গোয়েন্দা? অবাক হয়েছে পিটার। সত্যি?
এই যে আমাদের কার্ড, পকেট থেকে বের করে দিল কিশোর।
দারুণ তো! তোমরা আমেরিকানরা খুব মজার মজার কাণ্ড কর। সত্যিই গোয়েন্দা?
সত্যিই গোয়েন্দা, জবাব দিল রবিন। তোমাকে খুঁজে বের করতে আমাদেরকে ভাড়া করেছে কিং আর হ্যারি। তুমি ভেবে কিডন্যাপাররা কিশোরকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর।
তাই নাকি? কিশোরকে কিডন্যাপ করেছে?
সংক্ষেপে সব কথা পিটারকে জানাল কিশোর। মন দিয়ে শুনল ছেলেটা। তারপর বলল, তাহলে তোমরাই বের করেছ জ্যাঙ্গাস প্লেস বলে আমি কি বোঝাতে চেয়েছি। বের করেছ রেড লায়নের আলমারিতে আঁকা ট্যাক্সির ছবি। সত্যিই বুদ্ধিমান।
তুমি যে এখানে লুকিয়ে আছ, এটা অবশ্যই বুঝতে পেরেছে আমাদের কিশোর, মুসা বলল গর্বের সঙ্গে।
দারুণ দেখিয়েছ, সত্যি। তো এখন কি হবে? কিং আর হ্যারির সঙ্গে যোগাযোগ করবে, যাতে আমার বাবাকে খবর দিতে পারে?
নিশ্চয়। দুই বন্ধুর দিকে তাকাল মুসা। পিটারকে সোজা মিরামার হোটেলে নিয়ে যেতে পারি আমরা।
সেটা কি উচিত হবে? রবিনের প্রশ্ন। কিডন্যাপারগুলো ইয়ার্ডের বাইরে বসে চোখ রাখতে পারে। হোটেলেও চোখ রাখতে পারে।
তোমার তাই মনে হয়? সতর্ক হয়ে গেল পিটার।
রবিন ঠিকই বলেছে, কিশোর বলল। সেটা হতেই পারে। সহজে হাল ছাড়বে না উগ্রবাদীরা। পিটার এখানেই নিরাপদ। অযথা ঝুঁকি নেয়ার কোনও মানে হয় না। তার চেয়ে বরং হ্যারি আর কিংকে ফোন করি। এখানে চলে আসুক
করব? বলে জবাবের অপেক্ষা না করেই ফোনের দিকে হাত বাড়াল রবিন। মিরায়ার হোটেলে ডায়াল করল। অবাক হয়ে ট্রেলারের ভেতরটা দেখছে পিটার। সাজানো গোছানো চমৎকার একটা ছোটখাট বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার যেন। নানা রকম আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। বিড়বিড় করে আনমনেই বলল, বাইরে থেকে ট্রেলারটা দেখেছি আমি জঞ্জালের নিচে ঘোরার সময়। ভেতরে যে এই অবস্থা কল্পনাই করতে পারিনি!
বাইরে থেকে দেখে যাতে কিছু বোঝা না যায় সেই ব্যবস্থাই করেছি আমরা।
সাংঘাতিক!
রিসিভার রেখে দিল রবিন। কেউ ধরছে না ওদের ঘরে। কোথায় গেছে বলতে পারল না ক্লার্ক। বললাম আবার ফোন করব। মেসেজ দিতে হবে কিনা জিজ্ঞেস করল, দিলাম না। বলা যায় না কার চোখে পড়ে যায়।
ঠিকই করেছ, কিশোর বলল। আমার মনে হয় রেড লায়নে নজর রাখতে গেছে। ফিরে আসবে সময় হলেই। পিটারের দিকে তাকাল সে। তোমাকে আমরা খুঁজে না পেলে কি করতে?
