একটা চেয়ার টেনে পোয়ারো বসে পড়ে ডরকাসকেও বসতে অনুরোধ করল। তারপরই প্রশ্নোত্তরের পালা শুরু হল। পোয়ারো ডরকাসকে জিজ্ঞাসা করল সে তো এই বাড়িতে অনেকদিন আছে তাই না। ডরকাস জানাল প্রায় দশ বছর ধরে সে এখানে আছে। পোয়ারো এবার বলল সে কতকগুলি প্রশ্নের সঠিক উত্তর চায় ডরকাস নিশ্চয়ই সেগুলি জানাবে। এবারে জন ক্যাভেণ্ডিস অনুমতি দিয়েছেন। ডরকাস সম্মতি জানাল।
পোয়ারো বলল প্রথমে সে গতকালের ঘটনার কথা জানতে চায়। মিসেস ইঙ্গলথর্পের সঙ্গে কারও ঝগড়া হয়েছিল কিনা সে কথা জানতে চাইল। ডরকাস একটু ইতস্ততঃ করতে লাগল। পোয়ারো তাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করল, বলল মিসেস ইঙ্গলথর্প তো আর ফিরে আসবেন না, কিন্তু কেউ যদি তাকে খুন করে থাকে সেই খুনীকে খুঁজে বের করে যথাযোগ্য শাস্তি দিতে হবে।
এই কথাগুলো শুনেই ডরকাসের মুখটা কঠিন হয়ে উঠল। সে জানাল এই বাড়িতে এমন একজন আছে যার সঙ্গে কারও বনিবনা নেই। উনি এই বাড়িতে আসার পর থেকেই সমস্ত অশান্তির সূত্রপাত।
পোয়ারো মন দিয়ে ডরকাসের কথাগুলো শুনতে লাগল। এবার সে ঝগড়ার ব্যাপারটা জানতে চাইল। ডরকাস বলতে লাগল বিকাল চারটে নাগাদ যখন সে বড় হলঘরটার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল তখন সে ঐ ঘরটায় চেঁচামেচি শুনে দাঁড়িয়ে পড়ে। তখন মিসেস ইঙ্গলথর্প মিঃ ইঙ্গলথর্পকে বলছিলেন তিনি তাকে মিথ্যা কথা বলে ঠকিয়েছেন। তাঁর নামে মিথ্যা দুর্নাম ছড়াচ্ছেন। মিঃ ইঙ্গলথর্প উত্তরে কি বলছিলেন তা শোনা যাচ্ছিল না। মিসেস ইঙ্গলথর্প আবার বলতে লাগলেন যে তিনি মনস্থির করেছেন তার কর্তব্য তিনি করবেন। স্বামী-স্ত্রী কলঙ্ক রটবার ভয়ে তিনি কখনই চুপ করে থাকবেন না।
এরপরেই পায়ের শব্দ শুনতে পেয়ে ডরকাস বুঝতে পারে ওঁরা বেরিয়ে আসছেন, তখন সে তাড়াতাড়ি ওখান থেকে সরে যায়।
পোয়ারো জিজ্ঞাসা করল মিসেস ইসলথর্প যে মিঃ ইঙ্গলথর্পের সঙ্গে কথা বলছিলেন এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই তো। ডরকাস জানান সে এ ব্যাপারে নিশ্চিত।
এরপর কী হল জানতে চাইলে ডরকাস। বলল বিকাল পাঁচটা নাগাদ মিসেস ইঙ্গলথর্প তাকে ডাকেন, সেই সময় তাকে খুব চিন্তিত দেখাচ্ছিল। ডরকাসকে তিনি বলতে থাকেন যে তিনি ভীষণ আঘাত পেয়েছেন। তার হাতে একটা কাগজ ছিল যাতে কিছু লেখা ছিল। লেখাটার দিকে তাকিয়ে উনি বলছিলেন শুধুমাত্র এই কথাগুলোর জন্যই সব পাল্টে গেল। একথাও বললেন যে পুরুষ জাতটা খুব বিশ্বাসঘাতক।
এমন সময় মিসেস ক্যাভেণ্ডিস এসে পড়ায় কথায় ছেদ পড়ল। পোয়ারো জিজ্ঞাসা করল সেই কাগজটার শেষ পর্যন্ত কী হল। ডরকাস বলল সে এ ব্যাপারে ঠিক জানে না, তবে তার ধারণা সেটা মিসেস ইঙ্গলথর্প তার গোলাপী হাতব্যাগে রেখেছিলেন।
