ব্রতীন বিছানার ওপরে হুমড়ি খেয়ে খামচে-খামচে একশো টাকার নোটগুলো তুলে নিল। কাঁপা হাতে খসখস শব্দ করে গুনে নিল। তারপর বিশ্বনাথের দিকে এগিয়ে দিল: ‘ওয়ান থাউজ্যান্ড…।’
বিশ্বনাথ টাকাটা গুনে পকেটে রাখলেন। টাকাটা নেওয়ার সময় ওঁর কানদুটো কেমন গরম হয়ে উঠল। মনে হল যেন, পৃথিবীর আদিম ব্যবসায় নেমে পড়েছেন। টাকার বিনিময়ে খদ্দেরকে সন্তুষ্ট করা।
‘কনভার্টেড ভ্যাম্পায়াররা এরকম এজেড হয় নাকি?’ ব্রতীন নার্ভাসভাবে জিগ্যেস করল।
বিশ্বনাথ ওর দিকে তাকাতেই খেয়াল করলেন, ব্রতীন ওঁকে খুঁটিয়ে দেখছে।
বিশ্বনাথ ধীরে-ধীরে নার্ভাস ভাবটা কাটিয়ে উঠছিলেন। নিজেকে বুড়ো ভাবতে এখনও রাজি নন। তাই ব্রতীনের কথার ‘এজেড’ শব্দটা ওঁকে একটু খোঁচা দিয়েছিল।
‘তা আপনি কি পঁচিশ-ছাব্বিশের টগবগে ইয়াং লেডিকে আশা করেছিলেন নাকি?’
ব্রতীন এই পালটা প্রশ্নে মোটেই আহত হল না। বরং সরলভাবে বলল, ‘না, আমি তো ঠিক জানি না…মানে, আগে কখনও বাইট নিইনি…তাই। আপনি কিছু মাইন্ড করবেন না, প্লিজ…।’
ছেলেটার কথায় বিশ্বনাথের কেমন যেন মায়া হল। বুঝতে পারলেন, এটাই ওর ভার্জিন বাইট। বিশ্বনাথের আরও কিছু বলতে ইচ্ছে করছিল, কিন্তু বললেন না। স্পেশাল সেল-এর নির্দেশ মনে পড়ল: ‘ক্লায়েন্টদের সঙ্গে প্রফেশন্যাল প্রয়োজনের বাইরে একটি কথাও নয়। ডোন্ট ওয়েস্ট আ সিঙ্গল মোমেন্ট। ইট ইজ অ্যান ইমপরট্যান্ট সেফটি রুল…।’
বিশ্বনাথ চোখ থেকে চশমাটা খুলে পকেটে ভরে নিলেন। তারপর ব্রতীনের কাছে এগিয়ে গেলেন।
টের পেলেন ঘামতে শুরু করেছেন। বুকের ভেতরে হাপর চলছে। রেণুকণার কথা মনে পড়ে গেল হঠাৎ। এরকমই হাপর চলেছিল ওকে প্রথম জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়ার সময়।
ব্রতীন ঠিক বুঝতে পারছিল না, চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আর কী ওর করার আছে। ওর চোখের নজরে কেমন যেন একটা হতবুদ্ধি ভাব ছায়া ফেলছে। একজন কিশোরীর মতো অস্বস্তি নিয়ে ও ভার্জিন বাইটের জন্য অপেক্ষা করছিল।
ব্রতীন মাথাটা ডানদিকে সামান্য হেলিয়ে দিল। বিশ্বনাথ ওর কণ্ঠার হাড় দেখতে পেলেন। বাঁ কানের লতির ইঞ্চিতিনেক নীচে ফরসা কোমল জায়গাটায় মনোযোগ দিয়ে তাকালেন। এইরকম জায়গায় ঠোঁট রেখে রেণুকণাকে আদর করেছেন অসংখ্যবার। কখনও-কখনও মৃদু দংশনও করেছেন।
আজ রেণুকণার বদলে একজন পুরুষ। আর দংশনও বিষাক্ত।
আর দেরি করলেন না বিশ্বনাথ। ব্রতীনের দু-কাঁধে হাতের ভর রেখে মুখ নীচু করলেন। ঠোঁট ছোঁয়ালেন ঘাড় আর কাঁধের জোড়ের কাছটায়। তারপর ঠোঁট ফাঁক করে শ্বদন্ত উঁচিয়ে ধরলেন।
