জানি না। রাতে রবিন আর মুসা ছিল এখানেই। ভোর হতেই কোথায় যে গায়েব হয়েছে সৃষ্টিকর্তাও বলতে পারবে কিনা সন্দেহ! আমি তো সাধারণ মানুষ!
কিন্তু আমাদেরকে এখানে দেখা করতে বলেছে ওরা, হ্যারি বলল।
তাহলে আছে কোথাও। ওদের ওয়ার্কশপে দেখুন। বায়ের ওই যে বড় জঞ্জালটা…
থ্যাংক ইউ, বাধা দিয়ে বলল, কিং। যাচ্ছি।
প্রায় দৌড়ে চত্বর পেরিয়ে এসে ওয়ার্কশপে ঢুকল দুজনে। কাউকে দেখল না।
নেই তো! কিং বলল।
ও কি? কান পেতে শুনছে হ্যারি।
কাছাকাছি কোনখান থেকে শব্দটা আসছে। ধাতব শব্দ। সেই সাথে চাপা, গোঙানি।
ওদিকটায়,হ্যারি বলল। ওই বড় পাইপটার কাছে।
পাইপের কাছে এসে খোলা মুখ দিয়ে ভেতরে উঁকি দিল ওরা। হাত-পা বেঁধে। তার ভেতরে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে রবিন আর মুসাকে। টেনে ওদেরকে বের করা হল। মুখের কাপড় খুলে নিতেই প্রায় চিৎকার করে বলল মুসা, কিডন্যাপার!
নিয়ে গেছে ওদেরকে! রবিন বলল।
ওদেরকে? কিং বলল, পিটার আর কিশোরকে? কোথায়? কখন?
পাঁচ মিনিটও হয়নি, ককিয়ে উঠল মুসা। হয়ত আরও কম। কে কিশোর আর কে পিটার বুঝতে পারেনি, তাই দুজনকেই ধরে নিয়ে গেছে?
কথা বলতে বলতেই রবিন আর মুসার বাঁধন খুলছে দুজনে। হ্যারি। জিজ্ঞেস করল, কোথায়?
জানি না!
কি গাড়ি? লাইসেন্স নম্বর রেখেছ?
গাড়িটা দেখতেই পারিনি! জবাব দিল রবিন।
বেশি দূর যেতে পারেনি, কিং বলল। পুলিশকে…
মুসা! তাকিয়ে রয়েছে হ্যারি। তোমার বুকে ও কিসের আলো? এত লাল…
ইমারজেন্সি লাইট, মুসা, চেঁচিয়ে উঠল রবিন। নিশ্চয় কিশোর! অন সুইচটা টিপে দিয়ে ডিরেকশনাল ডায়ালটা দেখ!
শার্টের বুক পকেট থেকে খুদে যন্ত্রটা বের করল মুসা। অনিয়মিত ভাবে জ্বলছে নিভছে লাল আলো। সুইচ টিপতেই টিইইপ টিইইপ শুরু করল। ডায়ালের। তীরটা ঘুরে গেল রকি বীচের কেন্দ্রের দিকে।
বেশ জোরাল! মুসা বলল। তার মানে বেশি দূর যেতে পারেনি!
শহরের দিকে চলেছে, বলল রবিন। কিং, জলদি! ওদের পিছু নেয়া যাবে। এখনও সময় আছে।
ওয়ার্কশপ থেকে ছুটে বেরোল চারজনে। ক্যাডিলাকে এসে উঠল। মুসার চোখ সিগন্যাল ডায়ালের দিকে। স্পষ্ট সংকেত দিচ্ছে যন্ত্রটা।
ওদিকে, হাত তুলে দেখাল মুসা। সোজা শহরের দিকে।
দ্রুত গাড়ি চালাল হ্যারি। কিং তাকিয়ে রয়েছে ডায়ালটার দিকে। কি যন্ত্র? কিভাবে কাজ করে?
একই সঙ্গে দুটো কাজ করে এটা, বুঝিয়ে বলল রবিন। ডিরেকশনাল সিগন্যাল আর ইমারজেন্সি অ্যালার্ম। সংকেত পাঠাতেও পারে গ্রহণও করতে পারে। এখন ওটা কিশোরের পাঠান সংকেত ধরছে। টিপ টিপ করছে সে জন্যেই। যতই কাছাকাছি যাব জোরাল হবে, সংকেত। কোনদিক থেকে সংকেত আসছে। সেটা নির্দেশ করবে তীরটা। ইমারজেন্সি অ্যালার্ম হিসেবেও কাজ করে যন্ত্রটা, কণ্ঠস্বরেই চালু হয়ে যায়, ভয়েস কমাণ্ড। আলোটা জ্বলছে তার কারণ কিশোর এখন বলছে…
না না বলো না! চেঁচিয়ে বাধা দিল মুসা, তাহলে কিশোরের সিগন্যাল অফ হয়ে যাবে!
