কর ত্বরা, ওগো
তোল ফুলগুলো
ভরা মধু গন্ধে।
পলাতকা ঐ
মুহূর্তগুলির
পরা নীবিবন্ধে ॥
PRAECIPITATE MORAS,
VOLUCRES CINGATIS,
UT HOBAS NECTITE FORMOSAS, MOLLIA SEATA, ROSAS
Hasten, hasten! Weave garland of fair roses to girdle the passing hours.
সেই ফোয়ারার জল নিচের আধারে জমেছে; সে বলছে :–
জীবন সলিল
পান করিবে কি?
এ যে বড় মধুভরা–
আঁখিজলে করো
লবণসিক্ত
তবে হবে তৃষা-হরা ॥
FLETE HIC OPTANTES NIMIS ESS ACQUA DULCIS AMANTES SAL SUS, UT APTA VEHAM, TEMPERE HUMOR EAM.
Weep here, ye lovers who come to slake your thirst. Too sweet is the water. Season it with the salt of your tears.
গ্রিক এবং লাতিন থেকে তিনি নিয়েছিলেন তার ভাষার অলঙ্কার। আজ যদি বাংলাতে কেউ পদে পদে কালিদাস-শূদ্রকের মতো উপমা ব্যবহার করতে পারেন এবং সে তুলনাগুলো হয় এ যুগের বাতাবরণেই– কারণ দানুদৃজিয়ো ক্লাসিসে নিমজ্জিত থাকা সত্ত্বেও নিশ্বাস নিতেন বর্তমান যুগের আবহাওয়া থেকে তা হলে তার সঙ্গে দানুনদজিয়োর তুলনা করা যাবে। এ যুগের লেখকদের মধ্যে প্রধানত নিৎশে, শোপেনহাওয়ার, দস্তেয়ফস্কি এবং সুরকারদের মধ্যে ভাগনার তার ওপর কিছুটা প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।
তাই একদিক দিয়ে দেখতে গেলে অতিমানব, সুপারম্যান বা ঝুবারমেনশের যে ধারণা ফিষটে দিয়ে আরম্ভ হয় এবং কার্লাইল, মাজিনি হয়ে নিৎশেতে পৌঁছয়– যার সাহায্যকারী ছিলেন ট্রাইশকে, কিপলিং, হাউস্টন, চেম্বারলেন এবং বেৰ্গসো– দানুনদজিয়ো এদেরই একজন। এরা সকলেই যে সুপারম্যান চেয়েছেন তা নয়। কেউ কেউ চেয়েছেন সুপাররেস শ্রেষ্ঠ জাতি, যেমন হিটলার চেয়েছিলেন হেরেন-ফলক প্রভুর জাত– কেউ কেউ চেয়েছেন সুপারস্টেট।
রাসল বলেন, তবু ফিষটে, কার্লাইল, মাদৃজিনিতে মুখের মিষ্টি কথায় কিছুটা নীতির দোহাই আছে, কিন্তু নিৎশেতে এসে তা-ও নেই।(২) সেখানে উলঙ্গ রুদ্ররূপে সুপারম্যানের আপন শক্তিসঞ্চয়ই সর্বপ্রধান কর্তব্য, স্বধর্ম। হিটলারের গ্যাস চেম্বার তারই এক কদম পরে।
আমার মনে হয়, দানুনদজিয়ো এসব কউরের সমধর্মী নন। তাঁর ভিতরকার আর্টিস্টই বোধহয় তাঁকে সে বর্বরতা, নৃশংসতা থেকে বাঁচিয়েছে। পঞ্চেন্দ্রিয় দিয়ে যে রসিক প্রতি মুহূর্তে পঞ্চভূতকে নিঃশেষে শোষণ করেছে, যার রচনার প্রতিটি ছত্রে প্রতিটি শব্দে রূপরসগন্ধস্পর্শ ধ্বনির সমাবেশ, তুলনাব্যঞ্জনা মধুরতম সামঞ্জস্য যার অব্ৰণ-নিটোল সুডৌল নির্মাণপদ্ধতিতে সে সৃষ্টিকর্তাকে কোনও বিশেষ পর্যায়ে ফেলা যায় না।
দানুনদজিয়োর সৃষ্টিতে আমি যদি কোনও ক্রটি লক্ষ করে থাকি তবে সেটা মাধুর্যের অতিরিক্ততায় কাদম্বরীতে যেরকম।(৩)
————
১. এবং এ যুগে–
ইটালিয়া
কহিলাম, ওগো রানি,
কত কবি এল চরণে তোমার উপহার দিল আনি।
এসেছি শুনিয়া তাই,
ঊষার দুয়ারে পাখির মতন গান গেয়ে চলে যাই।
—রবীন্দ্রনাথ, পূরবী।
পক্ষান্তরে ইতালীয় কবি ফিলিকাজা গেয়েছেন–
ইতালি, ইতালি! এত রূপ তুমি
কেন ধরেছিলে হায়!
