হাওয়া যেন আরও জোরে বইছে। আকাশ ফেটে যাচ্ছে বিদ্যুতে। কিন্তু কাজুর হুঁশ নেই কোনও। আসলে আমাদের কষ্টগুলো একে অন্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। যেন ছোট্ট আলমারিতে ঠেসে ভরে রাখা জিনিসপত্র। আলমারি খুলে একটা বের করতে গেলেই হুড়মুড় করে সব নেমে আসে।
কাজুরও সব কিছু এই সন্ধেতেই যেন মনে পড়তে লাগল। ও কিছুতেই আটকাতে পারছে না নিজেকে। ছাদের মেঝেতে যেন কেউ ওকে পেরেক দিয়ে গেঁথে দিয়েছে। কয়েকহাজার বছরের আটকে থাকা জল যেন আজ দখল নিয়েছে ওর। কাজুর মাথা থেকে সবকিছু মুছে যাচ্ছে সেই জলের স্রোতে।
“কাজুদা!” নরম একটা হাত এসে কাজুর মাথায় আলতো করে স্পর্শ করল হঠাৎ।
কাজুর যেন মনে হল কেউ একটা এসেছে। কেউ একটা ওকে ডাকছে। কিন্তু জলের তলায় ডুবে যাওয়া মানুষের মতো বুঝতে পারল না কোথা থেকে এই শব্দ আসছে। কেউ কি সত্যি ডাকছে? নাকি আসলে কেউ ডাকছে না! কেউ আসেইনি! সবটাই ওর ভ্রম! কারণ, এই পৃথিবী তো নিজের দরকারেই কাজুকে ব্যবহার করে গেছে। দরকার যখন শেষ, তখন কেন কেউ আসবে ওর কাছে!
“কাজুদা, কী হল? ওঠো! উঠে বোসো!” দুটো হাত এবার কাজুকে শক্ত করে ধরে ছাদের মেঝেতে বসিয়ে দিল!
কে এল? কে এটা? কাজু আবছা চোখে তাকাল সামনে। জলের পরদা ভেদ করে দৃষ্টি যেতে পারছে না। সব কেমন লেপটে যাচ্ছে। আবার বিদ্যুৎ চমকাল আকাশ ফাটিয়ে। আর তার আলোয় জলের ওপার থেকে মুখটা এবার বুঝতে পারল কাজু। নয়না!
নয়না এখানে এখন কী করছে? কাজু নিজেকে ঠিক করার চেষ্টা করল। কিন্তু পারছে না। নিজের শরীরের ওপর, মনের ওপর যেন নিজেরই জোর নেই ওর!
“কী হয়েছে কাজুদা, কী হয়েছে? আমি নীচে ছিলাম আন্টির কাছে। জানলাম এসেছ। তাই আমি ছাদে এলাম… তুমি কাঁদছ কেন?”
কাজু কথা বলতে পারছে না। মাটিতে বসে দেওয়ালে হেলান দিয়ে আছে। চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে আসছে পাহাড়ি ঝোরার মতো!
নয়না এগিয়ে এসে আচমকা কাজুকে টেনে নিল বুকের কাছে। জোরে ধরে রাখল। কাজুর কী হল কে জানে, একটা আশ্রয় পেয়েই বোধহয় দু’হাত দিয়ে ও নিজেও পেঁচিয়ে ধরল নয়নার কোমর।
“কী হয়েছে কাজুদা!” নয়নার গলা ভারী হয়ে এল। কাজুকে যেন আরও শক্ত করে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল।
কাজুর কান্না কমে এসেছে। কিন্তু তার দমক মাঝে মাঝে তরঙ্গ ছড়িয়ে দিচ্ছে সারা শরীরে! ও বুঝল নয়না ওকে জড়িয়ে ধরেছে শক্ত করে আর নিজের বুক দুটো ঘষছে কাজুর বুকের সঙ্গে! ওর গলায়, ঘাড়ে মুখ ঘষছে নিজের।
“কাজুদা!” নয়নার গলায় অদ্ভুত এক শ্বাস এসে জড়িয়ে দিচ্ছে কথাগুলো। কাজুর চুলের মধ্যে আঙুল চালিয়ে কাজুর মুখটাকে আঁকড়ে ধরছে নিজের বুকের কাছে। শাড়ি সরে যাচ্ছে। ছোট ছোট ঢেউ-এর মধ্যে যেন কাজুকে ডুবিয়ে মারতে চাইছে ও।
কাজু নিজেকে ছাড়ানোর কথা ভাবল একবার। কিন্তু তারপর বুঝল নয়নার শরীরের স্পর্শে ও নিজেও কেমন শক্ত হয়ে উঠছে! এটা কী হচ্ছে! এমন হচ্ছে কেন! কীভাবে এ সম্ভব! কিছু বোঝার আগেই এবার নয়না এই আধো-অন্ধকারে, এই মন্থনের মধ্যে আচমকা হাত দিয়ে স্পর্শ করল ওর কাঠিন্য!
