নেটওয়ার্কে একটা ফাঁক খুঁজে পেয়েছি। আমি এখন মূল নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়তে পারি।
সে তো সবাই পারে।
জিগি হাত নেড়ে বলল, কিন্তু সেটা তো আইনসম্মতভাবে আমি পুরোপুরি বেআইনিভাবে ঢুকছি! জিগি আবার আনন্দে হা–হা করে হাসতে থাকে।
জিগি নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে একটা গোপন তথ্য ভাণ্ডারের কিছু মূল্যবান তথ্য নষ্ট করে দিয়ে বলল, দেখেছ? আমি কী করেছি? আমাকে ধরতে পারল?
আমি মাথা নাড়লাম, বললাম, না পারে নি।
কখনো পারবে না। জিগি বুকে থাবা দিয়ে বলল, কখনো না!
কেন?
আমার ট্রাকিওশান ভুয়া! জিগি আবার আনন্দে হা–হা করে হাসতে থাকে। হাসতে হাসতে বলল, নতুন এন্ড্রয়েডগুলোর মেটা ফাইলগুলো বের করেছি। তুমি নেবে?
আমি মাথা নাড়লাম, বললাম, নেব।
আসো–তোমাকে একটা ক্রিস্টালে লোড করে দেই।
আমি জিগিকে থামিয়ে বললাম, জিগি। আমি তোমার কাছে একটা বিশেষ কাজে এসেছি।
আমার কাছে? বিশেষ কাজে? জিগি খুব অবাক হল। তার কাছে কেউ কখনো বিশেষ কাজে আসে না। সে ভুরু কুঁচকে বলল, কী কাজ?
আমি পকেট থেকে একটা ছোট ক্রিস্টাল বের করে জিগির হাতে দিয়ে বললাম, এটা দেখ।
জিগি ক্রিস্টালটি তার ঘরের অসংখ্য যন্ত্রপাতির কোনো একটিতে প্রবেশ করিয়ে দিয়ে কোথায় কোথায় সুইচ টিপে দিতেই ঘরের মাঝামাঝি একটা হলোগ্রাফিক স্ক্রিনে আমাকে দেখতে পেলাম। এলোমেলো চুল, দিশেহারা শূন্য দৃষ্টি, কাতর কণ্ঠস্বর। গম্ভীর হতাশায় ডুবে গিয়ে সে বলল, ভ্রাতুল, আমি ত্রাতুল।
জিগি খুব কৌতূহল নিয়ে পরপর তিনবার ভিডিও ক্লিপটি দেখল। সুইচ টিপে ভিডি মডিউল বন্ধ করে সে আমার দিকে তাকাল, তার চোখ অপ্রকৃতিস্থ মানুষের মতো জ্বলজ্বল করছে। খানিকক্ষণ সে কোনো কথা বলল না, হঠাৎ করে সে উঠে দাঁড়িয়ে আমার কাছে এসে আমার চুল খামচে ধরে ঘুরিয়ে মাথার পেছনে তাকাল, তারপর শিস দেওয়ার মতো শব্দ করে বলল, এন্ড্রোমিডার দোহাই! তোমার মাথায় ট্রাইকিনিওয়াল ইন্টারফেস লাগিয়েছে?
হ্যাঁ।
তোমার মস্তিষ্ক ম্যাপিং করে নিয়েছে?
হ্যাঁ।
তার মানে তোমার আরেকটা অস্তিত্ব তৈরি করে পরাবাস্তব জগতে আটকে রেখেছে?
হ্যাঁ।
কত বড় সাহস! জিগি টেবিলে থাবা দিয়ে বলল, জানোয়ারের বাচ্চাদের মিউটেশান হোক। ক্লচ ভাইরাস রক্তনালিকে ছিন্ন করে দিক। গামা রেডিয়েশনে হিমোগ্লাবিন ফেটে যাক।
আমি জোর করে হাসার চেষ্টা করলাম। জিগি মুখ পাথরের মতো শক্ত করে বলল, রিয়া নামে আরেকজনকে ম্যাপিং করেছে?
হ্যাঁ।
সেটা কে?
