কিন্তু বাপি কোথায়? বাইরের বাগানে, নাকি ভোরবেলাতেই বাজারে রওনা দিল? উঁহু, বাজারে। তো যায়নি–ওই তো, রান্নাঘরের দেওয়ালে বাজারের থলে ঝুলছে! বিদিশা হঠাৎ-ই সুধাময়ের ভাবনা ভাবতে-ভাবতে বিষণ্ণ হয়ে পড়ল। ও আর কান্না চাপতে পারল না। হাউহাউ করে কাঁদতে শুরু করল।
আর ঠিক তখনই রণজয় ঝুঁকে পড়ে বিদিশাকে এক হ্যাঁচকায় দাঁড় করিয়ে দিল। তারপর ওকে খুব কাছে টেনে নিয়ে বলল, বউ, কতদিন তোমাকে ভালো করে দেখিনি– ওর গালে ঠোঁটে পরপর কটা চুমু খেল রণজয়। তারপর আদুরে গলায় বলল, নাও, দেখাও।
বিদিশার মাথায় কিছু ঢুকছিল না। ওর শরীরটা কাঠ হয়ে ছিল রণজয়ের হাতের বাঁধনে। কান্নার দমকে ঝাঁকুনি খেয়ে উঠছিল বারবার। ও চোখ নামিয়ে রেখেছিল মেঝের দিকে। কী হবে এখন! এই বিপজ্জনক পাগলটার হাত থেকে কী করে রেহাই পাবে বিদিশা!
কী হল! দেখাও– ওকে ছেড়ে দিয়ে কয়েক পা পিছিয়ে গেল রণজয়, নাও, চটপট সব খোলো–।
এতক্ষণে পাগলটার খামখেয়ালি মতলব স্পষ্ট হল বিদিশার কাছে। এই নোংরা লোকটার সঙ্গে ও দু-বছর ঘর করেছে ভাবতেও গা ঘিনঘিন করে উঠল ওর। ও আড়চোখে ডাইনিং টেবিলে রাখা নির্লিপ্ত ছুরিটার দিকে দেখল। পুরোনো কয়েকটা ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল বিদিশার। এইরকম বিপদ এড়াতেই ও মানিকতলার বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছিল সল্ট লেকে। কিন্তু এখন বুঝতে পারছে, লাভ কিছু হয়নি।
রণজয়ের হাত ওর শাড়ি খামচে ধরতেই বিদিশা চমকে উঠল। প্রতিবর্তী ক্রিয়ায় বাধা দিয়েছিল ভুল করে। ভুল যে হয়েছে সেটা বুঝিয়ে দিল রণজয়ের নৃশংস থাপ্পড়। বিদিশা টলে পড়ে গেল মেঝেতে। পড়ে থাকা চেয়ারটা ওর শরীরকে বাধা দিল। ফলে যন্ত্রণার তির বিধে গেল পিঠে, কোমরে। ও চেঁচিয়ে কেঁদে উঠল।
আর তখনই শুনতে পেল, বন্ধ দরজার পিছন থেকে মা চেঁচিয়ে ডাকছে ওকে? মানু! মানু, কী হল? রনো, দরজাটা খুলে দাও। মাথা গরম কোরো না। কী হয়েছে আমাকে খুলে বলো। মানুকে কিছু কোরো না…।
রণজয় একবার ঘাড় বেঁকিয়ে দেখল বন্ধ দরজাটার দিকে। তারপর ঝুঁকে পড়ে একমনে বিদিশার শাড়ি ধরে টানতে লাগল।
বিদিশা আর বাধা দিতে পারল না। শাড়ির পাক যতই খুলতে লাগল ওর শরীরটা ততই গড়িয়ে যেতে লাগল পাকে-পাকে।
রণজয় অত্যন্ত সিরিয়াস মুখে দ্রুত হাতে কাজ সারতে লাগল। খুলে নেওয়া শাড়িটা ও দলা পাকিয়ে ছুঁড়ে দিল এক কোণে। তারপর পাথরের মতো মুখে বিদিশাকে হাত ধরে টেনে তুলে দাঁড় করিয়ে দিল।
তুমি নিজে খুলবে, না কি আমাকে খুলতে হবে!
