‘লিলু, তোমার টানের কাছে তড়িৎ চুম্বকও হার মেনে যাবে।’ মজা করে বলল শুভদীপ।
বুঝতে পারছি, ওর দণ্ড চুম্বকের অবস্থা খুব খারাপ। তাই বললাম, ‘এসো, ভেতরে এসো—।’
‘ভেতরে ঢোকার জন্যে আমি ছটফট করছি—’ চোখ মটকে বলল ও। তারপর: ‘আমার কথাটার কিন্তু ডাবল মিনিং…।’
আমি হাসলাম। ওর জন্যে যে কী অপেক্ষা করে আছে তা যদি ও জানত! জানলে নির্ঘাত ও দৌড়ে পালাত এ-বাড়ির দরজা থেকে।
বাইরে ফুটপাথের লাইটপোস্টের পাশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা একটা কালো কুকুর আকাশের দিকে মুখ তুলে মিহি সুরে কেঁদে উঠল। বোধহয় বেচারার শীত করছে।
আমি আবার ওকে ডাকলাম, ‘এসো—।’
আমাকে পাশ কাটিয়ে ভেতরে ঢোকার সময় শুভর বাঁ-হাত যেন অসাবধানে ঘষে গেল আমার বুকে। আমার ঘাড়ের কাছে মুখ নামিয়ে ও জড়ানো গলায় বলল, ‘সুইট উইচ, আই লাভ ইউ। আই লাভ ইউ, লিলু।’
মনে পড়ে গেল, বিশ বছর আগে এক নির্বোধ অষ্টাদশী এই চারটে শব্দ শোনার জন্যে সমরখন্দ বোখারা দিয়ে দিতে পারত। দিতে পারত কেন, দিয়ে দিয়েছিল, আজ এই চারটে শব্দ চারটে লম্বা কালো শুঁয়োপোকার মতো আমার কানে কিলবিল করতে লাগল।
আমি সদর দরজা বন্ধ করে দিলাম।
শুভ আমাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল। বেপরোয়া আদর করতে লাগল দরজার কাছে দাঁড়িয়ে।
আমি কোনওরকমে ওকে ভেতরে শোওয়ার ঘরে নিয়ে গেলাম। নীচু গলায় বললাম, ‘বাড়িতে আর কেউ নেই।’
শুভ এক ঝটকায় ওর শালটা ছুড়ে দিল একটা চেয়ারের ওপরে। পাঞ্জাবিটাও খুলে ফেলল মসৃণভাবে। ওর পরনে শুধু স্যান্ডো গেঞ্জি আর পাজামা। শীতে গায়ে কাঁটা দিয়েছে।
ওর পাজামার দিকে লক্ষ করে বুঝলাম জ্বর বাড়ছে, থার্মোমিটারের পারা উঠছে।
বললাম, ‘তুমি একটুও পালটাওনি, শুভ…।’
‘আমি তোমার ক্রীতদাস, লিলু, তোমার দেখা পেয়ে অনেকগুলো পুরোনো ফুল ফুটে গেছে আমার পোড়ো বাগানে। তুমি আমার প্রথম ভালোবাসা, তুমিই আমার শেষ ভালোবাসা। সুস্মিতাকে কাটিয়ে দেওয়ার ব্যাপারটা আমি খুব সিরিয়াসলি ভাবছি।’
আমি তখন তৈরি করা ‘দ্রব্যটির’ কথা ভাবছিলাম। জিনিসটা বিছানার মাথার কাছে একটা টেবিলে ঢাকা দিয়ে রেখেছিলাম। আমি সেটার দিকে হাত বাড়াতেই শুভ আমাকে জড়িয়ে ধরল আবার। বলল, ‘আর্লি টু বেড…।’
আমি ওর বাঁধন ছাড়াতে-ছাড়াতে বললাম, ‘এক মিনিট, প্লিজ, একটা ছোট কাজ বাকি আছে।’
একটা কাচের বাড়িতে জিনিসটা রেখেছিলাম আমি। ঢাকা তুলে কাচের বাটিটা হাতে নিলাম। তারপর চোখ বুজে মন্ত্রপূত ডেলাটা মুখে পুরে নিলাম। কোনওরকমে চিবিয়ে সেটা গোগ্রাসে গিলতে চেষ্টা করলাম।
শুভ অবাক হয়ে জিগ্যেস করল, ‘ওটা কী খাচ্ছ?’
