ও বলেছিলো, শেষ হয়ে গেছে সব কিছুই। মেরিডিথ শেষ হয়ে গেছি আমিও। হঠাৎ তারপর হাসতে হাসছে চলে গেলো দলের কাছে। এর আগে ওকে কখনও আমি এরকম অস্বাভাবিক ও উদ্দামভাবে খুশি হতে দেখিনি।
পোয়ারো চীনেম্যানদের মতো ভাবলেশহীন মুখ করে বললো, ও বুঝেছি…ঐ হয়েছিলো…তাই না…।
হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে টেবিলে ঘুসি মেরে প্রায় মেরিডিথ চেঁচিয়ে উঠলেন, তবে আপনাকে একটা কথা বলছি মিঃ পোয়ারো–মামলা চলার সময় যখন ক্যারোলিন বললো ও নিয়েছিলো বিষটা নিজের খাবার জন্যেও তখন সত্যি কথাই বলেছিলো, আমি হলফ করে বলতে পারি। ওর খুন করার ইচ্ছে ছিলো না। না, ছিলো না। ওর মাথায় ও চিন্তাটা পরে এসেছিলো।
এরকুল পোয়ারো বললো, আপনি এ বিষয়ে ভুল করছেন না তো যে ওঁর মাথায় এসেছিলো ঐ চিন্তাটা পরে?
আপনার কথা ঠিক বুঝতে পারছি না আমি কি বলছেন। বোকার মতো কেমন যেন তাকিয়ে কথাটা মেরিডিথ বললেন।
খুন করার চিন্তাটা আগে ক্যারোলিনের মাথায় আসেনি এ বিষয়ে নিশ্চিত তো আপনি, আর খুন যে ক্যারোলিনই করেছেন এ কথাটা বিশ্বাস করেন আপনি?
এলোমেলো হয়ে গেলো মেরিডিথের নিঃশ্বাস
কিন্তু যদি তা…যদি তা না হয়..আপনি তাহলে কি বলতে চাইছেন…একটা দুর্ঘটনা এটা…?
যে ঠিক তাই, তা নয়।
মিঃ পোয়ারো আপনি খুব আশ্চর্য কথা শোনাচ্ছেন?
তাই কি? ক্যারোলিন ক্ৰেল, আপনিই তো বলেছেন ধীরস্থির প্রকৃতির মহিলা ছিলেন। খুন করে কি শান্ত প্রকৃতির মেয়েরা।
ঠিকই শান্তশিষ্ট ছিলো, তবে ভীষণ ঝগড়া করতো মাঝে মাঝে।
তাহলে শান্তশিষ্ট যতোটা বলছেন ততোটা নয়।
কিন্তু ক্যারোলিন তো…ওহ, বুঝিয়ে এসব জিনিস বলা যে কী কষ্টকর…।
বলুন, চেষ্টা করছি আমি বোঝবার।
একটু আলগা ছিলো ক্যারোলিনের জিভটা–কথা বলতো বড় ঝেঝে। বলতে পারতো মুখের ওপর, ঘেন্না করি আপনাকে, মরণ হয় না কেন আপনার। কিন্তু তাই বলে ঘটুক ওগুলো তা নিশ্চয়ই চাইতো না।
আপনার মতে তাহলে খুন করার মতো ব্যাপারটা একেবারেই খাপ খায় না মিসেস ক্রেলের চরিত্রের সঙ্গে।
মিঃ পোয়ারো আপনি কিন্তু দারুণ গুছিয়ে কথা বলতে পারেন। শুধু আমি বলেছি–হ্যাঁ খাপ খায় না ওর চরিত্রের সঙ্গে। ভীষণভাবে ওঁকে খোঁচানো হয়েছিলো বলেই হয়তো কাজটা করে ফেলেছিলো উত্তেজিত হয়ে। স্বামীকে এমনিতে ও ভীষণ ভালোবাসতো। শ্রদ্ধা করতো, কিন্তু যে কোনো মহিলা ও রকম পরিস্থিতিতে পড়লে…মানে…খুন করে ফেলতে পারে। ঘাড় দুলিয়ে পোয়ারো বললো, আপনার সঙ্গে একমত আমি।
আমি একেবারে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম কথাটা শুনে। সত্যি তা ভাবতেই পারিনি। এবং সত্যিও না কথাটা। কারণ আসলে ক্যারোলিন পারে না ওটা করতে।
মিঃ ব্লেক কিন্তু একথা তো স্বীকার করবেন অবশ্যই আপনি যে ক্যারোলিন খুনী আইনের চোখে।
হাঁ করে তাকালেন আবার মেরিডিথ ব্লেক পোয়ারোর মুখের দিকে, আরে মশাই–যদি ও করে না থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই বিকল্প একটা কিছু হতে হবে? দুর্ঘটনা? তা নয় নিশ্চয়ই। আবার বলা যাচ্ছে না আত্মহত্যাও। বিশ্বাস করবে না কেউ, ওসব করতেই পারে না অ্যামিয়াসের মতো লোক।
তা ঠিক। স্বীকার করলো পোয়ারো।
তাহলে কি আর হতে পারে? জানতে চাইলেন মেরিডিথ।
পোয়ারো খুব ঠান্ডা গলায় বললো, আমিয়াস ক্রেলকে অন্য কেউ খুন করেছিলো এটাও তো হতে পারে?
