“তুয়াদি, মাইরি এমন কোরো না, এটা খুব অন্যায় কিন্তু! এভাবে জোর করে…” মাহির অনেক কষ্টে রাগটা আটকাল।
“জোর করে কী?” তুয়াদি যেন আরও সরে এল গা ঘেঁষে!
তুয়াদির গায়ে যে কিছু নেই সেটা বুঝতে পারল মাহির।
তুয়াদি হেসে বলল, “ঢ্যামনামো দেখলে গা জ্বলে যায়! সতীপনা! আমি তোকে রেপ করি নাকি?”
ও হাত বাড়িয়ে পাশের টেবিলে রাখা মোবাইলটা দু’বারের চেষ্টায় তুলল। মাথার কাছটা টিপে আলো জ্বালাল। হাত ঘুরিয়ে দেখল বিছানাটা। দেখল, এক কোণে ছোট প্যান্টটা গুটিয়ে পড়ে আছে। এবার মেঝেতে দেখল। হ্যাঁ, জিন্সটা পড়ে আছে মাটিতে। ও হাত বাড়িয়ে ছোট প্যান্টটা নিল। তারপর মোবাইলটা বিছানায় রেখে পরে নিল প্যান্টটা।
“প্লিজ় তুয়াদি!” মাহির খাটের স্ট্যান্ডে ঝোলানো নিজের টি-শার্টটা পেড়ে মাথায় গলিয়ে নিয়ে বলল, “তোমার মনে যে এসব আছে, আমি আগে বুঝতে পারিনি। আমার ভাই তোমায় ভালবাসে। মা তোমার কাছে ওকে রেখে যায়। এর পরিবর্তে তুমি আমায় এসব করাও। এটা তো ব্ল্যাকমেল!”
“বেশ করব!” তুয়াদি আচমকা ফুঁসে উঠল, “আমি কি বাড়তি নাকি? আমার জীবন নেই! ইচ্ছে নেই! দাদারা একঘরে করে রাখবে! তোর ভাইকে দেখতে হবে। কেন রে? আমি দাসখত লিখে দিয়ে এসেছি নাকি? আমি যখন তোদের জন্য করব, তোকেও আমার জন্য করতে হবে। আমার বিয়ে হবে না বলে আমি কি সুখ পাব না? ঢ্যামনামো করবি না। যখন ডাকব আসবি। না হলে আবার এমন করব!”
ডিসেম্বরের দশ তারিখ এখন। ঠান্ডা পড়েছে সামান্য। মাহির মাথা নাড়ল নিজের মনে। তারপর টেবিলে রাখা জগের জল খেল। বলল, “এমন কোরো না তুয়াদি। আমরা বিপদে পড়েছি বলে তার সু্যোগ নেবে?”
“তোরা আমার সুযোগ নিচ্ছিস না?” তুয়াদি চাদরটা জড়িয়ে নিল শরীরে, “আমায় একা মেয়েমানুষ পেয়ে তোরা আমায় খাটিয়ে নিচ্ছিস না? আর, আমি তোর সঙ্গে কী খারাপ করেছি? আমার শরীরটা খারাপ? তোর যেমন ভাল লাগে সেভাবে আদর করি না? তা হলে?”
আদর করে তুয়াদি! একবার মাহিরকে পেলে ছিঁড়ে খাবার মতো করে! কিন্তু মাহির কি আর এখানে থাকে তখন! আবছা ঘরে চোখ বন্ধ করে ও পলির কথা ভাবে। পলির চোখ। ওর টিকোলো নাক। ওই মাখনের মতো ঘাড়ে ভেঙে পড়া চুলের গুচ্ছ। ভাবে, কাঁধের ওপর কেটে বসা ব্রেসিয়ারের কালো স্ট্র্যাপ। তুয়াদি যাই করুক না কেন, পলির কথা না মনে করলে মাহিরের কিছুই হয় না!
কিন্তু সেটা তো আর তুয়াদি জানে না। মাহির বোঝে যৌনতা হল সবচেয়ে বড় মিথ্যের জায়গা! কেউ যখন কারও সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত হয়, দু’জনের কেউই জানে না সত্যি সে কার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে!
