মানে আমাদেরকে কি করবে, বল তো? আবার প্রশ্ন করল পিটার।
তোমাকে কি করবে, বলতে পারি। যেভাবেই হোক আমেরিকা থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে, নানদায়। তবে এখানে যে কেন রেখে গেল বুঝতে পারছ না। যদি না…
কী, কিশোর?
যদি না কারও জন্যে অপেক্ষা করে। এমন কেউ, যে তোমাকে সনাক্ত করতে পারবে।
হুঁ, ঠিকই বলেছ। দুজনকে নেয়ার কোনও ইচ্ছেই ওদের নেই। ভাবছি, তখন তোমাকে কি করবে ওরা?
আমিও তাই ভাবছি, কিশোরের কণ্ঠে অস্বস্তি।
.
দুপুরের কড়া রোদ, রেজায় গরম। উইলশায়ার বুলভারের একটা অফিসের সামনে পাকিং লটে গাড়ি সেকালেন ইয়ান ফ্লেচার। বিশাল ক্যাডিলাকটা পুলিশের গাড়ির পাশে রাখল হ্যারি। চীফ গাড়ি থেকে বেরোতেই তাড়াহুড়া করে এগিয়ে এল লস অ্যাঞ্জেলেসের একজন পুলিশ।
মিস্টার রিভস ফেরেননি, চীফ, লোকটা জানাল। সন্দেহজনক কোনও লোককেও অফিসে ঢুকতে দেখিনি সারাক্ষণই চোখ রাখা হয়েছে অফিসের ওপর।
ওরা এখানে আসেনি, চীফ, মুসা বলল। ইমারজেন্সি সিগন্যালের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। কোনও সাড়া নেই যন্ত্রের।
বাড়ির ভেতরে ঢুকলে হয়ত সাড়া দিতে পারে, হ্যারি বলল।
দেখা দরকার, বলল কিং। চীফ, আমার মনে হয় আপনার এখানে থাকাই ভাল। অবশ্যই লুকিয়ে থাকতে হবে। কিডন্যাপাররা যাতে দেখতে না পায়।
দুই গোয়েন্দাকে নিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকল হ্যারি আর কিং। এলিভেটরে করে উঠে এল তিনতলায়, যেখানে রয়েছে মিশনের অফিস। বেশ সম্মান দেখিয়ে হ্যারি আর কিংকে স্বাগত জানাল রিসিপশনিস্ট মেয়েটা। রিভসের কথা জিজ্ঞেস করলে মাথা নাড়ল। কোনও খবর জানে না।
তাঁর অ্যাসিসটেন্ট মিস উলি জেসাপকে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন, মেয়েটা জানাল। নানদার হস্তশিল্পের একটা প্রদর্শনী হচ্ছে, সেখানেও যেতে পারেন। তবে সারাদিন তো থাকার কথা নয়। ওরকম থাকেন না কখনও। মিস জেসাপ ফিরে এলেও জানা যেত মিস্টার রিভস কোথায় আছেন। সকাল থেকেই কয়েকবার করে দুজনের কাছে ফোন এসেছে, কোথায় গেছে জানতে চেয়েছে, জবাব দিতে পারিনি।
প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করার জন্যেই যেন আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল মেয়েটা, এই সময় ফোন রাজল। রিসিভার তুলে নিয়ে কানে ঠেকাল। ওখানে আর থাকার কোনও প্রয়োজন নেই। বেরিয়ে এল গোয়েন্দারা।
আপনারা বললেন মিশনে স্পাই আছে, মুসা বলল। স্পাইয়ের দরকার নেই। ওই একটা মেয়েই যে হারে কথা বলতে থাকে, সব গোপনীয়তা ফাঁস করে দেয়ার জন্যে যথেষ্ট।
হয়ত, হাসল কিং। মেয়েটা কথা একটু বেশিই বলে। তবে আসল কথাটাই বলতে পারল না। আমরা যা জানতে চাই। রিভস কোথায়?
