স্টেট গ্যালারীতে কিন্তু দুটো ছবি আছে, মনে করিয়ে দিলো পোয়ারো।
নাক সিটকালেন মিস উইলিয়ামস, থাকতে পারে। শিল্পী এপস্টেইনের তৈরি একটা মূর্তি তো ওখানে আছে। তাতে কি হয়েছে?
বুঝে নিলো পোয়ারো আর আলোচনা করে লাভ নেই শিল্প নিয়ে, তার চুড়ান্ত মতটা মিস উইলিয়ামস জানিয়ে দিয়েছেন। পাল্টালো সে প্রসঙ্গ।
যখন মিসেস ক্যারোলিন ক্রেল তার স্বামীর দেহটাকে দেখেছিলেন আপনি তখন তো ওঁর সঙ্গে ছিলেন।
হ্যাঁ,আমি আর মিসেস ক্রেল দুজনে দুপুরের খাওয়ার পর একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলাম। স্নান সারার পর ওর সোয়েটারটা অ্যাঞ্জেলা হয় সমুদ্রের তীরে বা নৌকোর ওপর এসেছিলো ফেলে। মেয়েটি বড় অসাবধানী ছিলো নিজের জিনিসপত্র সম্বন্ধে। একসঙ্গে কামান বাগানের দরজার কাছে পর্যন্ত এসে সমুদ্রের দিকে দু-চার পা এগিয়েছি আমি, আমাকে মিসেস ক্রেল ডাকলেন। ইজেলের কাছে বেঞ্চের ওপর গিয়ে দেখি মিঃ ক্রেল এলিয়ে পড়ে আছেন, প্রাণ বেরিয়ে গেছে প্রায় ঘণ্টাখানেক আগে।
উনি কি ওটা দেখে ভীষণ ঘাবড়ে গিয়েছিলেন?
মিঃ পোয়ারো আপনার প্রশ্নের মানেটা ধরতে পারছি না ঠিক মতো? তবে হ্যাঁ কেমন যেন হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন মিসেস ক্রেল। বললেন আমাকে ডাক্তার ডাকতে টেলিফোন করে। সত্যিই যে উনি মারা গেছেন এটা স্পষ্টভাবে তখনো পর্যন্ত আমরা বুঝতে পারিনি।
আর টেলিফোন করতে গেলেন আপনি?
আমার মেরিডিথ ব্লেকের সঙ্গে দেখা হয় কিছুটা দূর যাবার পর। তাকে টেলিফোন করার ভারটা দিয়ে মিসেস ক্রেলের কাছে আমি আবার ফিরে এলাম। আশংকা হচ্ছিলো আমার উনি অজ্ঞান-টজ্ঞান না হয়ে যান।
মিস উইলিয়ামস শুকনো গলায় বললেন, নিজেকে উনি বেশ শান্ত সংযত করেই রেখেছিলেন, কান্নাকাটি করে এলসা গ্রীয়ারের মতো পাগলামি করেননি।
পাগলামি কি ধরনের? প্রশ্ন করলো পোয়ারো।
মিসেস ক্রেলকে আক্রমণ করতে উদ্যত হয়েছিলেন মিস এলসা গ্ৰীয়ার।
উনি তার মানে বুঝতে পেরেছিলেন যে অ্যামিয়াস ক্রেলের মৃত্যুর জন্যে মিসেস ক্ৰেলই দায়ী?
মিস উইলিয়ামস কয়েক মুহূর্ত ভেবে নিয়ে বললেন, না মনে হয় না তা। তখন পর্যন্ত এ সন্দেহটা জাগেনি। চেঁচিয়ে মিস গ্ৰীয়ার বলে উঠেছিলেন, ক্যারোলিন এসব কর্ম তোমার। ওকে তুমি মেরেছো। তোমারই দোষটা। কিন্তু স্পষ্টভাবে একথা বলেননি যে ওকে বিষ। দিয়েছো তুমি। তবে মনে হয় আমার এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ ছিলো না মিস গ্রীয়ারের মনে।
আর মিসেস ক্রেল? একটু যেন চঞ্চল হয়ে উঠলেন মিস উইলিয়ামস, মিঃ পোয়ারো আমার পক্ষে কি অতোটা বাড়াবাড়ি করা ভালো হবে? মিসেস ক্রেল ঠিক সেই মুহূর্তে কি ভাবছিলেন তা আমার পক্ষে জানা কি সম্ভব?
