আগে সাহায্য আসুক তো, কিশোর বলল। তারপর নিজেরাই দেখতে পাবেন।
কপালে দুঃখ আছে, দাঁতে দাঁত চেপে বলল জন। আমরা আর কি করব!
না, আপনাদের কিছুই করার নেই, পিটার বলল। যা ইচ্ছে করবেন। এত বকবক করছেন কেন?
চড় মারার জন্যে হাত তুলেও থেমে গেল জন। ড্রাইভিং সীটে উঠে বসল ডেভ। মাথা গরম কর না। সুযোগ দিয়েছি, কথা শোনেনি। পরে আর আমাদেরকে দোষ দিতে পারবে না। ছেলেগুলোকে চালাক ভেবেছিলাম, এখন দেখছি একেবারে বোকা।
.
রকি বীচের রাস্তা ধরে যতটা সম্ভব জোরে গাড়ি ছুটিয়েছে হ্যারি। তার পাশে বসে সিগন্যাল ডায়ালের দিকে তাকিয়ে রয়েছে মুসা। পেছনের সীট থেকে তার ঘাড়ের। ওপর দিয়ে ঝুঁকে এসেছে কিং আর রবিন, দেখার জন্যে। হঠাৎ কমে যেতে শুরু করল সিগন্যাল, দুর্বল হয়ে যেতে লাগল।
ডানে! চিৎকার করে বলল মুসা। তীরটা ঘুরে গেছে সাগরের দিকে।
মোড় নিল হ্যারি। চওড়া একটা রাস্তা, চলে গেছে বন্দরের দিকে। সকালে প্রচণ্ড ভিড় রাস্তায়, দুদিকেই ছুটে চলেছে প্রচুর গাড়ি। আরও কমে আসছে। সংকেতের শব্দ, ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে।
দক্ষিণে ঘুরেছে! মুসা বলল।
মুসা, রবিন বলল। নিশ্চয় হাইওয়ের দিকে চলেছে ওরা। তীরটা দেখছ? অর্ধেক উত্তরে অর্ধেক দক্ষিণে। তার মানে লস অ্যাঞ্জেলেস।
তুমি…মনে হয় ঠিকই বলেছ, ঘাবড়ে গেছে মুসা।
হাইওয়েটা কদ্দূর? জিজ্ঞেস করল কিং।
মাইলখানেক, জবাব দিল রবিন।
মাথা নাড়ল হ্যারি। যা ভিড়! কিছুতেই জোরে চালাতে পারছি না।
হাইওয়েতে আমাদের চার গুণ জোরে চালাতে পারবে ওবা, কিং বলল। তোমাদের যন্ত্রের রেঞ্জ কতোটা?
তিন মাইল, রবিন জানাল।
জোরে চালানোর চেষ্টা করেও পারছে না হ্যারি। অসহায় লাগছে তার। পারলে গাড়ির ভিড়ের ওপর দিয়ে উড়ে চলে যায়। ডায়ালের তীর দেখছে মুসা। থিরথির করে কাঁপছে ওটা, যেন সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না কোনদিকে ঘুরবে। অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে সংকেত। দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে আসলে, সে জন্যেই হচ্ছে এরকম। এক সময় জিভারোতে চলে এল তীর, কোনও দিক নির্দেশ করছে না আর। থেমে গেল সংকেতের শব্দ। নিভে গেল লাল আলো। রেঞ্জের বাইরে চলে গেছে প্রেরক যন্ত্রটা।
গেল! মাথায় হাত দিয়ে ফেলল কিং। আর ওদেরকে ধরা যাবে না। কি গাড়ি তা-ও জানি না। কি ভাবে অনুসরণ করব? আর কোনও উপায় নেই। পুলিশের কাছেই যেতে হবে।
.