অসম্ভব।
সত্যিই তাই মনে করেন আপনি?
হা কে আর খুন করতে চাইবে ওকে? কেই বা ওকে খুন করতে পারে?
আপনারই বেশি ভালো জানা উচিত আমার চেয়ে।
সত্যি সত্যিই আপনি কিন্তু বিশ্বাস করেন না…।
হয়তো না। আমার ভালো লাগে পরীক্ষা করে সম্ভাবনাগুলোকে দেখতে। …আচ্ছা একটু গভীরভাবে আপনি চিন্তা করে বলুন তো আমায়…।
মেরিডিথ পোয়ারোর দিকে মিনিট দুই চুপ করে চেয়ে থাকলেন, মাথা নেড়ে তারপর বললেন, আমি কিছুতেই অন্য কোনো বিকল্প কল্পনা করতে পারছি না, পারছি না চেষ্টা করেও। নির্দোষ ক্যারোলিন আমি আগ বাড়িয়ে একথা বিশ্বাস করতে চাই, অবশ্য অন্য কাউকে যদি সন্দেহ করার কোনো সঙ্গত কারণ থাকে। খুন করেছে ক্যারোলিন ও চিন্তা করতেও আমি চাই না। কিন্তু কে কে ছিলো আর। ফিলিপ, অ্যামিয়াসের প্রাণের বন্ধু। এলসা? অবিশ্বাস্য। আমি, আমাকে কি দেখতে লাগে খুনীর মতো, সম্ভ্রান্ত একজন গভর্নেস? কয়েকটা বিশ্বাসী চাকর, এরপর হয়তো আপনি বলবেন খুন করেছিলো অ্যাঞ্জেলা? না, মিঃ পোয়ারো বিকল্প নেই কোনো। ওকে খুন করতে পারে না অ্যামিয়াসের স্ত্রী ছাড়া আর কেউ। তবে ওকে এটা করতে বাধ্য করেছিলো অ্যামিয়াসই, সেই অর্থে বলতে পারেন আত্মহত্যা।
অর্থাৎ মারা যান, আমিয়াস নিজের কৃতকর্মের ফলেই নিজের হাতে না মরলেও? কথাটা বলে পোয়ারো তাকালো মেরিডিথের দিকে।
কল্পনা বড় বেশি করা হয়ে যাচ্ছে, তাই না? ঐ কথাটাই ঠিক তবুও বলি, বিশেষ করে বোঝা যায় কার্য-কারণ সম্পর্কের দিকটা দেখলেই।
আচ্ছা, মিঃ ব্লেক আপনি কি একথা এখনও ভেবে দেখেছেন নিহত মানুষটি সম্পর্কে খুব ভালোভাবে চিন্তা গবেষণা করলে খুনের উদ্দেশ্যটা জানা যায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে?
কোনোদিনও ওরকম ভাবিনি বটে, তবে মনে হয় কথাটা ভুল নয় আপনার।
এবং নিহত মানুষটি সেই জন্যেই কেমন ছিলেন, খুন হয়েছিলেন কি পরিস্থিতিতে এগুলো জানতে উৎসুক আমি। আপনি এবং আপনার ভাই আমাকে সাহায্য করছেন এ বিষয়ে…।
