এতটা সাহস বুঝি ও আশা করেনি, বলল, তুমি হারতে চাওনা তাই তো? না তা নয়। তবে? তোমাকে আমি জিততে দেবো না, প্রতিটি মুহূর্তে তুমিই কেবল জিতে যাবে, তা হবে না। মনে থাকবে তো। আজ পর্যন্ত এমন কিছু ঘটেছে কি যা আমি মনে রাখিনি। বুঝতে পারছি সেলিনা প্রচন্ড অবাক হয়ে যাচ্ছে। বলল, ঠিক আছে সময় মত তার পরীক্ষা দেওয়া যাবে। আপাতত বলত: কি রান্না হবে। ও ইতিহাস তো আমার জানার কথা নয়। কি আছে তাইতো জানিনা। আলু, ডিম, আর ডাল। বললাম এক কাজ কর, এক সঙ্গে সবই সিদ্ধ দিয়ে দাও, তাতে সময় বাঁচবে, তাছাড়া বেশ খিদেও পেয়েছে। ও বলল তোমার পেয়েছে খিদে? অসম্ভব। মানে? মানে থাক, আমি তা হলে সব সিদ্ধ বসিয়েই দিচ্ছি। তুমি অশ্ৰুদি বেরুলেই বাথরুমে যাবে? আচ্ছা। তাই বলে আবার চান করে বসোনা কিন্তু। কেন? ক্স ছাড়া সারাদিনের যা ক্লান্তি চান না করলে ক্লান্তি যাবে কেন? সেলিনা প্রতিবাদ করে বলল না, অসময়ে চান করলে অসুখ বিসুখ করতে পারে। করলই বা তুমিতো আছো? আমি? না বাপু আমি পারবো না এখানে তোমার শুশ্রূষা করতে? তুমি না পারলে অশ্রুকণাই করবে। তার মানে অশ্ৰুদিকে তুমি ভোগাতে চাও এইতো না। তবে আমি তোমাকে ভোগাতে চাই। ও রাগ করে বলল, তোমার যা ইচ্ছে তাই কর। কিন্তু জেনে রেখো, আমি তোমার কোন শুশ্রূষাই করতে পারবো না। ও বলতে গেলে রাগ করেই চলে গেল। বুঝতে পারছি ও ও যেন কি বলতে চায়। শুধু ওর আচরণ বোঝা কষ্টকর এই যা তফাৎ।
খাওয়া দাওয়ার পরে দুই ঘরে দুটো বিছানা করা হলো। ঠিক হয়েছে অশ্রুকণা ও সেলিনা থাকবে এক ঘরে আর আমি অন্য ঘরে একেবারে স্বাভাবিক। একটা ঘর থেকে আরেকটা ঘরে যাওয়ার জন্য যে দরজা আছে তাতে খিল, বিণী বা উসা নেই। অতএব তা ভেজানো থাকলেও খোলাই থাকবে।
সব কিছু গোছাতে গোছাতে অনেক রাত হয়ে গেল। সেলিনা বলল প্রান্তিক ভাই, তোমার শরীর খুব ক্লান্ত এবার তুমি ঘুমিয়ে পড়। আমি বললাম তোমরা ঘুমাবেনা? না, আমরা একটু বাইরে গিয়ে বসব। আমাকে নেবেনা? অকণা বল, সেলিনা, প্রান্তিক যখন যেতে রাজী আছে, তুমি ওকেই নিয়ে যাও, আমার সত্যিই ভীষণ ঘুম পাচ্ছে। সেলিনা বলল ঘুম পাচ্ছে না প্রান্তিক ভাই না গেলে তুমি যাবে না কোনটা সত্য? কি যে ঠাট্টা কর সেলিনা। তোমরা যাও না, বিশ্বাস কর আমার শরীর আর বইছে না। জীবনে এত ধকল তো কোন দিন আসেনি। তাহলে আমিও যাবো না। আমি বললাম সেই ভালো। বরং সকলেই একসঙ্গে ঘুমিয়ে পড়া যাক৷ কাল না হয় যাওয়া যাবে। সেলিনা আর কথা বাড়ালো না। আলো নিভিয়ে শুয়ে পড়লো।
