নিশীতা মাথা নেড়ে বলল, আপনার কথা শুনে প্রথমে মনে হয়েছিল খানিকটা বুঝেছি, কিন্তু ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করার পর আর কিছুই বুঝতে পারছি না!
আমি দুঃখিত–_
আপনার দুঃখিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তপনি আমার সহজ একটা প্রশ্নের উত্তর দেন। মহাজাগতিক প্রাণীর শুভ অংশটুকু আমাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য ডিজিটাল ইলেট্রনিক্স, কম্পিউটার, সেলুলার ফোন, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি এইসব তুচ্ছ সহজ জিনিস বেছে নিয়েছে। এপসিলন প্রোগ্রামটা সে ব্যবহার করছে।
হ্যাঁ। সেটাই আমার ধারণা।
সেটাই যদি সত্যি হবে তা হলে যখন আমাদের সবচেয়ে বিপদ তখন সে আমাদের সাথে যোগাযোগ করছে না কেন?
কীভাবে করবে?
আমার সেলুলার ফোন দিয়ে।
তোমার সেলুলার ফোনে ব্যাটারির চার্জ নেই।
যে প্রাণী অন্য গ্যালাক্সি থেকে এখানে চলে আসতে পারে সে একটা ব্যাটারি নিজে চার্জ করতে পারে না আমি সেটা বিশ্বাস করি না।
রিয়াজ ঘরের মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে বলল, তুমি ঠিকই বলেছ। প্রাণীটার এখন আমাদের সাথে যোগাযোগ করার কথা।
নিশীতা তার ব্যাগ খুলে তার সেলুলার ফোনটা হাতে নিয়ে কয়েকবার নেড়েচেড়ে দেখল, কানে লাগিয়ে বৃথাই কিছু শোনার চেষ্টা করল। নম্বরের বোতামগুলো ইতস্তত চাপ দিয়ে শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে মেঝেতে রেখে দিল। হঠাৎ সে বিস্ময়ে দেখল সেলুলার ফোনটির আলো জ্বলে উঠে রিং করতে শুরু করেছে। নিশীতা আনন্দে চিৎকার করে রিয়াজের দিকে তাকাল, রিয়াজ নিশীতার কাছে ছুটে আসে। নিশ্বাস বন্ধ করে বলল, তুলে নাও, নিশীতা কথা বল।
নিশীতা কাঁপা হাতে টেলিফোনটা তুলে নিয়ে বলল, হ্যালো।
কে? নিশীতা?
হ্যাঁ। আমি নিশীতা।
তোমাদের অনেক বড় বিপদ নিশীতা।
আমরা জানি–কিন্তু বিপদ থেকে উদ্ধারের একটা ব্যবস্থা করবে না?
তোমাদের সভ্যতার মাঝে আমার প্রবেশ করার কথা নয়। তাই তোমাদের টেকনোলজি ব্যবহার করে তোমাদের সাথে তোমাদের মতো করে দু একটি কথা বলতে পারি, এর বেশি কিছু নয়।
কিন্তু সেটি হলে তো হবে না। তুমি তো জান ফ্রেন্ড লিস্টার আমাদের মেরে ফেলবে।
হ্যাঁ জানি।
তা হলে আমাদের এখান থেকে বের করে নিয়ে যাও।
কীভাবে?
সেটা আমি কীভাবে বলব? আমাদের উড়িয়ে নিয়ে যাও। কিংবা ভাসিয়ে নিয়ে যাও, কিংবা টেলিট্রান্সপোর্ট করে নিয়ে যাও।
টেলিফোনের অন্যপাশ থেকে হাসির মতো এক ধরনের শব্দ হল, এপসিলানের স্বর বলল, আমার পক্ষে অবাস্তব কিছু করার ক্ষমতা নেই। আমি তোমাদের সভ্যতাকে স্পর্শ করতে পারব না।
নিশীতা গলায় জোর দিয়ে বলল, সেটা বললে তো হবে না। তোমাদের অশুভ অংশ এসে মানুষের শরীরের ভিতরে ঢুকে মানুষকে ব্যবহার করতে শুরু করেছে, আর তুমি আমাদের প্রাণটাও বাঁচাবে না? তোমার কি পৃথিবীর জন্য কোনো দায়দায়িত্ব নেই?