কিন্তু মাহির নিরুপায়। তুয়াদি ওকে এমন করে ফাঁসিয়ে রেখেছে!
গত চারদিন তুয়াদি যায়নি ওদের বাড়িতে। ভাইকে একা রেখে মা তো আর যেতে পারে না কাজে। তাই মাহিরকেই থাকতে হয়েছিল বাড়িতে। পার্টি অফিসে আর যেতে পারেনি। ব্যাপারটা ভালভাবে নেয়নি রিতুদা। দিল্লিতে থাকলেও এখানকার সব খবর নেয় মানুষটা। কিছুই নজর এড়ায় না।
আজ রিতুদা দুপুরে ফিরবে দিল্লি থেকে। মাহির জানত। তাই মাকে দুপুরে ফোন করেছিল, “মা, আমি তো অনেকটা সময় থাকলাম। এবার তুমি যদি আজ একটু ছুটি করে চলে আসতে পারো, আমি অফিসে যেতে পারি!”
প্রথমে রিতুদার ব্যাপারটা মা ভাল মনে না নিলেও এখন আর কিছু বলে না। মাহিরকে মাস গেলে রিতুদা এখন হাজারদশেক টাকা দেয় হাতে। তা ছাড়া এদিক-ওদিক থেকে আরও তিন-চার হাজার চলে আসে। ভাইয়ের ডায়ালিসিসও অনেকটা কম টাকায় হয়ে যাচ্ছে। মা এখন শান্তই থাকে। মাহির একটা জিনিস বোঝে। টাকাপয়সা হল মশা মারার স্প্রে-র মতো। লোকজন ভনভন করলে ছড়িয়ে দাও, সব চুপ করে যাবে।
কিন্তু আজ মা মাহিরের কথায় কান দেয়নি। উলটে বলেছিল, “আমি আসতে পারব না বিকেলের আগে। তুই যেমন তুয়াকে অপমান করেছিস, তেমন এখন বোঝ!”
অপমান! মাহির আর কথা বাড়ায়নি। আসলে অপমান আর কই! একদিন তুয়াদির ঘরে তুয়াদি ওর ওপর জোরজবরদস্তি করেছিল। সেটাকে আটকানোর চেষ্টা করেছিল মাহির। যদিও সফল হয়নি। নিজেই একসময় কেমন যেন অবশ হয়ে গিয়েছিল। সেটা অপমান হল নাকি! তুয়াদি যা চেয়েছিল, তাই তো পেয়েছে। তা হলে? শুধু চলে আসার আগে মাহির বলেছিল, “দ্যাখো, আমি যদি আর তোমার কাছে আসি!”
মা সেদিন ফিরে এসেছিল বিকেলবেলা। আর দরজার কাছে জুতো খুলতে-খুলতেই শুরু করে দিয়েছিল চিৎকার!
ভাই ঘুমিয়েছিল। মায়ের চিৎকারে ভাই উঠে বসেছিল ধড়মড় করে। মাহির নিজে ঘাবড়ে গিয়ে বেরিয়ে এসেছিল বাইরে।
মা বলছিল, “জানোয়ার ছেলে। আমায় মুখে রক্ত তুলে খাটতে হয় আর তুই এসব করছিস! আমি ফোন করেছিলাম তুয়াকে। ও বলেছে, তুই ওকে অপমান করেছিস। তাই আর আসবে না। শুয়োর, কোন সাহসে অপমান করিস তুই ওকে? জানিস না ও কী করে? তোদের রাবণের গুষ্টি টানতে-টানতে আমি মরলাম আর তুই যাকে-তাকে যা খুশি তাই বলে সাহেবগিরি দেখাবি! যা তুয়ার কাছে। ওকে পা ধরে নিয়ে আয় এখানে!”
মাহির মোবাইলটা পকেটে ভরল। তারপর চারিদিকে দেখে নিল কিছু পড়ে রইল কি না।
তুয়াদি হাসল ওকে দেখে। তারপর বলল, “পরের দিন কন্ডোম কিনে আনবি। আমি ওই পিল-টিল খেতে পারব না। একটা বড় প্যাকেট কিনে এনে দিবি। আমি রেখে দেব। আর বউদিকে বলিস আমি কাল যাব তোদের বাড়ি। যেন চিন্তা না করে!”
