সুড়ঙ্গমুখ দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে এল রবিন। হ্যারির সঙ্গে কথা বললাম, উত্তেজিত কণ্ঠে বলল সে। কিংকে নিয়ে এখুনি চলে আসবে বলেছে। পিটারকে নিতে।
কিন্তু আমি যে যেতে চাই না, পিটার বলল। তোমাদের হেডকোয়ার্টার ভারি পছন্দ হয়েছে আমার। দেখার অনেক কিছু বাকি। ভাবছি আজ সারাদিন ধরে দেখব। ওয়ার্কবেঞ্চের নিচে ঝুঁকে একটা জিনিস দেখিয়ে বলল, এটা কি?
দেশলাইয়ের বাক্সের সমান কালো একটা বাক্সমত জিনিস বের করল সে।
ওটা? বলতে চাইল মুসা, ওটা-ওটা–কিশোর, কি জিনিস?
ছোট বাক্সটা দেখতে লাগল রবিন। এটা…এটা…
তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে জিনিসটার দিকে তাকিয়ে রয়েছে কিশোর। সতর্ক হয়ে গেছে। এটা আমাদের জিনিস নয়! বাগ!
বাগ? ভুরু কোঁচকাল পিটার। ইংরেজিতে বাগ মানে তো পোকা, গোবরে পোকা, তাই না?
শ্রবণ যন্ত্রকেও বলে, বুঝিয়ে দিল কিশোর। এক ধরনের রিমোট মাইক্রোফোন। দূর থেকে চুরি করে কথা শোনার কাজে ব্যবহার করে স্পাইরা। নিশ্চয় আমাদের কথা শুনছে কেউ। জলদি চল! বেরোতে হবে…
ওয়ার্কশপের বাইরে থেকে কথা বলে উঠল কেউ। পরিচিত কণ্ঠ। তাড়াহুড়ো করে লাভ নেই, বুঝলে। পালাতে পারবে না।
ওয়ার্কশপের দরজায় দেখা দিল লোকটা। বেঁটে, কোকড়া বাদামী চুল। তার পেছনে এসে দাঁড়াল পাতলা লম্বা লোকটা। সেই দুই কিডন্যাপার, কিশোরকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল যারা।
দুজনের হাতেই পিস্তল।
.
১৫.
গুড, কুৎসিত হাসি হাসল বেঁটে লোকটা। সবাই আমরা এখানে রয়েছি।
ডেভ, লম্বু বলল। মনে হয় আমাদের লোককে পেলাম।
সেরকমই তো লাগছে।
এই ছেলেগুলোর কাছে কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত আমাদের, লম্বা লোকটা বলল, তিন গোয়েন্দার কথা। চালাক ছেলে। ওরা না থাকলে আমরা বেরই করতে পারতাম না। অনেক সহজ করে দিল আমাদের কাজ।
ওদেরকে তাহলে ধন্যবাদ দেয়া দরকার, হেসে উঠল ডেভ।
যেন খুব উপভোগ করছে দুই উগ্রপন্থী।
হ্যারি আর কিং না আসা পর্যন্ত এদের আটকে রাখা দরকার, বুঝতে পারছে। তিন গোয়েন্দা। গরম হয়ে রবিন বলল, এসব করে পার পাবেন না আপনারা!
