হ্যাঁ, কথা বলছি।
আমি এখন তোমাদের কোনদিক যেতে হবে বলব, তোমার কোনো কথা বলার প্রয়োজন নেই, কারণ তোমরা এখন যে ঘরটির উপর দিয়ে যাচ্ছ সেখানে সিকিউরিটির অনেকগুলো মানুষ।
নিশীতা কোনো কথা বলল না। এপসিলন বলল, তোমাদের একটু তাড়াতাড়ি যেতে হবে, কারণ কিছুক্ষণের মধ্যেই ফ্রেড লিস্টার তোমাদের ঘরে যাবে, সেখানে তোমাদের না দেখেই খোজাখুঁজি শুরু করবে।
নিশীতা ফিসফিস করে বলল, ঠিক আছে।
এখন সোজা যেতে থাক। সামনে গিয়ে ডানদিকে ঘুরে যাও।
নিশীতা আর রিয়াজ সামনে গিয়ে ডানদিকে ঘুরে গেল।
এবারে সোজা সামনে এগিয়ে যাও। সামনে একটা গোল গর্ত রয়েছে, সেদিক দিয়ে নিচে নেমে যাবে।
নিশীতা আর রিয়াজ সামনে গিয়ে গোল গর্তটা দিয়ে নিচে নেমে গেল। গর্তের ভিতরে রাজ্যের জঞ্জাল, মাকড়সার জাল এবং নানারকম পোকামাকড়। এসব ব্যাপার নিয়ে এখন মাথা ঘামানোর সময় নেই।
সেলুলার ফোন বলল, সোজা সামনে গিয়ে সিলিং প্যানেলটা তুলে নিচে লাফিয়ে পড়। এই ঘরে কেউ নেই।
ফোনের নির্দেশকে অন্ধের মতো–নুসরণ করে তারা ঘরের মাঝে লাফিয়ে পড়ল। দরজা খুলে বের হয়ে ডান দিকে যাও। নিশীতা আর রিয়াজ ঘর থেকে বের হয়ে ডানদিকে গেল।
সাবধান! সামনে দিয়ে দুজন আসছে, বাম পাশের পিলারের পিছনে লুকিয়ে পড়।
নিশীতা আর রিয়াজ দ্রুত পিলারের পিছনে লুকিয়ে পড়ল। দেখতে পেল স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে দুজন আমেরিকান হেঁটে গেল।
এবারে তোমাদের দশ সেকেন্ড সময় পুরো করিডোরের একমাথা থেকে অন্য মাথায় যাবার জন্য। শুরু কর
নিশীতা আর রিয়াজ নিশ্বাস বন্ধ করে শেষ মাথা পর্যন্ত ছুটে গেল।
চমৎকার। দরজার পাশে টেবিলের পিছনে দুই মিনিট লুকিয়ে থাক, এই দরজা দিয়ে কিছু মানুষ যাবে এবং আসবে।
নিশীতা আর রিয়াজ টেবিলের পিছনে লুকিয়ে থেকে টের পেল বেশ কিছু মানুষ ব্যস্ত পায়ে হাঁটাহাঁটি করছে।
তোমরা দৌড়ানোর জন্য প্রস্তুত হও। মাত্র তিন সেকেন্ডের মধ্যে নিঃশব্দে দরজা খুলে বাইরে গিয়ে ডান দিকে লাফিয়ে পড়বে। ফুল গাছগুলোর পিছনে লুকিয়ে থাকবে। মনে থাকে যেন তিন সেকেন্ড সময়।
নিশীতা আর রিয়াজ নিশ্বাস বন্ধ করে বসে রইল।
যাও!
দুজনে উঠে দাঁড়িয়ে দরজা খুলে বাইরে বের হয়ে ডান দিকে ফুলগাছগুলোর পিছনে লাফিয়ে পড়ল।
চমৎকার! এখানে দশ সেকেন্ড অপেক্ষা কর। তারপর মাথা না তুলে গুঁড়ি মেরে এগিয়ে যেতে থাক। কোনো অবস্থাতেই মাথা তুলবে না।
নিশীতা আর রিয়াজ মাথা না তুলে গুঁড়ি মেরে এগিয়ে যেতে লাগল। কাদা, মাটি, খোয়া পাথরে হাতের চামড়া উঠে খানিকটা রক্তাক্ত হয়ে গেল, তারা সেটাকে গ্রাহ্য করল না।
থাম।
দুজনেই থেমে গেল।
গ্যারেজে তিনটি গাড়ি দেখতে পাচ্ছ?