পোয়ারো জানতে চাইল ঐ ব্যাগেই কি মিসেস ইঙ্গলথর্প তাঁর দরকারী কাগজপত্র রাখতেন। ডরকাস জানাল রোজ সকালে উনি সেটা সঙ্গে নিয়ে নামতেন আবার রাত্রে নিয়ে যেতেন। ঐটাতে সব দরকারী কাগজ থাকত।
পোয়ারো প্রশ্ন করল ঐ হাতব্যাগের চাবিটা উনি কবে হারিয়ে ফেলেছিলেন। ডরকাস বলল গতকাল দুপুরে খাওয়ার সময় ওটা হারিয়ে যায়। তারপর অনেক খোঁজাখুঁজি সত্ত্বেও সেটা পাওয়া যায়নি। পোয়ারো তাকে চিন্তা করতে বারণ করল। এরপর ওপরের ঘরে হাতব্যাগে লাগানো যে চাবিটা পোয়ারো পকেটে রেখেছিল সেটা বের করে ডরকাসকে দেখিয়ে জানতে চাইল এটাই সেই চাবি কিনা।
ডরকাস অবাক চোখে পোয়ারার হাতের চাবিটার দিকে তাকিয়ে জানাল এটাই সেই চাবি যা সে অনেক খুঁজেও পায়নি। পোয়ারো বলল চাবিটাতো ডরকাসের পাওয়ার কথা নয় কারণ চাবিটা যেখানে থেকে আজ পাওয়া গেল গতকাল সেখানে ছিল না।
এবার পোয়ারো জিজ্ঞাসা করল মিসেস ইঙ্গলথর্পের কি কোনো গাঢ় সবুজ রঙের পোশাক ছিল। ডরকাস জানাল যে ঐ রঙের কোনো পোশাক তার গিন্নিমার নেই। বাড়িতে অন্য কারও এরকম পোশাক আছে কিনা পোয়ারো জানতে চাইল। এর উত্তরে ডরকাস বলল সিনথিয়ার একটা পোশাক আছে যার রঙ হালকা সবুজ। এছাড়া অন্য কারও সবুজ রঙের পোশাক নেই।
পোয়ারো কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে প্রশ্ন করল মিসেস ইঙ্গলথর্প কি গতরাত্রে ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন। ডরকাস দৃঢ় স্বরে জানাল তার গিন্নি মা ওষুধ খাননি। পোয়ারো জিজ্ঞাসা করল সে এ ব্যাপারে নিশ্চিত কিনা। ডরকাস বলল দুদিন আগে মিসেস ইঙ্গলথর্প শেষ পুরিয়াটা খেয়েছিলেন, তারপর আর নতুন ওষুধ আনানো হয়নি। বাক্সটা তাই খালি ছিল।
পোয়ারো এরপর জিজ্ঞাসা করল গতকাল মিসেস ইসলথ ডরকাসকে দিয়ে কোনো কাগজে সই করিয়েছিলেন কিনা। ডরকাস বলল সেরকম কোনো ব্যাপার ঘটেনি। গত সন্ধ্যায় মিসেস ইঙ্গলথর্প কি কোনো চিঠি লিখেছিলেন, একথাও পোয়ারো জানতে চাইল। ডরকাস উত্তরে বলল সে চিঠি লেখার ব্যাপারে কিছুই জানে না কারণ সন্ধ্যাবেলার সে বাইরে গিয়েছিল। এক্ষেত্রে অ্যানী কিছু জানতে পারে বলে সে জানাল। ডরকাস বলল সে এখন কফির কাপগুলো ধুতে যাবে কারণ অ্যানি কাপগুলো গত রাত্রে ধুয়ে রাখতে ভুলে গেছে।
পোয়ারো হাত তুলে ডরকাসকে থামিয়ে দিয়ে বলল তার একটা অনুরোধ আছে। এখনও যখন কফির কাপগুলো ধোওয়া হয়নি তখন আরও কিছুক্ষণ ওগুলো থাক, সে ওগুলো পরীক্ষা করে দেখতে চায়।
এবার পোয়ারো। দরকাসকে বলল অ্যানিকে পাঠিয়ে দিতে। ডরকাস যাওয়ার আগে পোয়ারো তার কাছ থেকে জেনে নিল কজ মালী বাগানে কাজ করে। ডরকাস জানাল যুদ্ধের আগে পাঁচজন ছিল বর্তমানে তিনজন মাত্র কাজ করে। এই তিনজন হল বুড়ো ম্যানিং, ছোকরা উইলিয়াম আর একটি অল্প বয়সী মেয়ে।