উনি কি দারুণ ভয় পেয়েছিলেন নিজের কৃতকর্মের ফলে…? ও রকম কিছু মনে হয়েছিলো কি?
না-না…ঠিক ভাবে বলতে পারবো না তা হয়েছিলো কিনা, তবে হতভম্ব হয়ে গেলেন বলা চলে ভয় পেয়েছিলেন। হ্যাঁ, ভয়ই পেয়েছিলেন। কিন্তু স্বাভাবিক তো সেটাই।
পোয়ারোর যেন কথাটা পছন্দ হলো না, বললো, হ্যাঁ, নিশ্চয় স্বাভাবিক সেটাই…প্রকাশ্যে কী ধরনের মনোভাব দেখিয়েছিলেন স্বামীর মৃত্যু সম্বন্ধে মিসেস ক্রেল?
আত্মহত্যা, এটা আত্মহত্যার ঘটনা উনি বলে আসছিলেন প্রথম থেকেই।
একান্তে আপনার সঙ্গে কথা বলার সময়েও কি ঐ কথা বলেছিলেন তিনি, না প্রকাশ করেছিলেন অন্য কিছু অভিমত?
না, আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন উনি আমাকে বোঝাতে যে আত্মহত্যা ছাড়া ওটা আর কিছুই নয়। একটু বিব্রত দেখে মিস উইলিয়ামসকে দুম করে প্রশ্ন করে বসলো পোয়ারো, আচ্ছা আপনি কি বলেছিলেন এ ব্যাপারে?
মিঃ পোয়ারো সত্যিই কি কোনো দাম আছে আমার মতামতের?
আমি তো মনে করি আছে…। এমন কিছু একটা ছিলো পোয়ারোর কথার মধ্যে যার ফলে ইতস্তত করতে করতে মিস উইলিয়ামস বললেন, আমি বলেছিলাম মনে হয়, মিসেস ক্রেল নিশ্চয়ই, এটা আত্মহত্যারই ঘটনা।
আপনি কি নিজের বক্তব্যটা বিশ্বাস করেছিলেন?
মিস উইলিয়ামস হঠাৎ শক্ত করে উঁচু করলেন মাথাটা, বললেন, না, করিনি। কিন্তু মিঃ পোয়ারো একটা কথা বোঝার চেষ্টা করুন, সব সময়েই আমি ছিলাম মিসেস ক্রেলের দিকে। সহানুভূতি দেখাবার প্রশ্ন উঠলে সেটা পুলিশের দিকে না গিয়ে, যেভো মিসেস ক্রেলের দিকেই।
ছাড়া পান উনি, আপনি নিশ্চয়ই এটা চাইতেন?
হ্যাঁ, চাইতাম।
তাহলে নিশ্চয়ই ওঁর মেয়ের মনের ইচ্ছে সম্বন্ধেও সহানুভূতি থাকবে আপনার।
আমি সব করতে পারি কার্লার জন্যে।
একটা বিশদ বর্ণনা দিতে কি ঐ দুর্ঘটনার আপত্তি আছে আপনার?
মানে ওটা কার্লা পড়বে? তাহলে কোনো প্রশ্ন উঠতে পারে না আপত্তির। ওকি বদ্ধপরিকর পুরো ব্যাপারটা তলিয়ে দেখবার জন্যে?
হাঁ, তবে অভয় দেন যদি তো বলি ওর কাছে সত্যটা গোপন রাখলেই ভালো হতো…।
মিস উইলিয়ামস বাধা দিয়ে বলে উঠলেন, না, অনেক বেশি ভালো সত্যের মুখোমুখি দাঁড়ানোটা। দুঃখ এড়াবার জন্যে বিকৃত করার কোনো অর্থ হয় না সত্যকে। কার্লা নিশ্চয়ই প্রকৃত সত্যটা জেনে মর্মান্তিক ব্যথা পেয়েছে, বোধ হয় এখন জানতে চায় ঘটনার খুঁটিনাটি, সে সত্যিকারের বলিষ্ঠ মনের পরিচয়ই দিচ্ছে। ঠিকঠাক একবার জেনে নিলে ও এ নিয়ে আর মাথা ঘামাবে না। স্বচ্ছন্দে কাটাতে পারবে ভবিষ্যৎ জীবন।