নিশীতা কোনো কথা না বলে হ্যাঁ সূচকভাবে মাথা নাড়ল।
মাঝখানের গাড়িটাতে উঠবে। স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল ফোর হুইল ড্রাইভ। দুই হাজার সিসি ইঞ্জিন। মনে রেখো ড্রাইভিং সিট ডান পাশে।
নিশীতা মাথা নাড়ল।
এখানে তিরিশ সেকেন্ড অপেক্ষা কর।
সামনে দিয়ে একটা গাড়ি চলে গেল, দুজন মানুষ গাড়ি থেকে নেমে বিল্ডিঙের ভিতর ঢুকল।
দৌড়াও।
দুজনে দৌড়ে গাড়ির কাছে গেল, রিয়াজ ডানদিকে ড্রাইভিং সিটে নিশীতা বাম দিকে।
এখন গাড়ি স্টার্ট করতে হবে।
নিশীতা বলল, চাবি নেই। হট ওয়ার ব্যবহার করে করতে হবে। বল কী করতে হবে।
এপসিলন বলল, সময় নেই। ফ্রেন্ড লিস্টার তোমাদের ঘরে গিয়ে দেখেছে তোমরা নেই। সবাই ছোটাছুটি করছে। এক্ষুনি টেলিফোন করে গেটে বলে দেবে কেউ যেন বের হতে না পারে।
সর্বনাশ! তা হলে?
হঠাৎ করে গাড়িটা গর্জন করে স্টার্ট হয়ে গেল।
গার্ডকে টেলিফোন করছে। টেলিফোন তোলার আগে বের হয়ে যেতে হবে। যাও।
রিয়াজ গিয়ার টেনে ড্রাইভে এনে এক্সেলেটরে চাপ দিল, গাড়িটা সোজা গেটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গার্ড গেট খুলে দিচ্ছে, রিয়াজ বুক থেকে আটকে থাকা নিশ্বাস বের করে এগিয়ে যায়। হঠাৎ কী হল, একজন গার্ড ছুটে এসে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থামার ইঙ্গিত করল, গেটটা আবার বন্ধ করে ফেলছে, কাউকে বের হতে দেবে না।
নিশীতা চিৎকার করে বলল, থেমো না।
রিয়াজ থামল না, এক্সেলেটর চাপ দিয়ে গাড়ির বেগ মুহূর্তে বাড়িয়ে দিল, টায়ার পোড়া গন্ধ ছুটিয়ে শক্তিশালী গাড়িটা প্রচণ্ড বেগে গেটের দিকে ছুটে গেল। শেষ মুহূর্তে গার্ড লাফিয়ে সরে যায়, গাড়িটা প্রচণ্ড বেগে গেটে ধাক্কা দিল, গেটের একটি অংশ ভেঙ্গে দুমড়েমুচড়ে গেল এবং তার উপর দিয়ে গাড়িটা বের হয়ে গেল। গাড়িটা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যাচ্ছিল, কোনোভাবে রিয়াজ সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করে আবার রাস্তার উপর নিয়ে এল। নিশীতা শক্ত করে গাড়ির সিট ধরে রেখেছিল এবার চিৎকার করে বলল, বাম দিকে রাস্তার বাম দিকে।
সামনে দিয়ে একটা ট্রাক আসছিল, বিপজ্জনকভাবে সেটাকে পাশ কাটিয়ে রিয়াজ আবার রাস্তার বামপাশে চলে এসে বুকের ভিতর আটকে থাকা একটা নিশ্বাস বের করে দিয়ে বলল, এটাই হচ্ছে আমার সমস্যা।
কী?
ঠিক যখন ইমার্জেন্সি তখন সব সময় ভুল ডিসিশন নিই।
আপনার এখন দুশ্চিন্তার কারণ নেই, যখনই ডান দিকে যাবেন আমি আপনাকে মনে করিয়ে দেব।
থ্যাংকস। এখন কোথায় যাব?।
নিশীতা পিছন দিকে তাকিয়ে বলল, মনে হচ্ছে আমাদের পিছনে পিছনে একটা গাড়ি আসছে। কাজেই আপাতত চেষ্টা করা যাক এখান থেকে সরে যেতে।
০৯. রিয়াজ ফিসফিস করে বলল
রিয়াজ ফিসফিস করে বলল, আপাতত এখানে থামা যাক।
