পিটারের দিকে তাকিয়ে ডেভ বলল, ভেরি গুড। খেল তাহলে খতম, অ্যাঁ?
কিশোরের দিকে তাকাল পিটার। তার পেটে ছোট একটা কাটা দাগ রয়েছে। কিশোরের তেমন দাগ নেই।
এবার কি বলবে? কিশোরের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে জন। ওরকম এক দাগ তোমার করে নেয়া উচিত ছিল।
.
হলিউড হিলের একটা ছোট বাড়ির ড্রাইভওয়েতে ঢুকল লাল পনটিয়াক। থামল। বেরিয়ে এল ডলি। দৌড়ে এগোল সিঁড়ির দিকে। সিঁড়ি বেয়ে উঠে পড়ল বারান্দায়। দুটো বাড়ি আগে একটা মোড়ে থেমে গেল ক্যাডিলাক। ইমারজেন্সি সিগন্যালের দিকে তাকাল মুসা।
না, কিছু নেই, হতাশ কণ্ঠে বলল সে। মনে হয় কিশোরের যন্ত্রটা পেয়ে গেছে কিডন্যাপাররা। অফ করে দিয়েছে। কিংবা ওরা এখানে নেইই।
তাহলে কি আমাদের ভুল হলো? নিজেকেই যেন প্রশ্ন করল হ্যারি।
না, জোর দিয়ে বলল মুসা। ওই মেয়েটা কিডন্যাপারদের দলেরই।
চল, কিং বলল। বাড়িতে ঢুকে পড়ি। তারপর যা হয় হবে।
গাড়ি রেখে হেঁটে এগোল দলটা। নিঃশব্দে দ্রুত চলে এল বাড়ির আঙিনায়। লম্বা লম্বা গাছ, লতা আর ঝোপঝাড়ের জঙ্গল হয়ে আছে বাড়ির চারপাশে। সামনের দরজার কাছে এসে কান পাতল ওরা। কথা শোনা গেল না। শুধু কাঠের। মেঝেতে ডলির হাই হিলের খটখট শব্দ। কলিং বেল বাজাল কিং! দরজা খুলে হাঁ হয়ে গেল ডলি।
এখানে কি? খেঁকিয়ে উঠল সে। পরক্ষণেই হাসল, অস্বস্তি আর ভয় মেশানো হাসি। সরে জায়গা করে দিল সবাইকে ঢোকার জন্যে। একটা লিভিং রুমে নিয়ে এল। মিস্টার রিভসকে পেয়েছেন? কিডন্যাপাররা তার কাছে গিয়েছিল?
তার সঙ্গে দেখা করতে যাইনি আমরা, হ্যারি বলল।
কারণ, কিং বলল। তার সঙ্গে দেখা করতে যাবার দরকার নেই কিডন্যাপারদের। পরে মনে হয়েছে আমাদের।
আপনাকে চুপ থাকতে অনুরোধ করব, শান্তকণ্ঠে ডলিকে সাবধান করলেন চীফ। কারণ বেফাঁস যা কিছু বলবেন এখন আদালতে সব যাবে আপনার বিরুদ্ধে।
ওরা কোথায়? ভুরু নাচাল মুসা। পিটার আর কিশোর?
কিডন্যাপারদের সঙ্গে কথা বলেছেন আপনি, রাগ চাপতে পারল না রবিন। জানি আমরা। ওরা কোথায়? কি করেছে কিশোর আর পিটারকে?
দীর্ঘ একটা মুহূর্ত ওদের দিকে তাকিয়ে রইল ডলি। নিরাশ ভঙ্গিতে হাত ছড়াল দুপাশে। কি বলছ বুঝতে পারছি না। এই কিশোরটি কে? কোনও কিশোরকে তো চিনি না আমি? আর আমি কি করে জানব পিটার কোথায় আছে?
