তোমাদের ছবি। এডবি ফটোশপ দিয়ে তৈরি করেছি।
কেন তৈরি করেছ?
কারণ আজ রাতে তোমার গার্লফ্রেন্ড যখন তোমাকে মোটর সাইকেলে করে নিয়ে যাবে তখন আশুলিয়ার কাছে খুব খারাপভাবে অ্যাকসিডেন্ট করবে। তোমরা দুজনেই সাথে সাথে মারা যাবে।
রিয়াজ এবং নিশীতা চমকে উঠল, বলল, কী বলছ তুমি?
হ্যাঁ। তোমরা প্রজেক্ট নেবুলার ভিতরের খবর জান। তোমরা বেঁচে থাকলে আমার খুব সমস্যা। তোমাদের বেঁচে থাকা চলবে না।
রিয়াজ এবং নিশীতা বিস্ফারিত চোখে ফ্রেডের দিকে তাকিয়ে রইল, ফ্রেড একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, অ্যাকসিডেন্টের পর যখন তোমাদের ডেড বডি পাওয়া যাবে তখন। এই ছবিগুলো আমরা রিলিজ করব। সবাই দেখবে তোমরা গভীর রাত পর্যন্ত ফুর্তি করেছ, মদ খেয়ে পুরোপুরি মাতাল হয়ে মোটর সাইকেল চালাতে চেষ্টা করেছ–তোমাদের অ্যাকসিডেন্ট না হলে কার হবে?
নিশীতা নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারল না—অবাক হয়ে ফ্রেডের ভাবলেশহীন মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। ফ্রেড অন্যমনস্ক ভঙ্গিতে বলল, পোস্টমর্টেম করে দেখলেও কোনো গরমিল পাবে না। তোমাদের শরীরে এলকোহলের পার্সেন্টেজ থাকবে খুব বেশি। আমরাই ইনজেক্ট করে দেব।
কেন? রিয়াজ শুকনো গলায় বলল, কেন তোমরা এটা করতে চাইছ?
ফ্রেড উঠে দাঁড়িয়ে বলল, আমাদের কোনো উপায় নেই। সারা পৃথিবীর ভবিষ্যৎ এর সাথে জড়িত, এখানে কোনো ঝুঁকি নেওয়া যায় না। এত বড় প্রজেক্টে আমি কোনো ঝুঁকি নিতে পারি না রিয়াজ।
রিয়াজ চিৎকার করে ফ্রেডের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইছিল কিন্তু সাথে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ দুজন সামনে এগিয়ে এসে তাকে ধরে ফেলল। একজন তাকে আঘাত করতে হাত উপরে তুলতেই ফ্রেড তাকে থামাল, বলল, না ওর গায়ে হাত দিও না। আজ রাতের অ্যাকসিডেন্টের আঘাত ছাড়া শরীরে অন্য কোনো আঘাত থাকা চলবে না।
রিয়াজকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে দরজাটা বন্ধ করে ফ্ৰেড তার দুজন বডির্গাডকে নিয়ে বের হয়ে গেল।
নিশীতা বিস্ফারিত চোখে রিয়াজের দিকে তাকিয়ে থাকে। সে এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না যে আর কয়েক ঘণ্টার মাঝে খুব সুপরিকল্পিতভাবে তাদের হত্যা করা হবে।
০৮. নিশীতা ঘরের দেয়ালে হেলান দিয়ে
নিশীতা ঘরের দেয়ালে হেলান দিয়ে চুপচাপ বসে আছে, রিয়াজ এক ধরনের অস্থিরতা নিয়ে ঘরের মাঝে পায়চারি করছে। ঘরের একমাথা থেকে অন্য মাথায় হেঁটে রিয়াজ ঘরের মাঝখানে এসে দাঁড়িয়ে নিশীতার দিকে তাকাল। নিশীতা একটা নিশ্বান্স ফেলে বলল, আমি একটা জিনিস কিছুতেই বুঝতে পারছি না।
কী জিনিস?
মনে আছে আপনি বলেছিলেন এপসিলন আসলে খুব সহজ একটা প্রোগ্রাম? প্রশ্নের উত্তর দেয় প্রশ্ন করে?
