‘আমি টাওয়ার কোম্পানির গোডাউনের কাছে—খালধারে…।’
জায়গাটা সুখারামের চেনা।
পোড়া বস্তি থেকে খালধার বরাবর দেড় কি দু-কিলোমিটার উত্তরদিকে টাওয়ার নামে একাট বিয়ার কোম্পানির অফিস ছিল। তার পাশেই ছিল ওদের বিশাল গোডাউন।
সবই ‘ছিল’, কারণ এখন আর কিছুই নেই। বছর দশেক আগে ওই গোডাউনে আগুন লাগে। সেই দাউদাউ আগুন সব গিলে ফেলেছিল। তারপর থেকে শুধু গোডাউনটার পোড়া কংকাল পড়ে আছে। শোনা যায়, গোডাউনের ওই কংকালের ভেতরে মানুষের কয়েকটা পোড়া কংকাল থাকলেও থাকতে পারে। রাতে ওটার পাশ দিয়ে গেলে নাকি এখনও আগুনে পোড়া মানুষের চিৎকার শোনা যায় আর মাংস পোড়া কটু গন্ধ পাওয়া যায়।
‘ও. কে., বস—।’ বলে ফোন কেটে দিল সুখারাম। বাইকে স্টার্ট দিয়ে ক্লাচ চেপে গিয়ার দিল। বাইক ছুটতে শুরু করল।
সুখারামের বড় অদ্ভুত লাগছিল। মুখে ঠান্ডা বাতাসের ঝাপটা, পিঠে জ্বালা, মাথায় আগুন, বুকে প্রতিশোধের বিষ, অথচ মনটা ঠান্ডা ইস্পাতের মতো শান্ত।
শরীরটা ক্লান্ত হলেও সুখারাম রোবটের মতো একগুঁয়েভাবে শরীরটাকে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল।
কোথায় তুই, বদনোয়া? কোথায়?