গা ঘেঁষাঘেষি করে বসেছে পিটার আর কিশোর। সীটের আরেক প্রান্তে পিস্তল হাতে বসে রয়েছে জন। চোখ বন্ধ।
কিশোরের কানে কানে বলল পিটার, মনে হচ্ছে বলে দেয়া উচিত, কিশোর। তাহলে তোমাকে ছেড়ে দেবে।
না, দেবে না। আমি গিয়ে সব ফাঁস করে দেব, এই ভয়ে। বিপদ আরও বাড়বে তখন আমাদের। পিটারের কোনও ক্ষতি ওরা করবে না, কিন্তু কিশোর পাশাকে ওদের কোনও প্রয়োজন নেই। অহেতুক কেন ঝামেলা রাখবে? তাছাড়া। অনেক বেশি জেনে ফেলেছে কিশোর, তাকে চুপ করিয়ে দিতেই চাইবে…
আচমকা চোখ মেলে ধমকে উঠল জন, এই, থামবে! এত কথা কিসের! যত্তোসব! একটাকে খতম করে দিতে পারলেই এখন বাঁচি!
খিকখিক করে হাসল সে। আবার চোখ মুদল। সকালের উজ্জ্বল রোদে তীব্র বেগে ছুটছে লিংকন। কে জানে কোন অজানার উদ্দেশে।
.
১৭.
থানার লম্বা বেঞ্চটায় বসে রয়েছে দুই গোয়েন্দা, হ্যারি আর কিং। ওদের সঙ্গে রয়েছেন মেরিচাচী আর রাশেদ পাশা। সব কথা শোনার পর মেরিচাচী ভীষণ খেপে যাবেন ভেবেছিল রবিন আর মুসা। কিন্তু ওদেরকে অবাক করে দিয়ে আশ্চর্য রকম শান্ত রয়েছেন তিনি।
ওই যে, কিশোরের মত ছেলেটা, হ্যারিকে বললেন তিনি। পিটার মনটেরো, আপনার দেশের লোকের কাছে খুবই মূল্যবান, তাই না? ভবিষ্যতে দেশটার স্বাধীনতার জন্যে?
হ্যাঁ, মিসেস পাশা, মাথা দোলালো হ্যারি। খুবই দামী। সিভিল ওয়ার ছাড়া একমাত্র ওর বাবাই পারে দেশটাকে স্বাধীন করতে। শান্তি আনতে। কিন্তু ওই কিডন্যাপারগুলো তা চায় না। ওরা চায় ওদের ইচ্ছে মত চালাতে। স্যার মনটেরোর ছেলেকে কিডন্যাপ করে নিয়ে গিয়ে তাকে ওদের কথা শোনাতে বাধ্য করতে। সে জন্যেই পিটারকে উদ্ধার করা এখন এত জরুরী।
কিশোর আর তার বন্ধুরা আপনাদেরকে সাহায্য করেছিল, বলছেন, আর তখনই পিটারকে সহ কিশোরকে তুলে নিয়ে গেছে ওরা?
হ্যাঁ, তাই, জবাবটা দিল কিং।
তাহলে ঠিক কাজই করেছে ছেলেরা, যেন রায় ঘোষণা করলেন মেরিচাচী। ওরা যে আপনাদেরকে সাহায্য করেছে এ জন্যে আমি খুশি। এখন ছেলেদুটো। নিরাপদে ফিরে এলেই আরও বেশি খুশি হই আমি।
বেরিয়ে এলেন ইয়ান ফ্লেচার। গম্ভীর হয়ে আছেন। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশকে সতর্ক করে দিয়েছি। কিন্তু ওরাই বা কি করতে পারবে বুঝতে পারছি না। গাড়িটা কি গাড়ি জানি না। লাইসেন্স নম্বর জানি না। শুধু কিডন্যাপারদের চেহারার বর্ণনা জানিয়ে দেয়া হয়েছে…
আবার সেই একই ব্যাপার, নাক দিয়ে বিচিত্র শব্দ করলেন মেরিচাচী। কিছুই করার নেই আপনাদের। আগের বারও একই অবস্থা হয়েছিল। আপনাদের নাকের নিচে দিয়ে সব কাণ্ড করে চলেছে লোকগুলো, কিছুই করতে পারছেন না আপনারা।
সাধারণত একই জায়গায় আবার ফিরে আসে না কিডন্যাপাররা, মিসেস পাশা। ওরা যে আসবে কি করে বুঝব?
বোঝা উচিত ছিল, চীফের কথা একটুও পছন্দ হচ্ছে না মেরিচাচীর। কিশোর তো বলেইছিল আপনাদেরকে ও সাধারণ কিডন্যাপার নয়। তার কথা। শোনা উচিত ছিল।