কাজু মুখ তুলে তাকাল নয়নার দিকে। নয়না দ্বিধাহীনভাবে কামড়ে ধরল কাজুর ঠোঁট। ওর জিভ কাজুর জিভ স্পর্শ করেছে। জিভ কামড়ে ধরেছে। কাজু বাধা দিচ্ছে না। বরং নয়নার জিভকে যেন খুঁজতে দিচ্ছে কিছু। যেন নয়নার সঙ্গে ও নিজেও খুঁজছে নিজেকে। চোখের জলের নুনের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে ঘাম, লালা। নয়না সবুজ শক্ত লতার মতো ক্রমশ দখল নিয়ে নিচ্ছে কাজুর। ওর শাড়ি সরে যাচ্ছে! ব্লাউজ় নেমে যাচ্ছে! কাজু যেন তলিয়ে যাচ্ছে গোলকধাঁধায়! নয়নার জিভে নারকেলের স্বাদ। ও কাজুর একটা হাত নিয়ে নিজের খোলা বুকের ওপর চেপে ধরেছে! মুখটা চেপে ধরছে কঠিন হয়ে ওঠা বৃন্তে! কাজুর চারিদিকে কেমন ধাঁধা লেগে যাচ্ছে। নয়না ক্রমশ উঠে আসছে ওর শরীরের ওপর। ওর প্যান্টের হুক খুলে দিচ্ছে। বোতাম টান মেরে ছিঁড়ে দিচ্ছে! আর অস্ফুটে বলছে, “তুমি আমার কাজুদা! তুমি শুধু আমার!”
কাজু কার? নয়নার? পেখমের? নাকি কাজু নিজের? কিছুই বুঝতে পারছে না ও। শুধু এক প্রবল স্রোত ওকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে বিষাদ থেকে গোলকধাঁধায়। কাজু বুঝতে পারছে এটা ঠিক হচ্ছে না। কিন্তু আটকাতেও পারছে না নিজেকে। নয়না ওর কোলের ওপর বসে পড়েছে। শাড়ি উঠে গেছে ঊরু অবধি। দুটো পা দিয়ে সাঁড়াশির মতো আঁকড়ে ধরেছে ওকে। ব্লাউজ়ের সামনেটা সম্পূর্ণ খুলে ফেলেছে কখন। কাজুর মুখটা চেপে ধরছে শরীরে। কাজু বুঝল ওর প্রতিরোধ শেষ হয়ে আসছে। মনে হল, কেনই-বা প্রতিরোধ করবে? কীসের জন্য করবে? কে আছে ওর? সেই মেয়েটা কি একবারও ভাবল ওর কথা? অন্ধকার গলিতে দাঁড়িয়ে থাকা বড় গাড়ি যখন ওর পথ বন্ধ করে দিয়েইছে, তখন অন্য পথে যেতে কে আটকাবে ওকে!
আবছা চোখে নয়নার দিকে তাকাল কাজু। বুঝল, মেয়েটা আর নিজের মধ্যে নেই। পাগলের মতো ওকে নিজের সঙ্গে বেঁধে ফেলতে চাইছে। নয়নার ভেতরের আদিম নারী তার পুরুষকে খুঁজে চলেছে যেন। সমস্ত ভালবাসা আর আকুতি যেন এসে জ্বলে উঠেছে আজ নয়নার মধ্যে।
কাজু ছিন্নভিন্ন আকাশ থেকে নেমে আসা সাদা-গোলাপি আলোয় নয়নাকে দেখল। তীক্ষ্ণ কাচের মতো মুখ। কপালে কাটা দাগ। বড়-বড় চোখ! মুখে বিন্দু-বিন্দু ঘামের ফোঁটা। কাজুকে সম্পূর্ণ গ্রাস করে নিয়ে এখন থরথর করে কাঁপছে! মনে হচ্ছে যে-কোনও সময় ভেঙে যাবে মেয়েটা!