ঠিক তখনই আড়চোখে আয়নাটার দিকে কেন তাকিয়েছিলেন কে জানে! সেখানে দেখা গেল একজন সুঠাম প্রৌঢ়ের মুখ। হাঁ করার ফলে মুখের চারপাশে কয়েকটা ভাঁজ পড়েছে। গালে খোঁচা-খোঁচা দাড়ি। বাঁ-গালে একটা ছোট তিল।
সবই ঠিক ছিল—শুধু একটা জায়গায় বিশ্বনাথ ধাক্কা খেলেন। আয়নার প্রৌঢ়ের চোখে তৃষ্ণা মেটানোর আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে।
বিশ্বনাথ আর ভাবতে চাইলেন না। ওঁর নাকে ব্রতীনের ঘামের গন্ধ আসছিল। সেই গন্ধটাই কোন অজানা কৌশলে ফেরোমোনের কাজ করছিল যেন। বিশ্বনাথকে টানছিল।
আর অপেক্ষা করতে পারলেন না। দাঁত বসালেন।
ছোট্ট করে ‘আঃ’! শব্দ করল ব্রতীন। যন্ত্রণা আর আমেজে ওর চোখ বুজে গেল।
ভালো করে কামড় দিলেন বিশ্বনাথ। বুঝতে পারলেন, ভ্যাম্পয়ার সিরাম গ্ল্যান্ডে চাপ পড়ছে। একইসঙ্গে টের পেলেন, কামড়টা তোশকের তুলনায় অনেক—অনেক ভালো লাগছে। একটা উত্তেজনার ঢেউও যেন খেলা করছে বিশ্বনাথের শরীরে।
ব্রতীনকে আরও জোরে আঁকড়ে ধরলেন। দুটো পুরুষ-শরীর ক্রমে জট পাকিয়ে যেতে লাগল। কেউ দেখলে ভাববে, সমকামী টানে শঙ্খ লাগা দুটো মানুষ।
আবার কামড় বসালেন বিশ্বনাথ। তারপর আবার।
স্পেশাল সেল-এর এটাই নিয়ম। মোট তিনবার। বোধহয় নেশাটাকে সুনিশ্চিত করার জন্য।
দ্বিতীয় কামড়ের পরেই রক্তের নোনা স্বাদ পেলেন। এই স্বাদটা যতটা জঘন্য লাগার কথা ততটা লাগল না। বরং ব্রতীনের ঘাড় থেকে মুখ তোলার পর দাঁতে এবং ঠোঁটে লেগে থাকা রক্ত জিভ দিয়ে দিব্যি চেটেপুটে মুছে নিলেন।
বিশ্বনাথের হাতের বাঁধনে ব্রতীন এলিয়ে পড়েছিল। বিশ্বনাথ অনায়াসে ওর শরীরটা তুলে নিয়ে বিছানায় ঢেলে দিলেন। পকেট থেকে চশমাটা বের করে চোখে দিলেন। তারপর সঙ্গে তার নিয়ে আসা স্টিকিং প্লাস্টার এঁটে দিলেন ব্রতীনের ক্ষতচিহ্নের ওপরে।
শরীরটা একটু দুর্বল লাগছিল। মাথাটাও যেন ঝিমঝিম করছিল খানিকটা। এগুলো বাইটের আফটার এফেক্ট। স্পেশাল সেল তাই বলেছিল।
নিজেকে সামলাতে দশ কি পনেরো সেকেন্ড সময় নিলেন। বিছানায় শিশুর মতো অসহায় ভঙ্গিতে শুয়ে থাকা ব্রতীনের দিকে একবার তাকালেন। ঘুমন্ত ছেলেটার মুখ দিয়ে তৃপ্তির একটা ‘উঁ-উঁ’ শব্দ বেরিয়ে আসছে।
বিশ্বনাথ হঠাৎই অবাক হলেন। গায়ের শক্তি কি বেড়ে গেছে? নইলে ব্রতীনকে এত সহজে পাঁজাকোলা করে তুলে বিছানায় শুইয়ে দিলেন কীভাবে? ডক্টর মালাকার তো গায়ের জোর বেড়ে যাওয়া নিয়ে কোনও কথা বলেননি! তা হলে কি এটা হিসেবের বাইরের কোনও ঘটনা? সি. ভি. অপারেশানের পর যে-যে পরিবর্তনগুলো হওয়ার কথা তার বাইরেও কি কিছু-কিছু হয়ে যায়? ব্যাপারটা কি চান্স ফ্যাক্টর, না হিউম্যান ফ্যাক্টর?