অনন্ত ক্লেশ লেখা ও-ললাটে
নিরাশার কালিমায়।
—সত্যেন দত্তের অনুবাদ
(Italia, Italia, o tu cui feo la sorte)
২. বাট্রান্ড রাসল- দি এনসেস্ট্রি অব ফ্যাসিজম। আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস দেবপ্রিয় বিধিদত্ত সকলের সেরা জাতের ধারণা পৃথিবীতে সর্বপ্রথম ইহুদিরাই সৃষ্টি করে। সে ধারণার দলিলে বাইবেল ভর্তি। খ্রিস্ট তার প্রতিবাদ করেন।
৩. প্রিন্স গ্রাবিয়েলে দানুদৃজিয়ো–১২ মার্চ, ১৮৬৩১ মার্চ, ১৯৩৮।
বিষের বিষ
আগা আহমদের প্রাণ অতিষ্ঠ। একফোঁটা মেয়ে তার বউ মালিকা খানমটা, ফুঁ দিলে উড়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু সেই যে সাতসকাল ভোরবেলা থেকে ক্যাট-ক্যাট আরম্ভ করে তার থেকে আগা আহমদের নিষ্কৃতি নেই। মিনষে, হাড়-হাভাতে, ড্যাকরা– হেন গাল নেই যেটা আগা আহমদকে দিনে নিদেন পঞ্চাশবার শুনতে হয় না। আর গয়নাগাটি নিয়ে গঞ্জনা– সে তো নিত্যিকার রুটি-পনির। এবং সেই সামান্য রুটি-পনিরটুকুও যদি ভালো করে আগা আহমদের সামনে ধরত তবুও নাহয় সে সবকিছু চাঁদপানা মুখ করে সয়ে নিত, কিন্তু সে রুটিও অধিকাংশ দিন পোড়া, এবং পনিরের উপরে যে মনে পড়েছে সেটা চেঁচে দেবার গরজও বিবিজানের নেই। আগা আহমদ দিনমজুর; খিদে পায় বড্ডই।
ব্যাপারটা চরমে পৌঁছল বিয়ের বিশ বছর পর একদিন যখন আগা আহমদ কী একটা খুঁজতে গিয়ে আবিষ্কার করল, মালিকা খানম নিজের খাবার জন্য লুকিয়ে রেখেছে মুরমুরে রুটি, ভেজা-ভেজা কাবাব, টনটনে সেদ্ধ ডিম এবং তেল-তেলে আচার!
সে রাত্রে আগা আহমদ খেল না। বউ ঝঙ্কার দিয়ে বলল, ও আমার বাব-পুতুর রে– রুটি-পনির ওয়ার রোচে না। কোথায় পাব আমি কাবাব আণ্ডা আমার আগাঁজানের জন্যে–
সেই কাবাব আণ্ডা! যা বউ নিজে খেয়েছে!
স্থির করল ওকে খুন করবে। নতুন করে তালাক দিয়ে লাভ নেই। অন্তত একশো বার দেওয়া হয়ে গিয়েছে। মালিকা খানম মুখ বেঁকিয়ে আপন কাজে চলে যায়। ওরা থাকে বনের পাশে পাড়া-প্রতিবেশীও কেউ নেই যে মালিকা খানমকে এসে বলবে, তোমার স্বামী যখন তোমাকে তালাক দিয়েছে তখন তার পর ওর সঙ্গে সহবাস ব্যভিচার। আর থাকলেই-বা কী হত? কেউ কি আর সাহস করে আসত? আগা আহমদের মনে পড়ল গত পনেরো বছরের মধ্যে কেউ তাদের বাড়িতে আসেনি।