আমি জানি না।
নামটা আমার কাছে খুব পরিচিত মনে হচ্ছে–আগে কোথাও শুনেছি।
এটি একটি সাধারণ নাম, না শোনার কোনো কারণ নেই।
না–না তা নয়। জিগি মাথা নাড়ল, বলল, এই নামের একজন বিশেষ মানুষ আছে। জিগি ভুরু কুঁচকে আমার দিকে তাকাল, তারপর তার অসংখ্য যন্ত্রপাতির মাঝে কোনো একটিতে মাথা ঢুকিয়ে কিছু তথ্য প্রবেশ করিয়ে ফিরে এসে বলল, পৃথিবীতে রিয়া নামে দুই লক্ষ তিরানব্বই হাজার সাত শ বিয়াল্লিশটি মেয়ে আছে। তার মাঝে সবচেয়ে বিখ্যাত মেয়েটিকে আদর করে ডাকা হয় রাজকুমারী রিয়া।
রাজকুমারী রিয়া?
হ্যাঁ। তার বয়স বাইশ। উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলে তার মায়ের সঙ্গে থাকে।
আমি মাথা চুলকে বললাম, কেন সে বিখ্যাত? কেন তাকে রাজকুমারী রিয়া ডাকা হয়?
কারণ রিয়া হচ্ছে পৃথিবীর নিখুঁততম মানবী। জিনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে তার শরীরের প্রত্যেকটা জিন আলাদা আলাদাভাবে তৈরি করা হয়েছে।
ও হ্যাঁ। মনে পড়েছে। আমি অবাক হয়ে বললাম, তুমি ভাবছ এই রিয়াকেই আটকে রেখেছে!
জিগি মাথা নাড়ল, বলল, সম্ভবত।
আমি মাথা নাড়লাম, বললাম, আমারও এখন তাই মনে হচ্ছে। আমি কী বলেছি লক্ষ করেছ? আমি বলেছি, আমাদের খুব বিপদ, আমার আর রিয়ার। আমি বলি নি আমার আর রিয়া নামের একটি মেয়ের খুব বিপদ–আমি ধরেই নিয়েছি রিয়াকে সবাই চেনে।
হ্যাঁ।
এভাবে বলার একটা অর্থ আছে। এর মাঝে একটা বড় তথ্য লুকিয়ে আছে।
জিগি ঘরে কয়েকবার পায়চারি করে এক বোতল উত্তেজক পানীয় ঢকঢক করে খানিকটা খেয়ে বলল, এটা কিছুতেই হতে দেওয়া যায় না। কিছুতেই না!
আমি বললাম, আমি সেজন্যে তোমার কাছে এসেছি। তুমি ছাড়া আর কেউ আমাকে সাহায্য করতে পারবে না।
জিগি মাথা নাড়ল, তা ঠিক। নেটওয়ার্কে ঢোকা যার–তার কাজ নয়।
জিগির চোয়াল শক্ত হয়ে যায়, মুখের মাংসপেশি টানটান হয়ে থাকে, চোখ জ্বলজ্বল করতে শুরু করে অনেক দিন পর সে তার মনের মতো একটা কাজ পেয়েছে। তখন তখনই সে মাথায় হেলমেটের মতো একটা নিউরাল ইন্টারফেস পরে কাজে লেগে যায়।
জিগি ঘণ্টাখানেক নেটওয়ার্কের সাথে ধস্তাধস্তি করল তারপর কেমন যেন বিধ্বস্তভাবে মাথা থেকে হেলমেটটা খুলে ঘরের এক কোনায় ছুঁড়ে দিয়ে কয়েকবার মেঝেতে পা দিয়ে লাথি দিল। আমি বললাম, কী হয়েছে?
পারছি না। নেটওয়ার্কের যোগাযোগটা পাচ্ছি না।
পাচ্ছ না?
না। আমার মনে হয় মূল কেন্দ্রে আলাদা করে রেখেছে। এখান থেকে ভেতরে ঢোকা যাবে না।
ত্তা হলে?
জিগির মুখে ক্রুদ্ধ অস্থির এক ধরনের ভাব ফুটে ওঠে–ঢকঢক করে আবার কয়েক ঢোক উত্তেজক পানীয় খেয়ে মাথা নেড়ে বলল, নিশ্চয়ই কোনো উপায় আছে।
আমি বললাম, যে বাসাটিতে আমার মস্তিষ্ক ম্যাপিং করছে সেখানে গেলে–