তার মানে, হ্যারি বলল। মিস্টার রিভস কোথায় আছেন একথা কিডন্যাপারদেরকেও বলতে পারবে না সে।
তা তো বুঝলাম। এখন কি করা? এলিভেটর দিয়ে নামতে নামতে প্রশ্ন রাখল রবিন।
অপেক্ষা আর আশা করা ছাড়া আর কি করার আছে? কিং বলল। বসে থাকব। দেখব কে আগে আসে। মিস জেসাপ, মিস্টার রিভস, নাকি কিডন্যাপাররা। এছাড়া আর তো কিছু ভাবতে পারছি না।
প্রচণ্ড গরমের মধ্যে পার্কিং লটে বসে বসে ঘামতে লাগল দুই গোয়েন্দা, দুজন। নানান আর কয়েকজন পুলিশম্যান। হতাশ হয়ে উঠছে ধীরে ধীরে। ডায়ালের। দিকে তাকিয়ে থেকে চোখ ব্যথা করে ফেলল মুসা। একবারের জন্যেও জ্বলল না লাল আলো।
আর পারি না! অপেক্ষা অসহ্য হয়ে উঠেছে মুসার কাছে। কিশোর আর পিটারের সাংঘাতিক কিছু ঘটেছে। কি করে জানব, পিটারকে চেনে এরকম আর কাউকে খুঁজে বের করেনি কিডন্যাপাররা?
জানার উপায় নেই, ভয়ানক গম্ভীর হয়ে আছে হ্যারি। শুধু জানি ট্রেড মিশনই ওদের একমাত্র আশা। সেজন্যেই বসে থাকতে হবে।
অবশেষে, দুপুরের পরে, ওপরতলায় বসে যে শাদা পোশাকের পুলিশম্যানটি নজর রাখছিল, সে ওয়াকি টকিতে কথা বলল ইয়ান ফ্লেচারের সঙ্গে। কালো চুলওয়ালা এক মহিলা এই মাত্র ঢুকল। এখানকারই কেউ মনে হচ্ছে। তাকে খুঁজছেন না তো?
মিস জেসাপ! চেঁচিয়ে উঠল কিং। সে-ই হবে! গিয়ে দেখা দরকার।
আবার ওপরতলায় ছুটে এল গোয়েন্দারা। একই রকম হাসি দিয়ে স্বাগত জানাল রিসিপশনিস্ট। হাল্লো, আবার এসেছেন! ভাল। মিস্টার রিভসের কোনও খবর নেই। তবে মিস জেসাপ ফিরেছে। ওর সঙ্গে দেখা করবেন? মিস্টার রিভসের অফিসে আছে।
কোণের দিকে মিস্টার রিভসের অফিস। সেদিকে এগোতে গিয়ে থমকে দাঁড়াল মুসা। কান পেতে শুনছে।
কি হয়েছে? জানতে চাইল রবিন।
অফিসে কথা শোনা যাচ্ছে। মিস জেসাপই বলছে হয়ত কারও সঙ্গে।
হ্যারিও কান পাতল। কই, আমি তো শুনছি না।
কি জানি, গাল চুলকাল মুসা। আমার ভুলও হতে পারে।
দরজায় টোকা দিয়ে ভেতরে ঢুকল ওরা। মিস্টার রিভসের ডেস্কের কাছে দাঁড়িয়ে কাগজপত্র ঘাঁটছে মিস ডলি জেসাপ। গায়ে সবুজ ব্লাউজ। পরনে ধূসর স্ন্যাকস। ওদেরকে দেখে চকচক করে উঠল চোখ, পিটারকে পেয়েছেন?
পেয়েছি, তিক্তকণ্ঠে বলল কিং। তারপর আবার হারিয়েছি।
হারিয়েছেন? ধীরে ধীরে ডেস্কের ওপর থেকে একটা কানের দুল, তুলে নিয়ে পরতে লাগল মিস জেসাপ।
সারাদিন কোথায় ছিলে, ডলি? হ্যারি জিজ্ঞেস করল। মিস্টার রিভসের সঙ্গে?
মাথা ঝাঁকাল ডলি।
পিটারের কথা কেউ তাকে জিজ্ঞেস করেছে?
না তো। কেন?
কিডন্যাপাররা পিটারকে ধরে নিয়ে গেছে। আমাদের ধারণা, কিং বলল। মিস্টার রিভসের কাছে যাবে ওরা পিটারকে সনাক্ত করার জন্যে…
