“সো জেন্টলমেন, তোমাদের খবর কী?” বস সামনের কাগজটা সরিয়ে ওদের দিকে তাকালেন।
পুশকিন জানে এর উত্তর দিতে নেই। বসের কোনও ইন্টারেস্ট নেই ওদের ব্যাপারে। উনি কেরলের মানুষ হলেও দীর্ঘদিন কলকাতায় লেখাপড়া করেছেন বলে বাংলাটা ভালই বলেন।
আপন হাতে ধরা ফাইলটা টেবিলে রেখে সামনের দিকে ঠেলে দিয়ে বলল, “ম্যাম, উই হ্যাভ সাম গ্লিচেস ইন দ্যাট সোনাঝুরি প্রজেক্ট। আ পারসন… তারক চক্রবর্তী ইজ ক্রিয়েটিং হ্যাভক ট্রাবল। সো…”
“তুমি এসব তো ই মেলেও জানিয়েছ লাস্ট উইকে। তার পর দশ দিন কেটে গিয়েছে, এখনও একই গল্প দিয়ে যাচ্ছ! নতুন কী প্রগ্রেস হল?”
“ম্যাম, আসলে তারক লোকটি খুব ঝামেলা করছে। কিছুতেই নিজের জায়গা থেকে সরছে না! জুট মিলটা কিছুতেই রিভাইভ করতে দিতে চাইছে না! আর দিলেও ওর ডিম্যান্ড আছে কিছু! আমি মানে…”
বস হাত তুলে আপনকে থামিয়ে দিলেন। বললেন, “একটা লোকের জন্য তবে কি সবটা আটকে যাবে? জুট মিল টেক ওভার করে সেটাকে চালানো, ওই বড় বাড়িটা নিয়ে সেটাকে রিসর্ট করে তোলা। পাশের নদীতে লাক্সারি ফেরি টুরিজ়ম! সব কি তবে আমরা ডিসকার্ড করে দেব? আপন আই মাস্ট সে ইউ আর নট গুড এনাফ।”
“না ম্যাম, আপনি বিশ্বাস করুন, ব্যাপারটা তা নয়। যে কেউ ওখানে গেলে এমন ফেঁসে যাবে! আমি দেখি তারককে যদি অন্যভাবে কিছু করে বাগে আনা যায়,” আপন হাত মুঠো করে চোখ সরু করে একটা গভীর কিছু করতে চলেছে এমন ভাব দেখাল।
“ডোন্ট মেক ফেসেস। সেভেন্টিজ়ের হিন্দি মুভিজ়ের ভিলেনরা এমন মুখ করত। ওসব ড্রামা বাদ দাও আপন,” বস বিরক্ত হয়ে তাকালেন আপনের দিকে। তারপর পুশকিনকে লক্ষ করে বললেন, “তোমার সি-ফুডের ব্যাপারটা তো ভালই এগিয়েছে। এক কাজ করো, গিভ দ্যাট টু আওয়ার ড্রামাকুইন আপন। তুমি সোনাঝুরির প্রজেক্টটা হাতে নাও। আজ থেকে ওটা তোমার আন্ডারে। ভাল কয়েকজন ছেলেমেয়ে রিক্রুট করো। দেন গো ফর ইট। তারক না কে, তাকে বাইপাস করে টক টু মালিকস। ওদের তো সম্পত্তি! দ্যাখো, ওরা কী বলে। টেল দেম আওয়ার প্ল্যান্স। আমরা শুধু বিজ়নেস করি তা নয়, ডেভেলপমেন্টও আমাদের মাধ্যমে হয়। সেটা ওদের বলো। সোনাঝুরি উইল ব্লুম লাইক এনিথিং!”
