হাদীস নং ১৭৩২
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জুহায়না গোত্রের একজন মহিলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, আমার আম্মা হজ্জের মান্নত করেছিলেন তবে তিনি হজ্জ আদায় না করেই ইন্তিকাল করেছেন। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ্জ করতে পানি ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তার পক্ষ হতে তুমি হজ্জ আদায় কর। তুমি কি মনে কর যদি তোমার আম্মার উপর ঋণ থাকত তা হলে কি তুমি তা আদায় করতে না? সুতরাং আল্লাহর হক আদায় করে দাও। কেননা, আল্লাহর হকই সবচাইতে অধিক আদায়যোগ্য।
হাদীস নং ১৭৩৩
আবু আসিম রহ………ফাযল ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন মহিলা বললেন, (অপর সূত্রে) মূসা ইবনে ইসমাঈর রহ……..ইবনে আব্বস রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, বিদায় হজ্জের বছর খাসআম গোত্রের একজন মহিলা এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল ! আল্লাহর তরফ থেকে বান্দার উপর যে হজ্জ ফরয হয়েছে তা আমার বৃদ্ধ পিতার উপর এমন সময় ফরয হয়েছে যখন তিনি সওয়ারীর উপর ঠিকভাবে বসে থাকতে সক্ষম নন। আমি তার পক্ষ হতে হজ্জ আদায় করলে তার হজ্জ আদায় হবে কি ? তিনি বললেন : (নিশ্চয়ই আদায় হবে)।
হাদীস নং ১৭৩৪
আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ফযল (ইবনে আব্বাস) রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাওয়ারীতে তাঁর পেছনে বসা ছিলেন। এমতাবস্থায় খাসআম গোত্রের এক মহিলা আসলেন। ফযল রা. মহিলার দিকে তাকাতে লাগলেন এবং মহিলাও তার দিকে তাকাতে লাগলেন। আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফযল রা.-এর মুখটি অন্যদিকে ফিরিয়ে দিতে লাগলেন। এ সময় মহিলাটি বললেন, আমার পিতার বৃদ্ধ অবস্থায় আল্লাহর পক্ষ থেকে তার উপর হজ্জ ফরয হয়েছে এমন সময়. যখন তিনি সওয়ারীর উপর বসে থাকতে পারছেন না। আমি কি তার পক্ষ হতে হজ্জ আদায় করতে পানি ? তিনি বললেন : হ্যাঁ। এ ছিল বিদায় হজ্জের সময়কার ঘটনা।
হাদীস নং ১৭৩৫
আবুন নুমান রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে মালপত্রের সাথে মুযদালিফা থেকে রাত্রিকালে প্রেরণ করেছিলেন।
হাদীস নং ১৭৩৬
ইসহাক রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার গাধীর পিঠে আরোহণ করে (মিনায়) আগমন করলাম। তখন আমি সাবালক হওয়ার নিকটবর্তী ছিলাম। ঐ সময়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আমি চলতে চলতে প্রথম কাতারে কিছু অংশ অতিক্রম করে চলে যাই। এরপর সাওয়ারী থেকে নিচে অবতরণ করি। গাধীটি চরে খেতে লাগল। আর আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে লোকদের সাথে কাতারে শামিল হয়ে যাই। ইউসুফ রহ. ইবনে শিহাব রহ. সূত্রে তাঁর বর্ণনায় মিনা শব্দের পর বিদায় হজ্জের সময় কথাটি বর্ণনা করেছেন।
হাদীস নং ১৭৩৭
আবদুর রাহমান ইবনে ইউনুস রহ……….সায়িব ইবনে ইয়াযীদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার সাত বছর বয়সে আমাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হজ্জ করানো হয়েছে।
হাদীস নং ১৭৩৮
আমর ইবনে যুরারা রহ…….উমর ইবনে আবদুল আযীয রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি সায়িব ইবনে ইয়াযীদ সম্পর্কে বলতেন, সায়িবকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সফর সামগ্রীর কাছে বসিয়ে হজ্জ করানো হয়েছে।
হাদীস নং ১৭৩৯
মুসাদ্দাদ রহ………উম্মুল মুমিনীন আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম : হে আল্লাহর রাসূল ! আমরা কি আপনার সঙ্গে যুদ্ধ ও জিহাদে অংশগ্রহণ করব না ? তিনি বললেন, তোমাদের জন্য উত্তম জিহাদ হল মাকবুল হজ্জ। আয়িশা রা. বললেন : নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ কথা শোনার পর আমি আর কখনো হজ্জ ছাড়ব না।
হাদীস নং ১৭৪০
আবু নুমান রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : মেয়েরা মাহরাম (যার বিবাহ নিষিদ্ধ) ব্যতীত অন্য কারো সাথে সফর করবে না। মাহরাম কাছে নেই এমতাবস্থায় কোন পুরুষ কোন মহিলার নিকট গমন করতে পারবে না। এ সময় এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল ! আমি অমুক অমুক সেনাদলের সাথে জিহাদ করার জন্য যেতে চাচ্ছি। কিন্তু আমার স্ত্রী হজ্জ করতে যেতে যাচ্ছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তুমি তার সাথেই যাও।
হাদীস নং ১৭৪১
আবদান রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ থেকে ফিরে এসে উম্মে সিনান রা. নামক এক আনসারী মহিলাকে বললেন : হজ্জ আদায় করাতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তিনি বললেন, অমুকের আব্বা অর্থাৎ তাঁর স্বামী, কারণ পানি টানার জন্য আমাদের মাত্র দুটি উট আছে। একটিতে সাওয়ার হয়ে তিনি হজ্জ আদায় করতে গিয়েছেন। আর অন্যটি আমাদের জমিতে পানি সিঞ্চনের কাজ করছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : রমযান মাসে একটি উমরা আদায় করা একটি ফরয হজ্জ আদায় করার সমান অথবা বলেছেন : আমার সাথে একটি হজ্জ আদায় করার সমান। হাদীসটি ইবনে জুরায়জ রহ…….আতা রহ. ও ইবনে আব্বাস রা.-এর সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন এবং উবায়দুল্লাহ রহ. জাবির রা.-এর সূত্রে এ হাদীসটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
