সুমনের চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। থরথর করে ঠোঁট কাঁপছে। ও পড়তে শুরু করল ও
বাবা সুমন, ইচ্ছে না করলেও অনেক কষ্টে তোকে ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে। রে। তোর বাবা রইলেন, ওঁকে দেখিস। লেখাপড়া করবি মন দিয়ে। কারণ, অনেক বড় হতে হবে তোকে, অনেক বড়। এখন তুই বড় হয়েছিস, আমার কথা নিশ্চয়ই বুঝবি। অনেক ত্যাগ স্বীকার করে তোর বাবা তোকে বড় করেছেন। সেই ত্যাগের মর্যাদা তুই দিস। আমি অকালে চলে গেলাম। তোর জন্যে কিছুই রেখে যেতে পারলাম না। শুধু অনেক সাধ নিয়ে লেখা এই চিঠিটা ছাড়া। তোকে দেখতে ভীষণ ইচ্ছে করছে রে। ভালো হয়ে থাকিস, সোনা আমার। আজ তা হলে আসি।
ইতি–মা-মণি।
একটা হলদে বিবর্ণ কাগজে এতখানি স্নেহ, মমতা ও ভালোবাসা থাকতে পারে ভাবতে পারেনি সুমন। ও চোখ তুলে মায়ের ছবির দিকে তাকায়। চোখের জলে ছবিটা ঝাপসা হয়ে গেছে। চোখ দুটো জ্বালা করছে। ও টের পেল বাবা ওকে কাছে টেনে নিয়েছেন। মাথায় পিঠে হাত বোলাচ্ছেন। বাবার কোলে মুখ লুকিয়ে ডুকরে কেঁদে ওঠে সুমন, মা, মা-মণিগো, তোমার কথা আমি রাখব। নিশ্চয়ই রাখব। তুমি দেখে নিয়ে!
সুমন টের পায়, ওর বাবার শরীরটাও ওর মতো থরথর করে কাঁপছে। ওর ছোট্ট মাথা ভিজে ওঠে বাবার চোখের জলে।