রণজয়ের গলার স্বর ভয় পাইয়ে দিল বিদিশাকে। ওর মনে হল, রণজয় বোধহয় বেশ কয়েকটা টেনটেক্স ফোর্ট খেয়ে এসেছে। ও তাড়াতাড়ি ব্লাউজের হুকে হাত দিল।
অরুণা তখনও ইনিয়েবিনিয়ে কেঁদে কেঁদে কীসব বলছিলেন ঠিকমতো বোঝা যাচ্ছিল না।
রণজয় সরাসরি বিদিশার বুকের দিকে তাকিয়ে ছিল। সেদিকে চোখ রেখেই ও ডাইনিং টেবিলে উঠে বসল। বলল, মানু, আমি ফুলশয্যার রাতের মতো এক্সাইটেড হয়ে পড়েছি। কুইক। ওঃ, কাম অন–অত লজ্জা কোরো না। তোমার সবই তো আমার দেখা–শুধু মাঝে ন-দশ মাস দেখিনি। নাও, জলদি।
বিদিশার বোধহয় দেরি হচ্ছিল। অন্তত রণজয়ের সেইরকমই মনে হয়েছে। তাই ও একলাফে নেমে এল বিদিশার খুব কাছে। ওকে জাপটে ধরে পাগলের মতো চুমু খেতে লাগল, মুখ ঘষতে লাগল, শরীরে শরীরে ঘষতে লাগল। ওর হাত মাকড়সার মতো হেঁটে বেড়াতে লাগল বিদিশার সারা গায়ে।
বিদিশার প্রায় দম বন্ধ হয়ে এসেছিল। ও এবার স্পষ্ট টের পেল রণজয়ের অবস্থা। সত্যিই ও টেনটেক্স ফোর্ট খেয়ে এসেছে। বিদিশা কাঁদতে চেষ্টা করছিল, কিন্তু ওর গলা দিয়ে কেমন একটা গোঙানির শব্দ বেরিয়ে আসছিল।
ব্লাউজ কখন খুলে গেছে। রণজয়ের লোভাতুর হাতের সামনে কোনও আড়ালই আর নেই। বিদিশা নিষ্প্রাণ মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে অনুভব করতে লাগল ওর প্রাক্তন স্বামীর নির্লজ্জ আদর। প্রথমে হাত দিয়ে, পরে মুখ দিয়ে। ও দেখতে পাচ্ছিল, ওর ফরসা বুকে রণজয়ের কালো মাথাটা কেমন ঘনিষ্ঠ হয়ে রয়েছে, পাগলের মতো ছটফট করছে এপাশ-ওপাশ।
হঠাৎ-ই রণজয় খ্যাপা কুকুরের মতো বিদিশাকে এক হাচড়ায় কোলে তুলে ফেলল। তারপর বসিয়ে দিল ডাইনিং টেবিলে। ওর শায়ার দড়ি ধরে প্রচণ্ড এক টান মারল। পট করে ছিঁড়ে গেল দড়ি। বিদিশা চোখ বুজে ফেলল। ঘেন্নায় ওর মরে যেতে ইচ্ছে করছিল।
সেই অবস্থাতেই ও টের পেল শায়াটা ধরে ভয়ংকর এক টান মারল কেউ। শব্দে বুঝল শায়া অনেকটা ছিঁড়ে গেল। তারপর বেশ কয়েকটা হ্যাঁচকা টানে ওটা বিদিশার শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হল।
লজ্জা ঢাকতে বিদিশা চোখ বুজেই ছিল। তবু টের পাচ্ছিল রণজয় ওর ইচ্ছে মেটানোর পথে ধাপে-ধাপে এগোচ্ছে। পাঁচ-দশ সেকেন্ড পরেই ডাইনিং টেবিলটা বিছানা হয়ে গেল, আর ডাইনিং হলটা বেডরুম। সেইসঙ্গে দিনটাও বোধহয় রাত হয়ে গেল।
সহবাস যে ধর্ষণের চেয়েও জঘন্য হতে পারে সেটা এই প্রথম উপলব্ধি করল বিদিশা। রণজয়ের ফ্রন্টাল লোবের যত গণ্ডগোল সব ধরা পড়ে গেল এই মিলনেও। উপোসী কোনও অশরীরী শরীর ফিরে পেতে যতটা আকুল হয় রণজয়ের চাহিদাও ছিল ঠিক ততটাই আকুল।
পরিশ্রমের ধকলে হাপরের মতো হাঁফাচ্ছিল রণজয়, আর কাঠ হয়ে পড়ে থাকা বিদিশার কোমল শরীর সেই কম্পন অনুভব করছিল। একইসঙ্গে বিদিশা ভাবছিল, কী করে রুখে দেওয়া যায় এই মারাত্মক অমানুষটাকে।