খুব ভাল করেই জান এখন তুমি, কড়া গলায় বলল কিং। কিশোর কে। আর পিটারের কি হয়েছে তা-ও জান, কারণ কিডন্যাপারদের দলেরই লোক তুমি।
আমি! হাঁ হয়ে গেল ডলি। আমি? মানে আমি পিটারের ক্ষতি করব? বহু বছর আমি স্যার মনটেরোর কাজ করেছি। আমি তার একজন শুভাকাঙ্ক্ষী।
কেন মিথ্যে বলছ? শান্ত কণ্ঠে বলল হ্যারি। চীফ, বাড়িটা খুঁজে দেখা দরকার।
তার জন্যে সার্চ ওয়ারেন্ট লাগবে। কঠিন হয়ে উঠল ডলির কণ্ঠ। তারপর কি ভেবে মনস্থির করে নিয়ে বলল, ঠিক আছে, দেখুন। যত খুশি দেখুন। আমার তো আর কিছু লুকানোর নেই। তবে মনে অনেক কষ্ট দিলেন আমাকে।
আমিও কি দিয়েছি? হ্যারি জিজ্ঞেস করল।
আপনি? পলকের জন্যে রাগে বিকৃত হয়ে গেল ডলির মুখ। তারপর জোর করে হাসল। হ্যাঁ, মিস্টার ম্যাকঅ্যাডাম, আপনিও দিয়েছেন।
কথা বাড়িয়ে লাভ নেই, চীফ বললেন। খুঁজুন তো।
ছড়িয়ে পড়লেন চীফ, হ্যারি, রবিন, আর মুসা। লিভিং রুমে ডলির সঙ্গে রইল কিং।
এর জন্যে পস্তাতে হবে আপনাকে, কিং, শাসিয়ে বলল ডলি। কিডন্যাপারদের ব্যাপারে কিছু জানি না আমি। কিংবা ওই দুটো ছেলের ব্যাপারে।
ছেলে যে দুটো কি করে জানলে?
একটু আগেই তো বললেন কিশোর নামে আরও একটা ছেলে রয়েছে।
না, কিশোর নামে আরেকটা ছেলে রয়েছে ওভাবে একবারও বলিনি। ছেলে কেন, বয়স্ক মানুষও হতে পারে কিশোর। কিন্তু তুমি একেবারে নিশ্চিত ভাবে বলে দিলে সে ছেলে। তারমানে তুমি জান। এই নিয়ে দুবার মুখ ফসকাল তোমার। একবার অফিসে, একবার এখানে। তা কিডন্যাপারদেরকে চিনিয়ে দিয়েছ নাকি, পিটার কোনজন?
আর একটা কথাও বলতে চাই না আপনার সঙ্গে।
ভেতরের একটা ঘর থেকে বেরিয়ে এল রবিন আর হ্যারি। আরেক দিক থেকে এলেন ফ্লেচার আর মুসা। ডলির মুখোমুখি দাঁড়াল রবিন। কিছু কথার জবাব দিতে হবে আপনাকে, মিস জেসাপ।
ছেলেদেরকে দিয়েও আমাকে অপমান করাতে চান নাকি? কিং-এর দিকে। তাকিয়ে অভিযোগের সুরে বলল ডলি।
কিং কিছু বলল না। রবিন তার কথা বলে গেল, আমার বন্ধু কিশোর বলে, ছোটখাট ব্যাপারও অবহেলা করতে নেই গোয়েন্দাগিরিতে। যাই হোক, আপনি একজন নানদান। এবং আমার বিশ্বাস, ওখানকার জুয়েলারি আপনার খুব পছন্দ।
কি বকবক করছে এই ছেলেটা? কিং-এর দিকে তাকিয়ে ধমকের সুরে বলল ডলি। দেখুন, আমি আপনাকে হুঁশিয়ার করছি…
পকেট থেকে হাত বের করল রবিন। হাতে হাতির দাঁতের তৈরি ছোট একটা গহনা। কানে পরার জন্যে। বলল, এটা আপনার বেডরুমে পেয়েছি, মিস জেসাপ। কানের দুল, তাই না? নানদার মেয়েরা পরে। মাত্র একটাই আছে। আরও একটা থাকার কথা ছিল, নেই। কারণ ওটা হারিয়ে গেছে। আবার পেয়েছি। সেই বক্স ক্যানিয়নে, যেখানে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কিশোরকে। কিডন্যাপারদেরকে তুলে নেয়ার জন্যে ওখানে নেমেছিল হেলিকপ্টারটা।
হাতির দাঁতের তৈরি খুদে হাতির দাঁতটার দিকে তাকিয়ে ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। ডলির মুখ।
