হাদীস নং ১৭০০
আবুল ওয়ালীদ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে মাকিল রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কাব ইবনে উজরা রা.-এর পাশে বসে তাকে ফিদয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, এ আয়াত বিশেষভাবে আমার সম্পর্কেই নাযিল হয়েছে। তবে এ হুকুম সাধারণভাবে তোমাদের সকলের জন্যই । নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে আমাকে নিয়ে যাওয়া হল। তখন আমার চেহারায় উকুন বেয়ে পড়ছে। তিনি বললেন : তোমার কষ্ট বা পীড়া যে পর্যায়ে পৌছেছে দেখতে পাচ্ছি, আমার তো আগে এ ধারণা ছিল না। তুমি কি একটি বকরীর ব্যবস্থা করতে পারবে ? আমি বললাম, না। তিনি বললেন : তাহলে তুমি তিন দিন সিয়াম পালন কর অথবা ছয়জন মিসকীনকে অর্ধ সা’ করে খাওয়াও।
হাদীস নং ১৭০১
ইসহাক রহ………কাব ইবনে উজরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চেহারায় উকুন ঝরে পড়তে দেখে তাকে বললেন : এই কীটগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মাথা কামিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন। এ সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ায় ছিলেন। এখানেই তাদের হালাল হয়ে যেতে হবে এ বিষয়টি তখনও তাদের কাছে স্পষ্ট হয়নি। তাঁরা মক্কায় প্রবেশের আশা করছিলাম। তখন আল্লাহ তা’আলা ফিদয়ার হুকুম নাযিল করলেন এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এক ফরক খাদ্যশস্য ছয়জন মিসকীনের মধ্যে দিতে কিংবা একটি বকরী কুরবানী করতে অথবা তিনদিন সিয়াম পালনের নির্দেশ দিলেন। মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ…….কাব ইবনে উজরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এমতাবস্থায় দেখলেন যে, তাঁর চেহারার উপর উকুন পড়ছে। এর বাকি অংশ উপরের হাদীসের অনুরূপ।
হাদীস নং ১৭০২
সুলাইমান ইবনে হারব রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি এ ঘরের হজ্জ আদায় করল এবং স্ত্রী সহবাস করল না এবং অন্যায় আচরণও করল না, সে প্রত্যাবর্তন করবে মাতৃগর্ভে থেকে সদ্য প্রসূত শিশুর মত হয়ে।
হাদীস নং ১৭০৩
মুহাম্মদ ইনবে ইউসুফ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি এ ঘরের হজ্জ আদায় করল, অশ্লীলতায় লিপ্ত না এবং আল্লাহর নাফরমানী করল না, সে মাতৃগর্ভ থেকে সদ্য প্রসূত শিশুর মত হয়ে (হজ্জ থেকে)) প্রত্যাবর্তন করবে।
হাদীস ১৭০৪
Missing
হাদীস নং ১৭০৫
সাঈদ ইবেন রাবী রহ……….আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার বছর আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যাত্রা করলাম। তাঁর সকল সাহাবীই ইহরাম বেঁধেছিলেন কিন্তু আমি ইহরাম বাঁধিনি। এরপর আমাদেরকে গায়কা নামক স্থানে শত্রুরা উপস্থিতি সম্পর্কে খবর দেয়া হলে আমরা শত্রুর অভিমুখে রওয়ানা হলাম। আমার সঙ্গী সাহাবীগণ একটি বন্য গাধা দেখতে পেয়ে একে অন্যের দিকে তাকিয়ে হাসতে লাগলেন। আমি সেদিকে তাকাতেই তাকে দেখে ফেললাম। সাথে সাথে আমি ঘোড়ার পিঠে চড়ে বর্শা দিয়ে গাধাটিকে আঘাত করে ঐ জায়গাতেই ফেলে দিলাম। তারপর তাদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করলে তাঁরা সকলেই সাহায্য করতে অসম্মতি প্রকাশ করলেন। তবে আমরা সবাই এর গোশত খেলাম। এরপর গিয়ে আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মিলিত হলাম। (এর পূর্বে) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশংকাবোধ করছিলাম। তাই আমি আমার ঘোড়াটি কখনো দ্রুতগতিতে আবার কখনো স্বাভাবিক গতিতে চালিয়ে যাচ্ছিলাম। মধ্যরাতে গিয়ে গিফার গোত্রীয় এক লোকের সাথে সাক্ষাত হলে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কোথায় রেখে এসেছেন ? তিনি বললেন, আমি তাহিন নামক স্থানে তাকে রেখে এসেছি। তিনি এখন সুকয়া নামক স্থানে বিশ্রাম করছেন। এরপর আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মিলিত হলাম এবং বললাম, হে আল্লাহর রাসূল ! আপনার সাহাবীগণ আপনার প্রতি সালাম পাঠিয়েছেন এবং রহমতের দু’আ করেছেন। শত্রুরা আপনার থেকে তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে এ ভয়ে তাঁরা আতংকিত হয়ে পড়েছিলেন। সুতরাং আপনি তাদের জন্য অপেক্ষ করুন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাই করলেন। অতঃপর আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল ! আমরা একটি জংলী গাধা শিকার করেছি। এর অবশিষ্ট কিছু অংশ এখনও আমাদের নিকট আছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে বললেন : তোমরা খাও। অথচ তাঁরা ছিলেন ইহরাম অবস্থায়।
হাদীস নং ১৭০৬
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ. ও আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..আবু কাতাদা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদীনা থেকে তিন মারহালা দূরে অবস্থিত কাহা নামক স্থানে আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আমাদের কেউ ইহরামধারী ছিলেন আর কেউ ছিলেন ইহরামবিহীন। এ সময় আমি আমার সাথী সাহাবীদেরকে দেখলাম তাঁরা একে অন্যকে কিছু দেখাচ্ছেন। আমি তাকাতেই একটি জংগী গাধা দেখতে পেলাম। (রাবী বলেন) এ সময় তার চাবুকটি পড়ের গেল। (তিনি আনিয়ে দেওয়ার কথা বললে) সকলেই বললেন, আমরা মুহরিম। তাই এ কাজে আমরা তোমাকে সাহায্য করতে পারব না। অবশেষে আমি নিজেই তা উঠিয়ে নিলাম এরপর টিলার পিছনদিক থেকে গাধাটির কাছে এসে তা শিকার করে সাহবীদের কাছে নিয়ে আসলাম। তাদের কেউ বললেন, খাও আবার কেউ বললেন, খেয়ো না। সুতরাং গাধাটি আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট নিয়ে আসলাম । তিনি আমাদের সকলের আগে ছিলেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন : খাও, এতো হালাল। সুফিয়ান রহ. বলেন, আমাদেরকে আমর ইবনে দীনার বললেন, তোমরা সালিহ রহ. এবং অন্যান্যের নিকট গিয়ে এ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা কর। তিনি আমাদের এখানে আগমন করেছিলেন।