সকাল হয়েছে কখন বুঝতে পারিনি। সমস্ত শরীরে অসম্ভব ব্যথা, হাত পা নাড়াতে পারছি না। ওদের বারণ শুনে স্নান করিনি। কিন্তু তাতে ওদের আশঙ্কা কাটানো যায়নি। অশ্রুকণা কফি করে সেলিনাকে বলল, দেখতো সেলিনা প্রান্তিকের ঘুম ভেঙেছে কি না। এটা ওকে দিয়ে এসো। এর মধ্যে সকালে বাজার সরকাব এসে কি কি বাজার পাঠাতে হবে তার লিস্ট নিয়ে গেছেন। সেলিনা কফি নিয়ে আসে। আমি বুঝতে পারছি ও এসেছে। কিন্তু চোখ মেলে তাকাতে পারছি না। ও ডাকছে প্রান্তিক ভাই, কি ঘুম ঘুমাতে পার। ওঠ, কফিটা খেয়ে নাও। আমি তবু তাকে কোন সাড়া দিচ্ছি না দেখে ও কফিটা রেখে আমাকে ঠেলা দিতেই চমকে উঠে বলল, একি প্রান্তিক ভাই গা যে পুড়ে যাচ্ছে। ডাকতে পারনি? তবু আমি কোন কথা বলতে পারছি না, ও জানতে চাইল জ্বর কখন এসেছে? বললাম জানিনা ঠিক। মাঝরাতে রাতে যখন শীত শীত করছিল তখন তোমাদের ডেকেছিলাম, বোধহয় তোমরা শুনতে পাওনি। ও বলল, আমি অদিকে পাঠিয়ে দিচ্ছি। অশ্রুকণা এলো। গায়ে হাত দিয়ে শিউরে উঠে বলল, এতো দেখছি ১০৩/১০৪ ডিগ্রি জ্বর হবে। তোমাকে বার বার করে বললাম স্নান করো না। এখন কি হবে বলতো। সেলিনা বলল, প্রান্তিক ভাই এখানে বেশকিছুদিন থাকতে চায় তাই ইচ্ছে করেই জ্বরটা বাধিয়েছে। সত্যভূষণ বাবু এলে কোন ডাক্তার পাওয়া যায় কিনা দেখা যাবে। আপাতত তুমি ওর কাছে বস অশ্রুদি। আমি রান্না ঘরে আছি। ও আর দাঁড়ালো না।
অশ্রু বলল, জ্বরটা কখন থেকে এসেছে প্রান্তিক, আমি বললাম ঠিক জানিনা, তবে মনে হয় গাড়ীতে যখন উঠেছি তখন জ্বর জ্বর লাগছিল। ভেবেছিলাম ও কিছু নয়। গুরুত্ব দিইনি। তারপর যখন বাথরুমে গিয়ে হাতে মুখে জল দিলাম, শীতে ভাল করে চোখেমুখেও জল দিতে পারলাম না। তখন বললে না কেন? ভাবলাম কমে যাবে তাই আরকি। আর তাছাড়া ভিতরে ভিতরে একটা লোভতো ছিলই তবে সত্যিই বুঝতে পারিনি, এমন তীব্র ভাবে আক্রান্ত হতে পারি। যদি কোন একস্ট্রা চাদর টাদর থাকে দেখনা ভীষণ শীত করছে। অশ্রুকণা ঘরে গিয়ে অতিরিক্ত একটা চাদর এনে আমার গায়ে চাপা দিয়ে দিল। আর একেবারে বিনা কারণে ওর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়তে লাগল।
কিন্তু ওর দিকে তাকাবার মত অবস্থা তখন আমার নেই। কফিটা কোন ভাবে খেয়ে আবার চোখ বন্ধ করলাম। এর মাঝে এলেন সত্যভূষণ বাবু। সেলিনা তাকে দরজা খুলে দিলে উনি বললেন, আপনাদের কোন অসুবিধা হয়নি তো। না। অদেবী কোথায়, একবার প্রধান শিক্ষয়িত্রীর কাছে যেতে হবে। আজ তো রবিবার। তাতে কি? তিনি একবার ডেকে পাঠিয়েছেন। আমি বসছি, আপনি যদি তাকে একবার পাঠিয়ে দেন। আচ্ছা বসুন, আমি পাঠিয়ে দিচ্ছি।
