সর্বনাশ! আঁতকে উঠল ডলি। মিস্টার রিভস তা পারবেন! ওরা তাঁকে ফাঁকি দিতে পারবে না। জলদি হুশিয়ার করে দেয়া দরকার!
তাকে পাব কোথায়?
ঘড়ি দেখল ডলি। দুটো জায়গার কোনও একটাতে হতে পারে। হ্যাঁণ্ডিক্র্যাফট ইমপোর্টার গিল্ড, কিংবা দি আর্টস অভ, আফ্রিকা। ওই দুটো জায়গায়। অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে। বিকেল পাঁচটার আগেই সারতে হবে।
দেড় ঘণ্টা বাকি, হিসেব করে বলল হ্যারি। একসঙ্গে গেলে সময় পাব না। ভাগাভাগি হয়ে যেতে হবে।
জলদি চলুন, রবিন বলল।
দুটো জায়গার ঠিকানা লিখে দিল ডলি। দ্রুত অফিস থেকে বেরিয়ে এলিভেটরের দিকে চলল চারজনে। যে মুহূর্তে এলিভেটরের দরজা বন্ধ হলো, ঘুরে। তাকাল মুসা, মিস্টার কিং! ও মিথ্যে বলেছে! গাধা বানানোর চেষ্টা করেছে। আমাদেরকে।
.
১৮.
মানে? বুঝতে পারল না রবিন।
কি করে বুঝলে? হ্যারির প্রশ্ন।
ভুল করছ তুমি, মুসা, কিং বলল। ওই মেয়েটাকে বহু বছর ধরে চিনি
না, ভুল আমি করছি না, দৃঢ় কণ্ঠে বলল মুসা। ডলি বলেছে মিস্টার রিভস তা পারবেন। আরও বলেছে, ওরা তাঁকে ফাঁকি দিতে পারবে না।
বিস্ময় ফুটল কিং-এর চোখে। ঠিকই তো বলেছে। আমরা সবাই সেটা জানি।
জানি। কিন্তু আমরা একবারও বলিনি ডলিকে যে পিটার আর আরেকটা ছেলেকে নিয়ে কোনও গোলমাল হয়েছে। বলিনি কিডন্যাপাররা দুজনকে ধরে নিয়ে গেছে। তাহলে কি করে জানল সে, বোকা বানানো হয়েছে কিডন্যাপারদেরকে? পিটারকে সনাক্ত করা দরকার?
চুপ হয়ে রইল অন্য তিনজন। এলিভেটর নিচে নামলে বেরিয়ে এল সবাই। অবশেষে হ্যারি বলল, ও ঠিকই বলেছে। ট্রেড মিশনের কেউই জানে না এ খবর। ডলি জানল কিভাবে?
মাথা ঝাঁকাল কিং। রকি বীচের বাইরে একমাত্র পুলিশ জানে। আর তারা নিশ্চয় ঢোল পিটিয়ে বলতে যাবে না ট্রেড মিশনের অফিসে। তার
এর একটাই মানে, মুসা বলল। ডিলির সঙ্গে কির্ডন্যাপারদের যোগাযোগ রয়েছে।
তা কি করে হয়? প্রশ্ন তুলল কিং। সারাটা দিন সে মিস্টার রিভসের সঙ্গে সঙ্গে ছিল।
সেটা তার মুখের কথা। প্রমাণ তো আর নেই।
মিস্টার রিভসকে জিজ্ঞেস করলেই সব জানা যাবে। ডলি মিছে কথা বলে থাকলে ফাঁস হয়ে যাবে।
এক মিনিট হাত তুলল রবিন। মুসার মনে হয়েছিল সে অফিসে কথা বলতে শুনেছে। আমরা শুনিনি। সে ভুল করেছে ভেবেছি। কারণ ডলি অফিসে একা, কার সঙ্গে কথা বলবে? ডেস্ক থেকে একটা কানের দুল তুলে তাকে পরতে দেখেছি। আমি যতটা জানি, কিশোরও অনেকবার বলেছে, টেলিফোনে কথা বলার সময়ই শুধু ওরকম ভাবে দুল খুলে নেয় মহিলারা। অস্বাভাবিক বড় দুল যারা পরে। কানে থাকলে রিসিভার চেপে ধরতে অসুবিধে হয়। হতে পারে টেলিফোনে কিডনাপারদের সঙ্গে কথা বলেছিল সে। মনে আছে, রিসিপশনিস্ট বলেছিল, সকাল থেকে অনেক ফোন এসেছে মিস জেসাপের কাছে? অনেকে নাকি খুঁজেছে। বাজি রেখে বলতে পারি এখন কিডন্যাপাররাই যোগাযোগ করতে চেয়েছে ডলির সঙ্গে।
কিং, মুসা বলে। আপনি বলছেন, অনেক বছর ধরে চেনেল ডলিকে। তার মানে তার সঙ্গে কাজ করেছেন। ডলি কি স্যার মনটেরোর সঙ্গেও কাজ করেছে? পিটারকে দেখলে চিনবে?