আমি বললাম, ‘এটা আয়ুর্বেদিক ওষুধ। এটা খেলে বাচ্চা হওয়ার ভয় থাকে না।’
‘লিলু, তুমি সত্যিই লাজবাব!’ উৎফুল্ল হয়ে বলল শুভ।
আমি বাটিটা রেখে দিয়ে টেবিল থেকে জলের জাগ তুলে নিলাম। ঢকঢক করে জল খেয়ে কোনওরকমে গিলে ফেললাম জিনিসটা। মুখের বিস্বাদ ভাবটা কিছুতেই পুরোপুরি গেল না।
শুভ আর দেরি করতে পারল না। আমাকে জড়িয়ে ধরে পাগলের মতো আদর করতে শুরু করল। আমার বুকে মুখ ঘষতে-ঘষতে সেই চারটে শুঁয়োপোকা ছেড়ে দিল বারবার।
আমার তলপেটে চিনচিনে ব্যথাটা হঠাৎই শুরু হয়ে গেল। গা গুলিয়ে উঠতে লাগল। চোখের সামনে হাইস্পিড চলচ্চিত্র ঝিলিক মেরে মিলিয়ে যাচ্ছিল। আর একটা সতেরো-আঠেরোর মেয়ে উবু হয়ে বসে ওর শরীরের ভেতরকার শরীর নষ্ট করার চেষ্টা করছিল।
আমার শাড়ি-ব্লাউজ ইত্যাদি পেশাদার হাতে খুলে ফেলেছে শুভ। আমার নগ্ন শরীর দেখে ওর লালসাও যেন হোঁচট খেয়ে থমকে দাঁড়াল। ও বিড়বিড় করে বলতে লাগল, ‘আটতিরিশে এই ফিগার! লিলু, তুমি সত্যি, না স্বপ্ন?’
ঘরের জানলা-দরজা বন্ধ থাকলেও আমার কেমন লজ্জা করছিল। তাই অনেক কসরত করে বেডসুইচ টিপে ঘরের আলোর নিভিয়ে দিলাম। শুভদীপের তীব্র শক্তি আমাকে কাত করে ফেলে দিল বিছানায়। ও নিজের বাকি পোশাক খুলে এলোমেলোভাবে এদিক-ওদিক ছড়িয়ে দিল।
এবং আমরা শুরু করলাম।
শুভ উত্তেজনায় থরথর করে কাঁপছিল। আমি ওকে চুমু খেলাম। ও পাগলের মতো আমাকে চটকাতে লাগল। আর বরাবর বলতে লাগল, ‘লিলু…লিলু…আমার লিলু…।’
বয়েস শুভদীপের আগ্রহ আর ক্ষমতাকে বিন্দুমাত্রও ভোঁতা করতে পারেনি। ওর তাড়াহুড়োয় আমার ব্যথা লাগছিল, কিন্তু সব সহ্য করলাম। ও ছন্দে নড়তে লাগল! আর আমি নিবিষ্ট মনে গুপ্ত মন্ত্র জপ করে চললাম।
বিড়বিড় করে আমার মন্ত্র আওড়ানো শুনে শুভদীপ একটু ভুল বুঝল। ও ভাবল, আমি ভীষণ উত্তেজিত হয়ে পড়েছি। তাই দ্বিগুণ উৎসাহে নিজের কেরামতির অহঙ্কারে আরও উদ্দাম হয়ে উঠল। খাটে ক্যাঁচ-কোঁচ শব্দ হতে লাগল।
একটু পরেই আমাকে আঁচড়েকামড়ে চিৎকার তুলে শুভদীপ খেলা শেষ করল। আমি কয়েক হাজার মাইল দূর থেকে ওর চরম তৃপ্তির ঘটনা প্রত্যক্ষ করলাম।
কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম ক্লান্ত শরীরে। শুভ কয়েকটা ভালোবাসার চুমু এঁকে দিল এখানে সেখানে। তারপর উঠে বাথরুমে গেলাম। একটু পরে ফিরে এসে শাড়ি-জামাকাপড় পরতে শুরু করলাম।
শুভ বিছানায় বসে সিগারেট টানছিল। আমাকে দেখে আবেগ মাখানো গলায় বলল, ‘লিলু, নতুন করে আবার শুরু করা যায় না?’
আমি বিশ বছরের পুরোনো বমির গন্ধ পেলাম। একমনে শাড়ির কুচি ঠিক করতে লাগলাম। ওর প্রশ্নের কোনও জবাব দিলাম না।