“আমি পারব ম্যাম!” ঘ্যানঘ্যানে বাচ্চার মতো আপন মাঝখানে লাফিয়ে পড়ে বলল।
“অনেক পেরেছ। আর নয়। পেপার্স পুশকিনকে হ্যান্ডওভার করে দাও। সি ফুডের প্রোডাকশন, সেল্স, প্রোমোশনটা তুমি দ্যাখো,” বস কথাটা শেষ করে পুশকিনকে বললেন, “গেট ইট ডান। আমার ওপরও চাপ আছে। ডোন্ট ডিস্যাপয়েন্ট মি। সোনাঝুরির কাজটা ইমপর্ট্যান্ট। রাশিয়া, ইউএস, ব্রিটেন প্লাস ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ এনভায়রনমেন্ট-এর ব্যাপারে খুব কশাস! ওখানে জুট আর জুটের প্রোডাক্ট ইজ় ইন হাই ডিম্যান্ড। প্লাস ওই হেরিটেজ বিল্ডিংটাও আমাদের দরকার। ফ্যান্টাস্টিক রিসর্ট হবে। বিদেশ থেকে কত ডেলিগেটস আসবে জানো? পুশকিন, তুমি শুরু করে দাও।”
পুশকিন কিছু বলার আগে আপন আবার কথার মাঝে ঢুকে পড়ল, “ম্যাম, ওই রাক্ষসের মতো বাড়িটা আমি দেখেছি। ওটাকে সারাতে গেলে অনেক খরচ হয়ে যাবে। তার চেয়ে ওটাকে ভেঙে যদি…”
“শাট আপ!” বস চুপ করিয়ে দিলেন আপনকে। তারপর বললেন, “রাক্ষস-বাড়ি কী কথা! জানো না এভাবে কথা আমি পছন্দ করি না! পুশকিন, তুমি জানো বাড়িটা সম্বন্ধে?”
“জানি ম্যাম। আমি কাল থেকেই পারস্যু করছি ব্যাপারটা!”
“জানিস?” আপন ব্যঙ্গের গলায় বলল, “কী করে জানলি?”
পুশকিন তাকাল আপনের দিকে। তারপর বসের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলল, “ছোটবেলায় আমার বাবা-ঠাকুরদারা সোনাঝুরিতে থাকত। আমিও খুব ছোট বয়সে থাকতাম। গঙ্গার পাশে আমাদের স্কুল ছিল ম্যাম। সোনাঝুরি নার্সারি অ্যান্ড কিন্ডারগার্টেন স্কুল। যাতায়াতের পথে ওই বিশাল বাড়িটার গেটটা আমরা দেখতাম। বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে ঘিরে রাখা বিশাল চারটে বাড়ি! ওখানের লোকজন বলে জোনাক-বাড়ি!”
বস তাকালেন পুশকিনের দিকে। তারপর কেটে-কেটে বললেন, “হ্যাঁ, ওই বাড়িটাই, আমাদের ওই বাড়িটাও চাই। টেক নেসেসারি মেজ়ারস্।”
.
০৯. আইকা
বড় আয়নাটায় নিজেকে দেখল আইকা। সামান্য মোটা হয়ে গিয়েছে কি? কোমরের দু’পাশে কি লাভ হ্যান্ডেল দেখা যাচ্ছে? পেটেও কি চর্বি জমছে? বুকদুটো কি নেমে আসছে নীচে?
হাফ-টার্নে ঘুরে কাঁধের পেছনের দিকটা দেখল আইকা। স্ট্রেচ মার্কস দেখা যাচ্ছে কি? শরীরে সময় তার থাবা বসাবেই। কিন্তু সেটা এতদিন আটকে রাখতে পেরেছিল আইকা। এবার কি তা হলে সেই প্রতিরোধ ভাঙার সময় হল?
গত সপ্তাহে রক্ত পরীক্ষা করিয়েছে আইকা। এমনি সব ঠিক থাকলেও সুগার লেভেল সামান্য বাড়তির দিকে। ডাক্তার বলেছেন, যেন সতর্ক থাকে আইকা। তা থাকে ও। নিজেকে যতটা সম্ভব যত্ন করে। কিন্তু তাও আজ কেন মনে হচ্ছে যে, শরীর ক্রমশ শিথিল হয়ে আসছে? কেন মনে হচ্ছে জীবন পালটে যাচ্ছে ওর?
কোমরে আর বুকের ওপরে দাঁতের দাগ হয়ে গিয়েছে। ঋষি এমন করে কামড়ে দিয়েছে! ব্যথা করছে বেশ! আইকার এসব মারামারি, আঁচড়ানো, কামড়ানো ভাল লাগে না একটুও! আর ঋষি ঠিক উলটো! মারবে, কামড়াবে, হাত-পা বেঁধে রাখবে!
আইকা রাগ করে, বলে, “এত পর্নো দেখো না। ওসব ওদের শুটিং-এ ঠিক আছে। কিন্তু বাস্তব জীবনে ওসব নোংরামো ভাল লাগে না!”
