হাদীস নং ১৭০৭
মূসা ইবেন ইসমাঈল রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, তাকে তাঁর পিতা বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জে যাত্রা করলে তাঁরাও সকলে যাত্রা করলেন। তাদের থেকে একটি দলকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য পথে পাঠিয়ে দেন। তাদের মধ্যে আবু কাতাদা রা.-ও ছিলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমরা সমুদ্র তীরের রাস্তা ধরে অগ্রসর হবে আমাদের পরস্পর সাক্ষাত হওয়া পর্যন্ত। তাই তাঁরা সকলেই সমুদ্র তীরের পথ ধরে চলতে থাকেন। ফিরার পথে তাঁরা সবাই ইহরাম বাঁধলেন কিন্তু আবু কাতাদা রা. ইহরাম বাঁধলেন না। পথ চলতে চলতে হঠাৎ তাঁরা কতগুলো বন্য গাধা দেখতে পেলেন। আবু কাতাদা রা. গাধাগুলোর উপর হামলা করে একটি মাদী গাধাকে হত্যা করে ফেললেন। এরপর এক স্থানে অবতরণ করে তাঁরা সকলেই এর গোশত খেলেন। তারপর বললেন, আমরা তো মুহরিম, এ অবস্থায় আমরা কি শিকার জন্তুর গোশত খেতে পারি ? তাই আমরা গাধাটির অবশিষ্ট গোশত উঠিয়ে নিলাম। তাঁরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌছে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমরা ইহরাম বেঁধেছিলাম কিন্তু আবু কাতাদা রা. ইহরাম বাঁধেননি। এ সময় আমরা কতগুলো বন্য গাধা দেখতে পেলাম। আবু কাতাদা রা. এগুলোর উপর আক্রমণ করে একটি মাদী গাধা হত্যা করে ফেললেন । এক স্থানে অবতরণ করে আমরা সকলেই এর গোশত খেয়ে নিই। এরপর বললাম, আমরা কি শিকারকৃত জানোয়ারের গোশত খেতে পারি ? এখন আমরা এর অবশিষ্ট গোশত নিয়ে এসেছি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমাদের কেউ কি এর উপর আক্রমণ করতে তাকে আদেশ বা ইশারা করেছে ? তাঁরা বললেন, না, আমরা তা করিনি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাহলে বাকী গোশত তোমরা খেয়ে নাও।
হাদীস নং ১৭০৮
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..সাব ইবনে জাসসামা লায়সী রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আবওয়া বা ওয়াদ্দান নামক স্থানে অবস্থানকালে তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে একটি জংলী গাধা হাদিয়া দিলে তিনি তা ফিরিয়ে দেন। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চেহারায় মলিনতা লক্ষ্য করে বললেন : তা আমি কখনো তোমার নিকট ফিরিয়ে দিতাম না যদি আমি মুহরিম না হতাম।
হাদীস নং ১৭০৯
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : পাঁচ প্রকার প্রাণী হত্যা করা মুহরিমের জন্য দূষণীয় নয়। আবদুল্লাহ ইবনে দীনার ও মুসাদ্দাদ রহ……..ইবনে উমর রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণীগণের একজন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, মুহরিম ব্যক্তি (নির্দিষ্ট) প্রাণী হত্যা করতে পারবে । আসবাগ ইবনে ফারাজ রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর সুত্রে হাফসা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : পাঁচ প্রকার প্রাণী হত্যা করাতে তার কোন দোষ নেই। (যেমন) কাক, চিল, ইঁদুর, বিচ্ছু ও পাগলা কুকুর।
হাদীস নং ১৭১০
ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : পাঁচ প্রকার প্রাণী এত ক্ষতিকর যে, এগুলোকে হারম শরীফেও হত্যা করা যেতে পারে। (যেমন) কাক, চিল, বিচ্ছু, ইঁদুর ও পাগলা কুকুর।
হাদীস নং ১৭১১
উমর ইবেন হাফস ইবেন গিয়াস রহ……..আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মিনাতে পাহাড়ের কোন এক গুহায় আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। এমতাবস্থায় নাযিল হল তাঁর উপর সূরা ওয়াল মুরসালাত। তিনি সূরাটি তিলাওয়াত করছিলেন। আর আমি তাঁর পবিত্র মুখ থেকে গ্রহণ করছিলাম। তাঁর মুখ (তিলাওয়াতের ফলে) সিক্ত ছিল। এমতাবস্থায় আমাদের সামনে একটি সাপ লাফিয়ে পড়ল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : একে মেরে ফেল। আমরা দৌড়িয়ে গেলে সাপটি চলে গেল। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : রক্ষা পেল সাপটি তোমাদের অনিষ্ট থেকে যেমন তোমরা রক্ষা পেলে এর অনিষ্ট থেকে। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, এ হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে, মিনা হারম শরীফের অন্তর্ভূক্ত এবং তাঁরা সাপ মারাকে দোষ মনে করতেন না।
হাদীস নং ১৭১২
ইসমাঈল রহ……….. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়িশা রা. থেকে বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাকলাসকে ক্ষতিকর বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু একে হত্যা করার আদেশ দিতে আমি তাকে শুনিনি।
হাদীস নং ১৭১৩
কুতাইবা রহ…….আবু শুরায়হ আদাবী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি আমর ইবনে সাঈদ রহ.-কে বললেন, যখন আমর মক্কায় সেনাবাহিনী প্রেরণ করেছিলেন, হে আমীর ! আমাকে অনুমতি দিন। আমি আপনাকে এমন কথা শুনাব যা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের পরের দিন ইরশাদ করেছিলেন। আমার দুটি কান ঐ কথাগুলো শুনেছে, হৃদয় সেগুলোকে স্মৃতিতে একে রেখেছে এবং আমার চোখ দুটো তা প্রত্যক্ষ করেছে। যখন তিনি কথাগুলো বলেছিলেন, তখন তিনি প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা করার পর বললেন : আল্লাহ তা’আলা মক্কাকে মহাসম্মানিত করেছেন। কোন মানুষ তাকে মহাসম্মানিত করেনি। সুতরাং আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী কোন মানুষের জন্য মক্কায় রক্তপাত করা বা এর কোন গাছ কাটা বৈধ নয়। আল্লাহর রাসূল কর্তৃক লড়াই পরিচালনার কারণে যদি কেউ যুদ্ধ করার অনুমতি দেয় তাহলে তাকে তোমরা বলে দিও, আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তো অনুমতি দিয়েছিলেন। তোমাদেরকে তো আর তিনি অনুমতি দেননি। আর এ অনুমতিও কেবল শুধু আমাকে দিনের কিছু সময়ের জন্য দেওয়া হয়েছিল। আজ পুনরায় তার নিষিদ্ধতা পুনর্বহাল করা হয়েছে দেয়। আবু শুরায়হ রা.-কে জিজ্ঞাসা করা হল, আপনাকে আমর কি জবাব দিয়েছিলেন ? তিনি বললেন, আমর বলেছিলেন, হে আবু শুরায়হ ! এর বিষয়টি আমি তোমার থেকে ভাল জানি। হারম কোন অপরাধীকে, হত্যা করে পলাতক ব্যক্তিকে এবং চুরি করে পলায়নকারী ব্যক্তিকে আশ্রয় দেয় না। আবু আবদুল্লাহ রহ. خربة বলেন, শব্দের অর্থ হল بلية বা ফিতনা-ফাসাদ।
