হাদীস নং ১৭১৪
মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : আল্লাহ তা’আলা মক্কাকে সম্মানিত করেছেন। সুতরাং তা আমার পূর্বে কারো জন্য হালাল ছিল না এবং আমার পরেও কারো জন্য হালাল হবে না। তবে আমার জন্য কেবল দিনের কিছু সময়ের জন্য হালাল করে দেওয়া হয়েছিল। তাই এখানকার ঘাস, লতাপাতা কাটা যাবে না ও গাছ কাটা যাবে না। কোন শিকার জন্তুকে তাড়ান যাবে না এবং কোন হারানো বস্তুকেও হস্তগত করা যাবে না। অবশ্য ঘোষণাকারী ব্যক্তি এ নিয়মের ব্যতিক্রম। আব্বাস রা. বললেন : হ্যাঁ, ইযখিরকে বাদ দিয়েই। খালিদ রহ. ইকরিমা রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, হারমের শিকার জানোয়ারকে তাড়ান যাবে না, এর অর্থ তুমি কি জান ? এর অর্থ হল ছায়া থেকে তাকে তাড়িয়ে তার স্থানে অবতরণ করা।
হাদীস নং ১৭১৫
উসমান ইবনে আবু শায়বা রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন : এখন থেকে আর হিজরত নেই , রয়েছে কেবল জিহাদ এবং নিয়ত। সুতরাং যখন তোমাদেরকে জিহাদের জন্য ডাকা হবে, এ ডাকে তোমরা সাড়া দিবে। আসমান-যমীন দিন থেকেই আল্লাহ তা’আলা এ শহরকে মহাসম্মানিত করে দিয়েছেন। আল্লাহ কর্তৃক সম্মানিত করার কারণেই কিয়ামত পর্যন্ত এ শহর থাকবে মহাসম্মানিত হিসেবে। এ শহরে লড়াই করা আমার পূর্বেও কারো জন্য বৈধ ছিল না এবং আমর জন্যও দিনের কিছু অংশ ব্যতীত বৈধ হয়নি। আল্লাহ কর্তৃক সম্মানিত করার কারণে তা থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত মহাসম্মানিত হিসেবে। এর কাটা উপড়িয়ে ফেলা যাবে না, তাড়ান যাবে না এর শিকার জানোয়ারকে, ঘোষণা করার উদ্দেশ্য ছাড়া কেউ এ স্থানে পড়ে থাকা কোন বস্তুকে উঠিয়ে নিতে পারবে না এবং কর্তন করা যাবে না এখানকার কাঁচা ঘাস ও তরুলতাগুলোকে। আব্বাস রা. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল ! ইযখির বাদ দিয়ে কেননা, এতো তাদের কর্মকারদের জন্য এবং তাদের ঘরে ব্যবহারের জন্য। বর্ণনাকারী বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : হ্যাঁ, ইযখির বাদ দিয়ে।
হাদীস নং ১৭১৬
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় সিংগা লাগিয়েছিলেন। অপর এক সূত্রে সুফিয়ান রহ. ইবনে আব্বাস রা. থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, এ হাদীসটি আমর রহ. আতা রহ. এবং তাউস রহ. উভয় থেকে শুনেছেন।
হাদীস নং ১৭১৭
খালিদ ইবনে মাখলাদ রহ……..ইবনে বুহায়না রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় লাহইয়ে জামাল নামক স্থানে তাঁর মাথার মধ্যখানে সিংগা লাগিয়েছিলেন।
হাদীস নং ১৭১৮
আবুল মুগীরা আবদুল কুদ্দুস ইবনে হাজ্জাজ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় মায়মুনা রা.-কে বিবাহ করেছেন।
হাদীস নং ১৭১৯
আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল ! ইহরাম অবস্থায় আপনি আমাদেরকে কী ধরনের কাপড় পরতে আদেশ করেন ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : জামা, পায়জামা, পাগড়ি ও টুপি পরিধান করবে না। তবে কারো যদি জুতা না থাকে তাহলে সে যেন মোজা পরিধান করে তার গিরার নিচের অংশটুকু কেটে নেয়। তোমরা জাফরান এবং ওয়ারস লাগানো কোন কাপড় পরিধান করবে না। মুহরিম মহিলাগণ মুখে নেকাব এবং হাতে হাত মোজা লাগাবে না। মূসা ইবনে উকবা, ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম ইবনে উকবা, জুওয়ায়রিয়া, ইবনে ইসহাক রহ. নেকাব এবং হাত মোজার বর্ণনায় লায়স রহ.-এর অনুসরণ করেছেন। উবায়দুল্লাহ রহ. এর স্থলে বলেছেন এবং তিনি বলতেন , ইহরাম বাঁধা মেয়েরা নেকাব ও হাত মোজা ব্যবহার করবে না। মালিক রহ. নাফি রহ. এর মাধ্যমে ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইহরাম বাঁধা মেয়েরা নেকাব ব্যবহার করবে না। লায়স ইবনে আবু সুলাইমান রহ. এ ক্ষেত্রে মালিক রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।
হাদীস নং ১৭২০
কুতাইবা রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক মুহরিম ব্যক্তিকে তার উষ্ট্রী ফেলে দেয়, ফলে তার ঘাড় ভেঙ্গে যায় এবং মারা যায়। তাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আনা হয়। তিনি বললেন : তোমরা তাকে গোসল করাও এবং কাফন পরাও। তবে তার মাথা ঢেকে দিওনা এবং সুগন্ধি লাগিও না । তাকে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় কিয়ামতের ময়দানে উঠানো হবে।
হাদীস নং ১৭২১
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে হুনায়ন রহ. তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবওয়া নামক স্থানে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. এবং মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা.-এর মধ্যে মতানৈক্য হল। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বললেন, মুহরিম ব্যক্তি তার মাথা ধৌত করতে পারবে আর মিসওয়ার রহ. বললেন, মুহরিম তার মাথা ধৌত করতে পারবে না। এরপর আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. আমাকে আবু আয়্যূব আনসারী রা.-এর নিকট পাঠালেন। আমি তাকে সালাম করলাম । তিনি বললেন, কে ? বললাম, আমি আবদুল্লাহ ইবনে হুনায়ান। মুহরিম অবস্থায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে তাঁর মাথা ধৌত করতেন, এ বিষয়টি জিজ্ঞাসা করার জন্য আমাকে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. আপনার নিকট পাঠিয়েছেন। এ কথা শুনে আবু আয়্যূব রা. তাঁর হাতটি কাপড়ের উপর রাখলেন এবং কাপড়টি নিচু করে দিলেন। ফলে তাঁর মাথাটি আমি পরিষ্কারভাবে দেখতে পেলাম। তারপর তিনি এক ব্যক্তিকে, যে তার মাথায় পানি ঢালছিল, বললেন, পানি ঢাল। সে তাঁর মাথায় পানি ঢালতে থাকল। তারপর তিনি দু’ হাত দ্বারা মাথা নাড়া দিয়ে হাত দু’ খানা একবার সামনে আনলেন আবার পেছনের দিকে টেনে নিলেন। এরপর বললেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ করতে দেখেছি।
