হয়ত ঠিকই বলেছেন আপনি, মিসেস পাশা, তর্ক করলেন না ইয়ান ফ্লেচার। যাই হোক, লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ তাদের সাধ্যমত চেষ্টা করার কথা দিয়েছে। তবে পেলেও সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশন নিতে পারবে কিনা সন্দেহ।
কেন নয়? প্রশ্ন করলেন রাশেদ পাশা।
কারণ কিশোর আর পিটারকে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে গেছে। কিডন্যাপাররা। ওদের কাছে অস্ত্র আছে। যা শুনলাম, তাতে মনে হয় ওরা সাধারণ কিডন্যাপার নয়, আরমির লোক। আর ওসব লোক বড় ভয়ংকর হয়। উদ্দেশ্য সাধনের জন্যে নিজের জীবনের পরোয়া করে না। মুখোমুখি হয়ে ওদেরকে ঠেকানো হয়ত যাবে, কিন্তু ছেলেগুলোর মারাত্মক বিপদ হয়ে যাবে। একটাই উপায় আছে। কোনভাবে ওদেরকে চিহ্নিত করে চুপি চুপি গিয়ে ছেলেগুলোকে উদ্ধার করে আনা।
হুঁ! ছেলেদের বিপদটা বুঝতে পেরে আরও গম্ভীর হয়ে গেলেন রাশেদ পাশা।
তবে যতক্ষণ খোঁচাখুঁচি করা না হবে, কিং বলল। ক্ষতি হবে না। ছেলেগুলোর। পিটারকে মারবে না ওরা, তাহলে স্যার মনটেরোকে কথা শোনাতে পারবে না। কিশোরেরও ক্ষতি করবে না। করে কোনও লাভ নেই ওদের। শুধু। আটকে রাখবে দুজনকেই যতক্ষণ না ওদের উদ্দেশ্য সফল হয়।
তা ঠিক, চীফ বললেন। এখন একটাই জিনিস দেখতে হবে আমাদের, ছেলেগুলোকে নিয়ে যাতে আমেরিকা থেকে বেরিয়ে যেতে না পারে ওরা। আচ্ছা, ওদের তো নানায় যাওয়ার কথা। দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের দিকে গেল কেন? ওখানে কি আছে?
নিশ্চয় বেরিয়ে যাওয়ার প্ল্যান করেছে ওরা, হ্যারি বলল।
চারজনকে বেরোতে হবে! কি ভেবে হঠাৎ বলে উঠল রবিন। নিজেরা। দুজন, আর কিশোররা দুজন। ওরা জানে না কোন জুন পিটার। ওদের প্ল্যান ছিল তিনজনের বেরোতে হবে, চারজনের নয়। এতে কি প্ল্যানের পরিবর্তন করতে হবে না? হ্যারি আর কিং-এর দিকে ফিরল সে। লস অ্যাঞ্জেলেসে যাওয়ার অন্য কারণ নেই তো? হয়ত ওখানে গিয়ে কোনভাবে সনাক্ত করতে পারবে পিটারকে।
আমার জানা নেই, রবিন, কিং বলল।
নানদাতে নিয়ে গেলে হতে পারে, হ্যারি বলল। তবে লস অ্যাঞ্জেলেসে নয়। আমার মনে হয় না কোনও উপায় আছে ওদের।
মুসা বলল, নানদান ট্রেড মিশনে এমন কেউ নেই তো যে পিটারকে চিনতে, পারবে? মানে, মনটেরোদের কোনও ঘনিষ্ঠ বন্ধু? কিংবা আত্মীয়?
চট করে পরস্পরের দিকে তাকাল হ্যারি আর কিং। অবাক হয়েছে। এই সহজ কথাটা কেন ওদের মনে পড়েনি ভেবে।
র্যামন রিভস? যেন কিং-এর কাছে জানতে চাইল হ্যারি।
স্যার মনটেরোর অনেক পুরনো বন্ধু অবশ্য তিনি, আনমনে বিড়বিড় করল। কিং। না, তাকে বোধহয় ফাঁকি দিতে পারবে না ছেলেগুলো। কি করে এখন…।
এই র্যামন রিভসটি কে? চীফ জানতে চাইলেন, আমেরিকায় কি করছেন?
