তখখুনি কিনতু মাথায় এলো ফনদিটা। মানে ফরসা হওয়ার কায়দাটা। কাউকে এখোন বলবো না। কিনতু মাকে বোলতেই হবে, কারণ মাকে আগে ফরসা করতে হবে।
*
বেশী চ্যাপটা করলে বাচচাদের ভালো লাগে তাই আরো একটা চ্যাপটা কোরলুম। বুটুর ভাল লাগবে। কিনতু আর একটু কঠিন কোরতে হবে লেখাটাকে। বেশি কোঠিন হচছে না। পাপিয়া লিখতে সুরু করেছে। ও আমাদের খেলার কথা আর ভিকু খোঁড়ার কথা লিখছে। সুমি নীলাদি কবে ওকে লজেনস দিয়েচিলো সেকথা লিখছে। কণি কিনতু ওদের কুকুর আর বেড়ালটার কথা লিখেছে খালি। একদিকে ভালোই হয়েছে। সব রকমের লেখা থাকা ভালো। আজ সককালে মার হাত কেটে গেচিল তরকারি কুটতে গিয়ে। ঠিক বাবার মতোন রকতো পড়চিলো খুব। কিনতু একই রকতো ঠিক বাবার মতোন। যারা ফরসা তাদের রকতো আর যারা কালো তাদের রকতো কি একই রকোম হয়। তাই হবে বোধহয়। তাই মা আর বাবার রকতো একইরকম লাল। রকতো পড়ে পড়ে মার হাতটা সাদা হয়ে গেলো। ব্যানডেজ বেঁধেও রকতো বনধো হচছে না। শেষে অনেক পরে বনধো হলো রকতোটা। মা যনতোনায় মুখ কুচকে রইলো। এটটু পরেই মাকে বললাম ফনদিটা। শুনে মা এতো বকলো যে কি বলবো। মাকে বলেচিলুম মা আমার হাতটা তুমি অমনি করে কেটে দাও তবে আমার হাতটাও সাদা ফরসা হয়ে যাবে। বকুনি খেয়ে মন খারাপ হয়ে গেল। বুটুকে নিয়ে বাইরে চলে এলাম। এখন আর তাহোলে লিখবো না। বোধহয় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম আমি তাই ঘুম ভেঙে গেল চিৎকারে। আমি রোজ মার পাশে বুটুকে নিয়ে শুই। আজও তাই। ঘরে শুধু একটা পিদিম জ্বলচে। সেই আলোয় দেখি মা বিছানায় বসে কাঁদছে আর বাবা ঘরময় ঘুরে বেড়াচে ঠিক যেন কণিদের এলসিয়ান কুকুরটা। বুটুর কানে হাত চাপা দিলাম যাতে ওর ঘুম না ভেঙে যায়, উঠে পড়ে। বাবা চেঁচিয়ে বলচিলো–রোজ রোজ আমি সঝঝে কোরবো না। আজ আমার চাই। কোথায় আছে বলো শিগগিরি। মা কাঁদচিলো, মুখ তুলে বললো আমার যা আছে সবই তোমার পিণ্ডি গিলতে (বেঁচে থাকলে পিণ্ডি হয় নাকি। পাপিয়ার দাদু তো মারা গেছে। তাই ওরা পিণ্ডি দিয়েচে। পিণ্ডিটা বোধহয় খাবারটাবার কিছু হবে।) যাচছে। আর কত চাও। ছেলেমেয়ের মুখটা একবার দেখবে না। বাবা কণিদের পুসির মতোন দাঁত খিঁচিয়ে বললো–চুপ কর মাগী, কথা বলবি তো জিব টেনে ছিঁড়ে নেবো। কোথায় আছে বের কর। মা একবার পেছন দিকে চেয়ে দেখল আমরা শুয়ে আছি কিনা। আমি চুপ করে শুয়ে চোখ বেশী নয়। অলপো ফাঁক করে দেখচিলুম। তাই মা বুঝতে পারলো না। বাবাকে বললো–ওগো, তোমার পায়ে পোরচি, রাত বিরেতে এখন চেঁচামেচি কোর না। ওরা উঠে পোড়বে। একটু থেমে মা আবার বললো– সবই তো তোমাকে দিয়েছি। যা অলপো সনচয় রেখেছি তা মেয়েটা আর ছোট ছেলেটার জন্য। তাও তুমি ওসব অখাদটো জিনিসের পেছোনে ওড়াবে। আমি বেঁচে থাকতে তা হোতে দেবো না। তুমি নিজে তো একটা অমানুষ, এখন ছেলেমেয়েগুলোকেও অমানুষ করবে। বাবা হঠাৎ এগিয়ে এল। এক হ্যাঁচকায় টেনে তুললো আমাকে আর বুটুকে। টেনে নিয়ে চললো রাননাঘরে। ওখানে মেঝেতে দড়াম করে ফেলে দিয়ে দরজা বনধো করে দিল। তারপর দুপদুপ করে চলে গেল।