আছে বলেই তো আমি কাছাকাছি আছি।
শুধু থাকলে হবে না, কিন্তু একটা কিছু কর। আমাদের এখান থেকে বের করে দাও।
টেলিফোনে কিছুক্ষণ নীরবতা থাকার পর আবার এপসিলনের গলা শোনা গেল, আমি তোমাদের কিছু তথ্য দিতে পারি, এর বেশি কিছু করতে পারব না। বাকি কাজটুকু তোমাদের করতে হবে।
কী তথ্য?
তোমাদের এই ঘরটির উপরে যে সিলিংটি দেখছ– সেটি হালকা প্লাইউডের। মাঝামাঝি জায়গায় একটা ডাক্ট আছে সেখান দিয়ে এই বিল্ডিঙের যাবতীয় ইলেকট্রিক তার গিয়েছে। এই ডাক্টটি দিয়ে কিছুদূর এগিয়ে গেলে তোমরা কাছাকাছি একটা ঘরে বের হতে পারবে। সেখান থেকে দরজা খুলে বের হয়ে যেতে পারবে।
নিশীতা উপরের দিকে তাকাল, সিলিংটি বেশি উঁচু নয়, আধুনিক বিল্ডিঙে জায়গা বাঁচানোর জন্য বিন্ডিংগুলো বেশি উঁচু করা হয় না। একজনের কাঁধে আরেকজন দাঁড়িয়ে মনে হয় সিলিংটা পর্যন্ত যাওয়া যাবে। নিশীতা বলল, ঠিক আছে ধরে নিলাম আমরা বিল্ডিং থেকে বের হলাম, কিন্তু তারপর আর কোনো গেট নেই?
আছে।
সেখানে দারোয়ান নেই? গার্ড নেই?
আছে।
সেখান থেকে কীভাবে বের হব?
বাইরে গ্যারেজে কয়েকটা গাড়ি রয়েছে। কোনো একটা ড্রাইভ করে নিয়ে যেতে পার। এখানকার গাড়ি হলে গেটে আটকাবে না। আর যদি আটকায় তোমাদের সেরকম কিছু একটা করতে হবে।
কিন্তু
কিন্তু কী?
আমি গাড়ি ড্রাইভিং জানি না।
রিয়াজ বলল, আমি জানি। তবে গাড়ি চালিয়েছি আমেরিকাতে, রাস্তার ডানদিক দিয়ে।
নিশীতা বলল, এখন ডান বামের সময় নেই! ইঞ্জিন স্টার্ট করে গাড়িটাকে মোটামুটিভাবে নাড়াতে পারলেই হবে।
কিন্তু গাড়ির চাবি? চাবি ছাড়া স্টার্ট করব কেমন করে?
হট ওয়ার করে।
রিয়াজ মাথা চুলকে বলল, আমি কখনো করি নি।
সেলুলার টেলিফোনে এপসিলন বলল, আমি বলে দেব।
চমৎকার! এখন তা হলে কাজ শুরু করে দেওয়া যাক। সা
থে সাথে নিশীতার সেলুলার টেলিফোনটি নীরব হয়ে গেল।
নিশীতা রিয়াজের দিকে তাকিয়ে বলল, আপনি আমাকে ঘাড়ে নিতে পারবেন?
মনে হয় পারব।
সিলিংটা ধরার জন্য আপনার ঘাড়ে আমাকে দাঁড়াতে হবে।
হ্যাঁ। সার্কাসে এ রকম করতে দেখেছি। তুমি কি পারবে?
পারতে হবে।
ব্যালান্সের একটা ব্যাপার আছে।
দেয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে শুরু করব যেন দেয়াল ধরে ব্যালান্স করতে পারি। একবার দাঁড়িয়ে সিলিংটা ছোঁয়ার পর আপনি ঘরের মাঝখানে যাবেন।
রিয়াজ চিন্তিত মুখে বলল, ধরা যাক তুমি হাঁচড়–পাঁচড় করে কোনোভাবে উঠে গেলে। কিন্তু আমি কীভাবে উঠব?