আরও অপেক্ষা করতাম। তারপর নিরাপদ বুঝলে ফিরে যেতাম রেড লায়নে, দেখতাম, আমার মেসেজ পেয়ে ওখান পর্যন্ত কেউ যেতে পেরেছে কিনা।
ঠিক যা তাবছ আমি।
ট্রেড মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না? রবিন জিজ্ঞেস করল।
সেটা একেবারে শেষ অবস্থায় গিয়ে পড়লে। অর্থাৎ বাধ্য হলে। রেড লায়নের কিডন্যাপারগুলোকে দেখেই বুঝে গেছিলাম আমার পাঠানো মেসেজ দেখে ফেলেছে ওরা। বুঝে ফেলেছে। তার মানে কোনও একটা যোগাযোগ রয়েছে জানার। স্পাই আছে ওখানে। কাজেই মিশনকে আর বিশ্বাস করতে পারি না পুরোপুরি।
ড্রয়ার থেকে হাতির দাঁতে তৈরি গহনাটা বের করল কিশোর। বক্স ক্যানিয়নে যেটা পেয়েছিল। পিটারকে দেখিয়ে জিজ্ঞেস করল, চিনতে পারো?
জিনিসটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখল পিটার। নানদাতেই তৈরি হয়েছে, সন্দেহ নেই। চেনাও লাগছে। তবে কোথায় দেখেছি মনে করতে পারছি না।
রবিন, মুসা বলল। অনেকক্ষণ তো হলো। করে দেখ আরেকবার।
আবার মিরামার হোটেলের নম্বরে ডায়াল শুরু করল রবিন।
পিটার দেখতে লাগল ট্রেলারের ভেতরটা। সর্ব-দর্শন নামের পেরিস্কোপটা দেখল, ট্রেলারের ছাত ফুঁড়ে যেটা বেরিয়েছে। দেখল টেলিফোন লাইনের সঙ্গে লাগানো লাউডস্পীকার। ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন ক্যামেরাটার ওপর গিয়ে দৃষ্টি স্থির হলো। এত জিনিস কোথায় পেলে?
বেশির ভাগই বাতিল মাল থেকে নতুন করে বানিয়ে নিয়েছি, মুসা জানাল। ইলেকট্রনিকের জাদুকর বলতে পার কিশোরকে…
আর ইঞ্জিনের জাদুকর মুসা, হেসে যোগ করল কিলোর।
রবিন হলো চলমান জ্ঞানকোষ, মুসা বলল।
তোমরা জিনিয়াস! আরেকবার প্রশংসা করল পিটার।
রিসিভারের মাউথপিসে হাত রেখে ফিরে তাকাল রবিন। ক্লার্ক বলছে, হ্যারি নাকি ফিরেছে। ঘরের দিকে যেতে দেখেছে। কথা বলতে চাইলাম। ধরতে বলল।
ধর, মুসা বলল। আমরা পিটারকে ওয়ার্কশপটা দেখিয়ে আনছি।
দুই সুড়ঙ্গ দিয়ে ওয়ার্কশপে বেরিয়ে এল কিশোর, মুসা আর পিটার। পিটার জানাল এটাতে কখনও ঢোকেনি। লোকজনের সাড়া পেয়ে ঢোকার সাহসই হয়নি আসলে। তিন গোয়েন্দার সঙ্গে যখন ট্রেলারে ঢুকেছে তখনও এখান দিয়ে নয়, ঢুকেছে সবুজ ফটক এক দিয়ে। ওয়ার্কশপের চেহারা দেখে আরও তাজ্জব হয়ে গেল। ছোটখাট একটা আধুনিক কারখানা বলেই মনে হল তার। বেলা হয়েছে। রোদ উঠেছে। পরিষ্কার দিনের আলোয় বেরিয়ে কেমন যেন অস্বস্তি বোধ করতে লাগল সে। ভয় ভয় করছে। প্রশ্ন করল, আমি এখানে নিরাপদ?
কেন নয়? কিশোর বলল, এখানে কেউ তোমাকে দেখতে পাবে না। ইয়ার্ডের চারপাশ ঘিরে বেড়া আছে দেখেছই তো। তার ওপর রয়েছে জায়গায় জায়গায় জঞ্জালের স্তূপ। এর ভেতরে কেউ দেখতে পাবে না।
হাসল বটে পিটার, তবে তেমন আশ্বস্ত হয়েছে বলে মনে হলো না। তাকিয়ে। তাকিয়ে দেখছে ওয়াকর্শপের জিনিসপত্র। সাজিয়েছ বটে!