এদিকে বুটু ঘুম ভেঙে গিয়ে কাঁদতে শুরু করেছে। আমি তাড়াতাড়ি ওকে ঘুম পাড়াতে লাগলাম। অলপো পরেই ও আবার ঘুমিয়ে পড়লো। আমি বসে রইলুম। কিনতু কিছুই শুনতে পেলাম না।
এইরে, বুটুর জননো লেখা বইয়ে বুটুর কথাই অনেক লিখে ফেলেছি। তবে কোন ভয় নেই। বাঁধাবার আগে যখন পুফ (সুমিদের পেরেস আচে। ওরা পেসে পুফ দেখে, ঠিক তেমন করে আমিও পুফ দেখবো) দেখবো তখন কেটে বাদ দিয়ে দেবো। নয়তো বুটু হাসবে। এখন আর লিখবো না। ভীষণ ঘুম পাচে। (এখোন কিনতু ঘুম পাঁচচে না। যখোনকার কথা লিখছি তখোন ঘুম পাঁচচিলো তাই লিখলুম। বড়োরাও এমনি লেখে।)
*
সককালে উঠে যা দেখলাম কি বোলবো। এতো মজা আননদো আর খুশি হোল যে আমার নাচতে ইচচে কোরছিলো। সকালে উঠে দেখি রাননাঘরে পড়ে আছি। দরজা তো বাইরে থেকে বনধো। কেমনি করে বেরই। বুটু কিনতু ঘুমোচচে। বাচচা তো। তখনই দেখলুম বেড়ার তলার ফাঁকটা, যেখান দিয়ে ভুলু রাননাঘরে ঢোকে মাংসের হাড় খাবার জননো। চটপট সেখান দিয়ে বেরিয়ে পড়লুম। অমলকাকু যে ফ্রকটা দিয়েছিলো ওটা পরেছিলাম। একটু ছিঁড়ে গেলো। ছুটটে গিয়ে সদর দিয়ে বাড়িতে ঢুকলাম। তারপর রাননাঘরে গিয়ে দরজা খুলে বুটুকে বের করে আনলাম। তারপর শোওয়ার ঘরে গিয়েই আননদোটা হোল। তাড়াতাড়ি বুটুকে বিছানায় শুইয়ে দিলাম তারপর ছুটটে গেলাম মার কাছে। মা শুয়েচিলো আর–আর কি ফরসা। অনেক-অনেক ফরসা। আগের বারের মতোন শুধু হাত নয়, এবার পুরোটা ফরসা।
হটাৎ দেখি একটু দুরে মার আঁচলের চাবিটা পড়ে আচে আর এটটু রকতো। তাহলে বোধহয় মারামারির সময় বাবার হাত থেকে, মার হাত থেকে কাটা থেকে রকতো পড়েছে। বাবা দেখলুম রোজকার মতোনই বাড়িতে নেই। মাকে অনেক ডাকাডাকি কোরলুম–মা, দেখো, তুমি ফরসা হোয়ে গেচো। মা–ওমা। কি মজা এবার। তাহোলে আমিও ফরসা হবো। নীলাদি বোলেছিলো যে তোর মা যদি ফরসা হোত তবে তুইও ফরসা হোতিস। তাহোলে মা তো হয়েই গেছে, এবার আমি হব। বুটুর হওয়ার কোনো দরকার নেই–ও তো ছেলে। যতোককন মা ঘুমোচছে ততক্ষণ এটা লিখে ফেলছি। শেষদিকটা ইচচে করে একটু কঠিন দিলুম। পড়ার বই তো, গলপের বই তো নয় আর। আজ গিয়ে নমিতাকে কোষে বকুনি লাগাবো আমাকে কালি বলার জননো। রোজ রোজ ইয়ারকি ভালো লাগে না। ওকে বোলবো–এত বড় ধেড়ে মেয়ে হোয়ে মিতথে কথা বলিস কেমন করে রে। চোখের ওপর দেখছিস আমি ফরসা তবু কালি বোলচিস, বানচো তোদের কুকুরটার নাম কালি রাখিস। নাঃ, বড়ডো খিদে পেয়ে যাচে। কতোকখন যে বসে থাকতে হবে কে জানে। বাইরে মনে হয় কারা আসছে। একটা গাড়ির আওয়াজ পেলাম। তারপরই গসগস গসগস করে বুটের শবদো। বোধহয় হরিশ কাকুরা বেড়াতে এল। সোততি, কি অবাকই না ওরা হয়ে যাবে মাকে দেখে। কিনতু আর এটটু দেরি কোরে আসতে পারলো না ওরা! ততোকখনে আমিও ফরসা হোয়ে যেতুম। একেই বলে কানডোজ্ঞানহীন এর মতো কাজ করা। মরণ…!