আমি শিওর না, ভ্রূকুটি করল কিং। অনেক বছর ধরে স্যার মনটেরোর অফিসে কাজ করেছে অবশ্য, তবে মিস্টার রিভসের মত তার পারিরারিক বন্ধু নয়! পিটারকে চিনতে পারবে কিনা জানি না। তবে বলাও যায় না। চিনেও ফেলতে পারে। ঈশ্বর, তাই তো, এখন মনে হচ্ছে সে-ই। পিটারের মেসেজটা তার হাত দিকেও বেরিয়ে যেতে পারে!
পার্কিং লটের দিকে দৌড় দিল চারজলে। ইয়ান ফ্লেচারকে জানাল সন্দেহের কথা।
ওকে ধরা দরকার। ফুঁসে উঠল হ্যারি। চাপ দিলেই…
না, রাজি হলেন না চীফ। লাভ হবে না। উগ্রবাদীদের দলে হলে ভীষণ শক্ত হবে। কিছুতেই মুখ খুলবে না। আপনাদেরকে ভুল জায়গায় পাঠাতে চেয়েছে। তার মানে সময় চেয়েছে সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার জন্যে। দেখা করার জন্যেও হতে পারে। আর তা করলে সে-ই পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে আমাদের।
ঠিকই বলেছেন, মুসা বলল। সে ভাববে আমরা মিস্টার রিভসের সঙ্গে দেখা, করতে চলে গেছি। এই সুযোগে সে চলে যাবে কিডন্যাপারদের সঙ্গে কথা বলতে।
হ্যাঁ। আমি পুলিশকে বলে যাচ্ছি এখানে থেকে অফিসের ওপর নজর রাখতে, চীফ বললেন। তারপর আমার গাড়িতে করে তোমাদেরকে নিয়ে সরে যাব এখান থেকে, ডলি ভাববে আমরা চলে গেছি। ঘুরে আবার আরেক দিক দিয়ে চলে আসব। লুকিয়ে উঠে পড়ব ক্যাডিলাকে। ওকে অনুসরণ করব। আমাদেরকে পুলিশ কারে করে চলে যেতে দেখবে সে। কাজেই একটা ক্যাডিলাক পিছু নিলে খেয়াল করবে বলে মনে হয় না।
বুদ্ধিটা ভাল। সবারই মনে ধরল। চীফের কথামতই কাজ করা হলো
পনেরো মিনিট পর বেরিয়ে এল ডলি জেসাপ। একটা লাল পনটিয়াকে উঠল। গাড়িটাকে অনুসরণ করে চলল হ্যারি আর কিং-এর ক্যাডিলাক।
.
দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে চুপ করে বসে রয়েছে কিশোর আর পিটার। অনেকক্ষণ ধরে রয়েছে একই ভাবে।
আর আমাদের খুঁজে পাবে না তোমার বন্ধুরা, পিটার বলল।
পাবেই! আমি জানি, ওরা পাবেই! খুঁজে বের করবেই আমাদের!
হঠাৎ জ্বলে উঠল আলো। ক্ষণিকের জন্যে অন্ধ করে দিল যেন ছেলেদের। ভেতরে ঢুকেছে দুই কিডন্যাপার। কিশোরের দিকে এগিয়ে এল জন, পিটারের দিকে ডেভ। টান দিয়ে ছিঁড়ে ফেলল দুজনের শার্ট।