লস অ্যাঞ্জেলেসে নানান ট্রেড মিশনের প্রধান তিনি, কিং জানাল। তবে ওই উগ্রপন্থীদের কিছুতেই সাহায্য করবেন না রিভস।
ইচ্ছে হয়ত নেই, চীফ বললেন। তবে রবিনের কথাটাও না ধরে পারছি না। পালানোর পরিকল্পনা করেছিল ওরা তিনজন, চারজন নয়। এটা ওদের জন্যে বড় সমস্যা। এর জন্যে বেপরোয়া হয়ে উঠবে ওরা। মিস্টার রিভসকে বাধ্য করতে পারে পিটারকে চিনিয়ে দিতে। কিংবা চালাকি করে জেনে নেবে তার কাছ থেকে। এখুনি হুশিয়ার করে দেয়া দরকার।
তাহলে ফোন করি, কিং বলল। শয়তানগুলোকে বিশ্বাস নেই। আরেকটা ব্যাপার, মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ আছে ওদের। ভেতরে নিশ্চয় ওদের স্পাই আছে। ওর সাহায্যও নিতে পারে ওরা। মিস্টার রিভসকে সতর্ক করে রাখলে তিনিও হয়ত আমাদের সাহায্য করতে পারেন। ফাঁদে ফেলে দেয়া যেতে পারে কিডন্যাপারগুলোকে।
করুন। এখুনি। আমার ফোনটাই ব্যবহার করুন, চীফ বললেন।
ফোন করতে গেল কিং। অস্থির হয়ে অপেক্ষা করতে লাগল অন্যেরা। মেরিচাচী আর বসে থাকতে পারলেন না, উঠে পায়চারি শুরু করলেন।
যদি কিছুতেই বুঝতে না পারে কোন ছেলেটা পিটার? হ্যারিকে জিজ্ঞেস করলেন তিনি।
তাহলে, আমার বিশ্বাস, দুজনকেই নানদায় নিয়ে যেতে চাইবে।
আফ্রিকায়? প্রায় চিৎকার করে বললেন মেরিচাচী। ওই শয়তানগুলো নিয়ে গেলে আর বাঁচিয়ে রাখবে…
ফিরে এল কিং। মিশন অফিসে নেই রিভস। সম্ভবত হলিউডে গেছেন, জরুরী কাজে। প্রায়ই যান। অফিসের কেউ কিছু বলতে পারল না। মেসেজ রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু আমিও ওদেরকে কিছু বলতে সাহস করলাম না। কোন লোকটা বিশ্বাসঘাতক কে জানে! এখুনি আমাদের লস অ্যাঞ্জেলেসে চলে যাওয়া উচিত।
হ্যাঁ, তুড়ি বাজাল হ্যারি। লোকগুলো এখনও অফিসে না গিয়ে থাকলে ওদের আগেই আমাদের গিয়ে বসে থাকা উচিত। ঘাপটি মেরে থাকব। ওরা এলেই খপ করে ধরব।
ঠিক আছে, চীফ বললেন। বুদ্ধিটা মন্দ না। আমি লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশকে জানিয়ে দিচ্ছি। মিশন অফিসের ওপর নজর রাখুক ওরা। আপনারা যাওয়ার আগে যদি মিস্টার রিভস ফিরে আসেন তাহলে তাকেও যেন সতর্ক করে দেয়, বলে রাখব।
.
জানালাশূন্য, অন্ধকার, একটা ছোট ঘরে বসে রয়েছে কিশোর আর পিটার! কয়েক ঘণ্টা হলো এখানে এনে ওদেরকে ভরেছে কিডন্যাপাররা। ঘরটা পাহাড়ের ওপর। চারপাশ ঘন গাছপালায় ঘেরা। এই অন্ধকারে প্রায় কিছুই দেখতে পাচ্ছে না ওরা।
কোথায় এনেছে, কিশোর? পিটারের প্রশ্ন।
হলিউড হিলের কোথাও হবে, জবাব দিল কিশোর। কারও বাড়ির স্টোররুম কিংবা সেলার এটা। ঢোকানোর সময় আলো ছিল, ঘরটায় একবার নজর বোলাতে। পেরেছিল সে। শক্ত করে ওদেরকে বেঁধে রেখে গেছে, তাই বেরোনোর পথ। খোঁজার চেষ্টাও করতে পারছে না। যদিও কিশোরের ধারণা, খোলা রেখে গেলেও বিশেষ সুবিধে করতে পারত না। পথ নেই, দেখেছে ঢোকার সময়ই।
