হাদীস নং ১৭৪২
সুলাইমান ইবনে হারব রহ……..যিয়াদের আযাতকৃত গোলাম কাযাআ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু সাঈদ রা.-কে যিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বারটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, বলতে শুনেছি, চারটি বিষয় যা আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি (অথবা) তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতেন। আবু সাঈদ রা. বলেন, এ বিষয়গুলো আমাকে আশ্চর্যাম্বিত করে দিয়েছে এবং চমত্কৃত করে ফেলেছ। (তা হল এই,) স্বামী কিংবা মাহরাম ব্যতীত কোন মহিলা দুই দিনের পথ সফর করবে না। ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা-এ দুই দিন কেউ কোন সালাত আদায় করবে না। মসজিদে হারাম, আমার মসজিদ এবং মসজিদে আকসা-এ তিন মসজিদ ব্যতীত অন্য কোন মসজিদের জন্য সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে না।
হাদীস নং ১৭৪৩
মুহাম্মদ ইবনে সালাম রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বৃদ্ধ ব্যক্তিকে তার দুই ছেলের উপর ভর করে হেটে যেতে দেখে বললেন : তার কি হয়েছে ? তারা বললেন, তিনি পায়ে হেটে হজ্জ করার মানত করেছেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : লোকটি নিজেকে কষ্ট দিক আল্লাহ তা’আলার এর কোন প্রয়োজন নেই । তাই তিনি তাকে সওয়াব হয়ে চলার জন্য আদেশ করলেন।
হাদীস নং ১৭৪৪
ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ………উকবা ইবনে আমির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার বোন পায়ে হেটে হজ্জ করার মানত করেছিল। আমাকে এ বিষয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ফতোয়া আনার নির্দেশ করলে আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন : পায়ে হেঁটেও চলুক, সওয়ারও হোক। ইয়াযীদ ইবনে আবু হাবীব রহ. বলেন, আবুল খায়ের রহ. উকবা রা. থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হতেন না।
হাদীস নং ১৭৪৫
আবু আসিম রহ………উকবা রা. থেকেও এ হাদীস বর্ণিত রয়েছে।
মদীনার ফযীলত অধ্যায় (১৭৪৬-১৭৬৯)
হাদীস নং ১৭৪৬
আবু নুমান রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মদীনা এখান থেকে ওখান পর্যন্ত হারম (রূপে গণ্য)। সুতরাং তার গাছ কাটা যাবে না এবং কুরআন-সুন্নাহর খেলাফ কোন কাজ মদীনায় করা যাবে না। যদি কেউ কুরআন-সুন্নাহর খেলাফ কোন কাজ করে তাহলে তার প্রতি আল্লাহর লানত এবং ফেরেশতাদের ও সকল মানুষের।
হাদীস নং ১৭৪৭
আবু মামার রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় এসে মসজিদ নির্মাণের আদেশ দেন। তারপর বলেন : হে বনূ নাজ্জার ! আমার নিকট থেকে মূল্য নিয়ে (ভূমি) বিক্রি কর। তাঁরা বললেন, আমরা এর মূল্য কেবল আল্লাহর নিকটই চাই । এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ মুশরিকদের কবর খুড়ে ফেলা হল, ধ্বংসাবশেষ সমতল করা হল, খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলা হল। কেবল মসজিদের কিবলার দিকে কিছু খেজুর গাছ সারিবদ্ধভাবে রাখা হল।
হাদীস নং ১৭৪৮
ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মদীনার দু’ পাথুরে ভূমির মধ্যবর্তী স্থান আমার ঘোষণা মোতাবেক নির্ধারিত করা হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ হারিসার নিকট তাশরীফ আনেন এবং বলেন, হে বনূ হারিসা ! আমার ধারণা ছিল যে, তোমরা হারমের বাইরে অবস্থান করছ, তারপর তিনি সেদিকে দৃষ্টিপাত করে বললেন : (না তোমরা হারমের বাইরে নও) বরং তোমরা হারমের ভিতরেই আছ।
হাদীস নং ১৭৪৯
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আল্লাহর কিতাব এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, এই সহীফা ছাড়া আর কিছুই নেই। তিনি আরো বলেন, আয়ির নামক স্থান থেকে অমুক স্থান পর্যন্ত মদীনা হল হারম। যদি কেউ এতে কুরআর-সুন্নাহর খেলাফ অসঙ্গত কোন কাজ করে অথবা কুরআর-সুন্নাহর খেলাফ আচরণকারী কে আশ্রয় দেয়, তাহলে তার উপর আল্লাহর লানত এবং সকল ফেরেশতা ও মানুষের। সে ব্যক্তির কোন নফল এবং ফরয ইবাদত কবুল করা হবে না। তিনি আরো বলেন, মুসলমান কর্তৃক নিরাপত্তা দানের অধিকার সকলের ক্ষেত্রে সমান। তাই যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দেওয়া নিরাপত্তাকে লংঘন করবে, তার প্রতি আল্লাহর লানত এবং সকল ফেরেশতা ও মানুষের। আর কবুল করা হবে না তার কোন নফল কিংবা ফরয ইবাদত। যে ব্যক্তি তার মাওলার (মিত্রের) অনুমতি ব্যতীত অন্য কওমের সাথে বন্ধুত্ব করবে, তার প্রতিও আল্লাহ লানত এবং সকল ফেরেশতা ও মানুষের। তার নফল কিংবা ফরয কোন ইবাদতই কবুল করা হবে না। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, ‘আদলুন’ অর্থ বিনিময়।
হাদীস নং ১৭৫০
আবদুল্লাহ ইবেন ইউসুফ রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : আমি এমন এক জনপদে হিজরত করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি, যে জনপদ অন্য সকল জনপদের উপর জয়ী হবে । লোকেরা তাকে ইয়াসরিব বলে থাকে। এ হল মদীনা। তা অবাঞ্ছিত লোকদেরকে এমনভাবে বহিষ্কার করে দেয়, যেমনভাবে কামারের অগ্নিচুলা লোহার মরিচা দূর করে দেয়।
