না, এখন সুখারাম ওখানে যাচ্ছে না। কারণ, এখনও হয়তো মাঠে মদনোয়ার ডেডবডি পড়ে রয়েছে। এখনও হয়তো মাঠে গজল্লা চলছে।
তাই এখন ও সাইকেল ভ্যান নিয়ে খানাখন্দে ভরা অন্ধকার নির্জন রাস্তাগুলোয় ঘুরে বেড়াবে। কিংবা কোথাও গাড়ি লাগিয়ে বিশ্রাম নেবে। তারপর রাত অনেক গাঢ় হলে কোনও সস্তার হোটেলে খাওয়াদাওয়া সেরে ওর নতুন আস্তানায় গিয়ে ঢুকবে।
অনেকক্ষণ ধরে গাড়ি চালানোর পর একটা লোহালক্কড়ের স্তূপ দেখতে পেল সুখারাম। তার পাশে একটুকরো ফাঁকা জায়গা। কী ভেবে সেখানে একটু আড়াল করে গাড়িটা লাগাল। তারপর গাড়িতেই চিৎপাত হয়ে শুয়ে পড়ল, থলেটা মাথার নীচে দিয়ে আকাশের দিকে চেয়ে রইল।
মেঘ সরে গিয়ে তারা ফুটেছে। কালো আকাশে সোনার কুচি জ্বলছে। ওদের দিকে তাকিয়ে মনে যে-আনন্দ পাওয়া যায় সেটা সবার জন্য—সেখানে গরিব-বড়লোক কোনও ভাগাভাগি নেই। কিন্তু মাঝে-মাঝে ওর মনে হয়, ইস, ওরা যদি অল্প-অল্প বড়লোক হত তা হলে খুব ভালো হত। বেশ কিছুটা বরপণ দিয়ে চোলিটার বিয়ে দেওয়া যেত। তখন মায়ের দুশ্চিন্তা কমে যেত। সুখারামেরও।