স্যার মনটেরোকেও বাগে আনতে পারবেন না, ফুঁসে উঠল মুসা।
ছেলেটাকে নিয়ে পার হয়ে যেতে পারলেই আমরা খুশি, ডেভ বলল। তারপর স্যার মনটেরো কথা শোনে কিনা দেখা যাবে।
হাসল খাটো কিডন্যাপার। পিটারের দিকে তাকাল, তারপর কিশোরের দিকে। অন্য লোকটাও দেখছে দুজনকে। কিশোরের চোখ চকচক করছে দেখতে পেল রবিন আর মুসা।
তুমি খুব চালাক, কিশোর পাশা, ডেভ বলল। তোমাদের মধ্যে কে, পিটার সেটা গোপন করতে চাইছ। ভেবেছ আমরা বের করতে পারব না। হেলিকপ্টারটা ফেলে রেখে আবার এখানে ফিরে এসে ভালই করেছি বুঝতে পারছি। খবরের কাগজ দেখেছি। ভুল বুঝতে পেরেছি। জানলাম, মাস্টার মনটেরো এখনও এই এলাকাতেই আছে। পুলিশ কল্পনাই করেনি ওদের নাকের নিচে রয়েছি আমরা। ওরা আমাদেরকে অন্য জায়গায় খুঁজছে, আর আমরা পিটারকে খুঁজতে লাগলাম এখানে। ঠিক জায়গায়।
হ্যারি আর কিংকে দেখে ফেললাম আমরা, হেসে যোগ করল জন। ওদের। সঙ্গে যোগ দিলে তোমরা, তিন গোয়েন্দার কথা বলল সে। বুঝে গেলাম আগে হোক পরে তোক পিটারের কাছে আমাদেরকে নিয়ে যাবেই তোমরা। এই ইয়ার্ডে অনেক লোক আসে। তাদের ভিড়ে ঢুকে পড়াটা কোনও ব্যাপারই না। ঢুকলাম। তোমরা তখন পিটারকে খুঁজতে এতই ব্যস্ত আমাদেরকে লক্ষই করলে না।
আপনাদের দেখেছি। রেগে গেল মুসা।
ঝোপের ভেতর ছিলাম চেহারা তো আর দেখনি। চিনবে কি করে? যাই হোক, তোমাদেরকে আমি ভাল করেই দেখেছি। কি করতে চলেছ বুঝেছি। এক ফাঁকে ঢুকে পড়লাম তোমাদের ওয়ার্কশপে। বাগটা ফেলে রাখলাম বেঞ্চের তলায়। তারপর তোমাদের অনেক আলোচনাই শুনেছি।
বিশাল এক জঞ্জালের স্তূপের দিকে পেছন করে দাঁড়িয়ে রয়েছে দুই কিডন্যাপার। চট করে কিশোরের দিকে তাকাল রবিন। এক ধরনের ফাঁদ পাতা আছে ওই জঞ্জালে। বিপদে পড়লে প্রয়োজনের সময় যাতে শত্রুর ওপর টান মেরে ফেলে দিতে পারে সেই ব্যবস্থা করে রেখেছে। মাথা নেড়ে নিষেধ করল কিশোর। দুজন পিস্তলধারী লোক, ভয়াবহ বিপজ্জনক, ঝুঁকি নেয়া ঠিক হবে না। তবে তার চোখ জ্বলজ্বল করতে দেখল রবিন। কি প্ল্যান করেছে গোয়েন্দাপ্রধান?
পুলিশ আপনাদেরকে হন্যে হয়ে খুঁজছে, সময় নষ্ট করার জন্যে বলল মুসা।
জানি, জবাব দিল ডেভ। আমাদের টিকিও ছুঁতে পারবে না। আমরা যাকে চাই তাকে পেয়ে গেছি।
আমাদের কিছু করতে পারবে না ওরা, জন বলল দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে।
পিটার, চল, আর দেরি করতে পারছি না, ডেভ বলল।
চালাকির চেষ্টা করবে না কেউ, হুশিয়ার করল জন। গুলি করতে দ্বিধা করব না আমরা বুঝতেই পারছ।
তা পারছি, এগিয়ে গেল পিটার। চলুন, যাচ্ছি।
তার পাশে এসে দাঁড়াল কিশোর, হ্যাঁ, চলুন।
কিশোর, পিটার বলল। আমার জন্যে তোমার এতবড় ঝুঁকি নেয়া ঠিক হবে। ওরা এত বোকা নয়। ঠিক বুঝে গেছে আমিই পিটার।
মস্ত বড় অভিনেতা কিশোর। বিখ্যাত পরিচালক মিস্টার ডেভিস ক্রিস্টোফারকে পর্যন্ত বোকা বানিয়ে দিয়েছিল তার ভাতিজা সেজে। জন আর ডেভ তো কিছুই না। পিটারের কথার টান নকল করে ফেলল সে অবলীলায়, তুমি সরো তো কিশোর। আমিও জানি ওরা বোকা নয়। ঠিকই বুঝতে পেরেছে কে পিটার।
কিশোর! প্রতিবাদ করল পিটার। ওদেরকে বোকা বানানোর চেষ্টা করে লাভ নেই। আমি যে পিটার বুঝতে পেরেছে। পেরেছেই।