ঢোক গিলল রবিন। তাই তো! হেল্প শব্দটা বলতে পেরেছে হয়ত কিশোর, যন্ত্রের কাছে।
ডানে, হ্যারি, আচমকা নির্দেশ দিল মুসা। বিড়বিড় করল আনমনে, শব্দ বাড়ছে। মনে হয় থেমে গেছে কিডন্যাপাররা।
ভ্রূকুটি করল কিং। যন্ত্রগুলো একাধারে প্রেরক এবং গ্রাহক, তাই তো বললে? রবিন, কিশোর একটা যন্ত্র ব্যবহার করছে, তাই না? যেন নিজেকেই কথাগুলো বোঝাচ্ছে সে। অ্যাক্সিডেন্টালি ওর সিগন্যাল যদি বন্ধ করে দিই আমরা কি ঘটবে?
অফ হয়ে যাবে ওর বীপারটা, রবিন বলল। কিডন্যাপাররা কিছু শুনতে পাবে না। পকেট ভালমত লুকানো থাকলে আলো জ্বলাও দেখতে পাবে না।
আশা করি ভালমতই লুকানো আছে, কিং বলল ধীরে ধীরে। কারণ। সাংঘাতিক ঝুঁকি নিয়েছে ও। মারাত্মক। অ্যাক্সিডেন্টালি আমরা একটা গোলমাল করেও দিতে পারি। তাহলে সংকেত দিতে শুরু করবে ওর যন্ত্র। আর সেটা কিডন্যাপারদের চোখে পড়ে গেলে, ওরা বুঝতে পারলে একটা সংকেত পাঠানোর যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, ভয়ানক বিপদ হবে কিশোরের। বুঝে যাবে কোন ছেলেটা কিশোর!
মুখ শুকিয়ে গেল রবিনের। এ কথাটা ভাবেনি। তাগাদা দিল হ্যারিকে, জলদি, আরও জোরে চালান!
.
কিডন্যাপারদের ভাড়া করে আনা নীল লিংকন গাড়িটা একটা সেলফ-সার্ভিস ফিলিং স্টেশনে ঢুকল। পেছনের সীটে বসে রইল, কিশোর আর পিটার, জনের সঙ্গে। ডেভ নেমে গিয়ে ট্যাঙ্কে পেট্রল ভরতে শুরু করল। কেউ এল না গাড়িটার কাছে।
সত্যি কথাটা বললে তোমাদের দুজনের জন্যেই ভাল হত, জন বলল।
সাহায্য আসছে, কিশোর বলল। আমি জানি, আসছেই। বেশিক্ষণ লাগবে না।
আমিও জানি, একমত হলো পিটার। আমার বন্ধুরা আসবেই।
আসতে দেরি হলেই বুঝবে মজা, খেঁকিয়ে উঠল ডেভ। এখনও সময়। আছে। কিশোর বেরিয়ে যেতে চাইলে তাকে চলে যেতে দেব আমরা। পরে আর সুযোগ দেয়া হবে না। এক সময় না এক সময় জানতে পারবই আমরা কোনজন। কিশোর। তখন তাকে মেরে ফেলা হবে।
কে বিশ্বাস করে আপনার কথা, পিটার বলল।
আমিও না, কিশোর বলল। আমি যে কিশোর, একথা বললেই আপনারা ছেড়ে দেবেন, মোটেও বিশ্বাস করি না আমি। সাপকে বিশ্বাস করা যায়, আপনাদেরকে না। ভয় করি না। সাহায্য আসবেই।
গাধার মত কথা বল না। ধমকে উঠল জন। কোত্থেকে সাহায্য আসবে? আর ভয়টা কিসের পাচ্ছ, শুনি? পিটার কে, সেটা জানলেও আমরা তার ক্ষতি করব না। বাঁচিয়ে রাখব আমাদেরই স্বার্থে। কারণ মেরে ফেললে তাকে দিয়ে আর কোনও কাজ হবে না। বল, কে পিটার?
