আরও কিছুক্ষণ বাইক ছোটানোর পর জিশানের টিভি দেখতে ইচ্ছে করল। তিনজন কিলার এখন কী করছে?
কৌতূহল মেটাতে বাইক দাঁড় করাল জিশান। টিভি বের করে অন করল।
পরদায় ভেসে উঠল একটু অদ্ভুত মুখ। মুখ না বলে মুখোশ বলাটাই বোধহয় বেশি ভালো। মাথায় চুলের ধাঁচে তৈরি একটা চকচকে কালো টুপি। মাথায় এমনভাবে এঁটে বসেছে যে, সেটা আদতে টুপি নাও হতে পারে—হয়তো চুলের একটা অদ্ভুত স্টাইল। তবে দেখে মনে হচ্ছে, চুলটা প্লাস্টিক অথবা মেটালের তৈরি। কিংবা প্লাস্টিক আর মেটালের প্লাজমা মিক্সচার ব্যবহার করা হয়েছে।
চোখে কালো চশমা। চশমার কাচ অথবা পলিমার যেন ছোট-ছোট দুটো আয়তক্ষেত্র—চোখ দুটোকে রোদ কিংবা অন্যান্য ক্ষতিকারক রশ্মির হাত থেকে বাঁচাচ্ছে। দু-কানে মেটালের মোটা রিং। ভাঙা চোয়াল। ফিনফিনে পাতলা ঠোঁট—ঠিক যেন মসৃণ চামড়াকে ব্লেড দিয়ে চিরে মুখের রেখা তৈরি করা হয়েছে।
লোকটির গায়ে পলিমারের তৈরি আঁটোসাঁটো চকচকে ফুলহাতা পোশাক—যেন দ্বিতীয় চামড়া, অনেকটা স্কুবা ডাইভারদের মতন। দু-হাতে কালো দস্তানা। পায়ে কালো স্নিকার। আর পিঠে একটা কালো রুকস্যাক।
ক্যামেরা একটু দূরে সরে যেতেই লোকটার পুরো চেহারাটা দেখা গেল: ছিপছিপে, লম্বা—চাবুকের মতো।
টিভির ভাষ্যকার তখন বলছে, ‘বন্ধুগণ, আসুন—কিলার প্রাোটনের সঙ্গে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিই। প্রাোটনের রক্ত ঠান্ডা, বরফের মতো। চোখের নজর দিনে শকুনের মতো, রাতে প্যাঁচার মতো, কারণ, ওর আই গিয়ারে নাইটভিশান ইন্সন্ট্রুমেন্ট ফিট করা আছে। ওর হাতের নখ চোখা এবং শক্ত। বাঘ এবং সাপের সঙ্গে এই নখের মিল রয়েছে, কারণ, ওই জোরালো এবং ধারালো নখের ডগায় বিষ মাখানো আছে। ওই নখের এক আঁচড়ে একটা জোয়ান মানুষ পলকে ছটফটিয়ে ঘুমিয়ে পড়বে।
‘কিলার প্রাোটন এতক্ষণ ধরে জিশানের স্ট্র্যাটেজি ওয়াচ করছিল, আর নিজের স্ট্র্যাটেজি ক্যালকুলেট করছিল, তৈরি হচ্ছিল মনে-মনে। এবার কিলার প্রাোটন অ্যাকশানে নেমেছে। সো কনটিনিউ ওয়াচিং দ্য কিল গেম, ফোকস। খেলা ক্রমশ আরও এক্সাইটিং হয়ে উঠছে…।’
