সেগুলো পুনরাবৃত্তি করল। এই সময় অ্যানী হঠাৎ বলে উঠল সে কোকোর মধ্যে নুন মেশায়নি। পোয়ারো জিজ্ঞাসা করল অ্যানী কি করে জানল যে কোকোর মধ্যে নুন ছিল।
অ্যানী জানাল সে প্রথমে দেখেনি। ট্রেতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় তার নজরে পরে ট্রেতে নুন ছড়ানো রয়েছে। তখন সে ভেবেছিল আবার নতুন করে কোকোটা তৈরি করবে। কিন্তু অন্য কাজের চাপে সে ভুলে যায়।
কথাগুলো শুনে নিজেকে আর সংযত রাখতে পারছিলাম না। অ্যানী তার অজান্তেই একটা মারাত্মক সূত্র আমাদের জানিয়ে দিল। অ্যানী যেটাকে নুন বলে ভেবেছে আসলে সেটা যে স্ট্রিকনিন বিষ তা ওর জানা নেই।
পোয়ারোর দিকে তাকিয়ে তার শান্ত মূর্তি দেখে অবাক হলাম। তবে এটাই ওর স্বভাব, এই অবস্থায় ওর মনোভাব বোঝা কঠিন। সে এবার অ্যানীকে প্রশ্ন করল, অ্যানী যখন মিসেস ইঙ্গলথর্পের ঘরে ঢুকেছিল তখন কি মিস সিনথিয়ার ঘরের দরজাটা বন্ধ ছিল। অ্যানী জানাল ঐ দরজা কখনও ভোলা হত না।
সেই সময় মিঃ ইঙ্গলথর্পের ঘরের দরজাও বন্ধ ছিল কিনা পোয়ারো জানতে চাইল। একটু ইতস্ততঃ করে অ্যানী জানাল সে ঠিক লক্ষ্য করেনি তবে তার ধারণা দরজাটা ভেজানো ছিল।
পোয়ারো এবার জানতে চাইল অ্যানী ঘর থেকে বেরিয়ে আসার সময় মেঝেতে মোম পড়ে থাকতে দেখেছিল কিনা। অ্যানী জানাল মিসেস ইঙ্গলথর্পের কোনো মোমবাতি ছিল না, শুধু একটা ল্যাম্প ছিল।
এরপর পোয়ারো জানতে চাইল মিসেস ইঙ্গলথর্পের কোনো গাঢ় সবুজ রঙের পোশাক আছে কি না। অ্যানী জানাল এই রঙের কোনোও পোশাক নেই।
এরপর অ্যানী চলে যেতেই আমি পোয়ারোর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম। বলতে লাগলাম পোয়ারো একটা দারুণ বিষয় আবিষ্কার করেছে। বিষটা যে কফিতে নয় কোকোতে ছিল এটাই পোয়ারোর আবিষ্কার। প্রায় মধ্যরাতে যদি তিনি কোকোটা পান করে থাকেন তাহলে বিষের লক্ষণ এত দেরিতে হল কেন–এটা জিজ্ঞাস্য থেকে গেল।
পোয়ারো আমাকে জিজ্ঞাসা করল বিষটা যে স্ত্রিকনিন আমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত কিনা। আমি বললাম নিশ্চয়ই না হলে ট্রেতে নুনের মত ওগুলো কি ছিল। পোয়ারো বলল ওটা শুধুমাত্র নুনও হতে পারে।
পোয়ারোর স্বভাবের এই বৈশিষ্ট্যটি আমি অনেক চেষ্টা করেও বুঝতে পারিনি। এই সময় ওর সঙ্গে তর্ক করা বৃথা।
পোয়ারো এবার ওঠার জন্য প্রস্তুত হল। যাওয়ার আগে ডেস্কের কাছে গেল, মিসেস ইঙ্গলথর্পের চাবির গোছা দিয়ে অনেক চেষ্টা করে পোয়ারো খুলতে চাইল। শেষ পর্যন্ত এমনিতেই ওটা খুলে গেল। ডেস্কের ভেতরে সারিবদ্ধ কাগজ পরিচ্ছন্নভাবে গোছানো আছে। পোয়ারো এগুলো পরীক্ষা করল না দেখে অবাক হলাম। পোয়ারো ডেস্কের ঢাকনাটা বন্ধ করে দিল।