হ্যাঁ।
কিন্তু সেটা তো আর সহজ প্রোগ্রাম হিসেবে থাকে নি। সেটা অত্যন্ত দক্ষ একটা প্রোগ্রাম হয়ে গেল–এত দক্ষ যে আমাকে সেলুলার ফোনে যোগাযোগ করে সতর্ক পর্যন্ত করে দিল।
হ্যাঁ। আমি লক্ষ করেছি।
সেটা কীভাবে সমম্ভব? সহজ একটা প্রোগ্রাম কেমন করে নিজ থেকে এত জটিল হয়ে যেতে পারে?
রিয়াজ হাসান মাথা নাড়ল, বলল, পারে না।
তা হলে কী হয়েছে?
ব্যাপারটা নিয়ে আমিও খুব বিভ্রান্তির মাঝে ছিলাম–ফ্রেডের কথা শুনে এখন আমি ব্যাপারটা খানিকটা আন্দাজ করতে পারছি।
কী আন্দাজ করতে পেরেছেন?
এখানে মহাজাগতিক প্রাণী পৌঁছানোর পর আমি আমার বাসায় যোগাযোগ করার কোডটি চালু করেছিলাম মনে আছে?
হ্যাঁ, মনে আছে।
সেই কোডটি মহাজাগতিক প্রাণীর পরিপূরককে নিয়ে আসছে।
নিশীতা মাথা নাড়ল, বলল, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। পরিপূরক মানে কী?
রিয়াজ বলল, ব্যাপারটি জটিল, বলা যেতে পারে ব্যাপারটি একটি দার্শনিক ব্যাপার।
নিশীতা হাসার চেষ্টা করে বলল, ঘণ্টা দুয়েক পর মারা যাবার আগে মনে হয় দর্শন নিয়ে কথা বলাই সহজ।
হ্যাঁ ঠিকই বলেছ। আমি দেখি তোমাকে বোঝাতে পারি কি না। বুদ্ধিমত্তার গোড়ার কথা হচ্ছে এর মাঝে এক ধরনের সামঞ্জস্য থাকবে। ভালো–মন্দ খুব আপেক্ষিক কিন্তু বুদ্ধিমত্তার মাঝে যদি ভালো–মন্দ থাকে তা হলে তার মাঝে সামঞ্জস্য থাকবে। মোট কথা, ফ্রেডের মতো যদি পাজি মানুষের জন্ম হয় তা হলে তোমার মতো একজন ভালো মানুষেরও জন্ম হতে হবে। হিটলারের মতো দানবের জন্ম হলে দার তেরেসার মতো মহৎ মানুষের জন্ম হতে হবে।
চতুর্থ মাত্রার বুদ্ধিবৃত্তির জন্যও সেটা সত্যি। এর মাঝে যদি অশুভ অংশ থাকে তা হলে শুভ অংশ থাকতে হবে। ফ্রেড যে বর্ণনা দিয়েছে সেটি একেবারে খাঁটি অশুভ অংশ –কাজেই আমার ধারণা আমাদের আশপাশে তার পরিপূরক শুভ অংশটিও আছে। সেটাই এপসিলন ব্যবহার করে তোমার সাথে যোগাযোগ করছে। আমার সাথে যোগাযোগ করছে।
নিশীতা বলল, তার মানে পৃথিবীতে একটি মহাজাগতিক প্রাণী আসে নি–দুটি প্রাণী এসেছে। একটি ভালো একটি খারাপ? খারাপটি ফ্রেডের সাথে ভালোটি আমাদের সাথে?
রিয়াজ মাথা নেড়ে বলল, চতুর্থ মাত্রার প্রাণীর জন্য এত সহজে বলা যায় না।
কেন বলা যায় না?
মানুষের কথা ধরা যাক। আমাদের সবার মাঝে কি খানিকটা অশুভ যানিকটা শুভ অংশ নেই? তা হলে কোনটা সত্যি–শুভ অংশটুকু নাকি অশুভ অংশটুকু? একঙন মানুষ কি প্রাণের ইউনিট নাকি পুরো মানবজাতি প্রাণের ইউনিট? নাকি আমাদের শরীরের এক একটি কোষ এক একটি প্রাণ? তুমি ব্যাপারটা কীভাবে দেখতে চাও তার ওপর সেটা নির্ভর করে। মানুষ যদি চতুর্থ মাত্রার বুদ্ধিমত্তায় পৌঁছায় তা হলে কীভাবে দেখা হচ্ছে ব্যপারটি তার ওপর আর নির্ভর করবে না। এখানেও তাই—এই প্রাণীর বুদ্ধিমত্তার শুভ–অশু অংশ আছে সেটি একই প্রাণী না ভিন্ন প্রাণী আমরা আর সেই প্রশ্ন করতে পারি না।
