হাদীস নং ১৬৭৪
আবু নুআইম রহ……..ইয়ালা ইবনে উমায়্যা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিররানাতে ছিলেন। এ সময় জুব্বা পরিহিত একব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললেন, আপনি উমরাতে আমাকে কি কাজ করার নির্দেশ দেন ? লোকটির জুব্বাতে খালূক বা হলদে রঙের দাগ ছিল। এ সময় আল্লাহ তা’আলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর ওহী নাযিল করলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কাপড় দিয়ে আচ্ছাদিত করে দেওয়া হল। বর্ণনাকারী বলেন, আমি উমর রা.-কে বললাম, আল্লাহ তাঁর নবীর প্রতি ওহী নাযিল করছেন, এমতাবস্থায় আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে চাই। উমর রা. বললেন, এসো, আল্লাহ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ওহী নাযিল করছেন, এমতাবস্থায় তুমি কি তাকে দেখতে আগ্রহী ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তারপর উমর রা. কাপড়ের একটি কোণ উচু করে ধরলেন। আমি তাঁর দিকে নজর করলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আওয়াজ করছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয়, তিনি বলছিলেন, উটের আওয়াজের মত আওয়াজ। এ অবস্থা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দূরীভূত হলে তিনি বললেন : উমরা সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায় ? তিনি বললেন : তুমি তোমার থেকে জুব্বাটি খুলে ফেল, খালূকের চিহ্ন ধুয়ে ফেল এবং হলদে রং পরিষ্কার করে নাও। আর তোমার হজ্জে যা করেছ উমরাতে তুমি তাই করবে।
হাদীস নং ১৬৭৫
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..উরওয়া রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বাল্যকালে একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়িশা রা.-কে বললাম, আল্লাহর বাণী : সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কাবাগৃহের হজ্জ কিংবা উমরা সম্পন্ন করে এ দুটির মধ্যে সায়ী করে, তার কোন পাপ নেই। (২ : ১৫৮) তাই সাফা-মারওয়ার সায়ী না করা আমি কারো পক্ষে অপরাধ মনে করি না। আয়িশা রা. বলেন, বিষয়টি এমন নয়। কেননা, তুমি যেমন বলছ, ব্যাপারটি তেমন হলে আয়াতটি অবশ্যই এমন হত অর্থাৎ এ দুটির মাঝে তাওয়াফ না করলে কোন পাপ নেই। এ আয়াত তো আনসাদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। কেননা তারা মানাতের জন্য ইহরাম বাঁধত। আর মানাত কুদায়দের সামনে ছিল। তাই আনসাররা সাফা-মারওয়া তাওয়াফ করতে দ্বিধাবোধ করত। এরপর ইসলামের আবির্ভাবের পর তারা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন : সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কাবাগৃহের হজ্জ কিংবা উমরা সম্পন্ন করে এ দুটির মধ্যে সায়ী করে, তার কোন পাপ নেই। সুফিয়ান ও আবু মুআবিয়া রহ. আবু মুআবিয়া রা. হিশাম রহ. থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : সাফা-মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ না করলে আল্লাহ কারো হজ্জ এবং উমরাকে পূর্ণাঙ্গ গণ্য করেন না।
হাদীস নং ১৬৭৬
ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরা করলেন, আমরাও তাঁর সঙ্গে উমরা করলাম। তিনি মক্কা প্রবেশ করে তাওয়াফ করলেন, আমরাও তাঁর সঙ্গে তাওয়াফ করলাম। এরপর তিনি সাফা-মারওয়ায় সায়ী করলেন, আমরাও তাঁর সঙ্গে সায়ী করলাম। আর আমরা তাকে মক্কাবাসীদের থেকে লুকিয়ে রাখছিলাম যাতে কোন মুশরিক তাঁর প্রতি কোন কিছু নিক্ষেপ করতে না পারে। বর্ণনাকারী বলেন, আমার এক সাথী তাকে বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কাবা শরীফে প্রবেশ করেছিলেন ? তিনি বললেন, না। প্রশ্নকারী তাকে বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদীজা রা. সম্বন্ধে কি বলেছেন ? তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : খাদীজাকে বেহেশতের মাঝে একটি মোতি দিয়ে নির্মিত এমন একটি ঘরের সুসংবাদ দাও যেখানে কোন শোরগোল থাকবে না এবং কোন প্রকার কষ্ট ক্লেশ থাকবে না।
হাদীস নং ১৬৭৭
হুমায়দী রহ………আমর ইবনে দীনার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমরার মাঝে বায়তুল্লাহর তাওয়াফের পর সাফা-মারওয়ার তাওয়াফ না করে যে স্ত্রীর নিকট গমন করে, এমন ব্যক্তি সম্পর্কে আমরা ইবনে উমর রা.-কে জিজ্ঞাসা করায় তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কায়) এসে বায়তুল্লাহর সাতবার তাওয়াফ করে মাকামে ইবরাহীমের পাশে দু’ রাকআত সালাত আদায় করেছেন। এরপর সাতবার সাফা-মারওয়ার মাঝে সায়ী করেছেন। আর তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ তো রয়েছে আল্লাহর রাসূলের মাঝেই। (রাবী) আমর ইবনে দীনার রহ. বলেন, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা.-কেও আমরা জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বলেছেন, সাফা-মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ না করা কেউ তার স্ত্রীর নিকট অবশ্যই যাবে না।
হাদীস নং ১৬৭৮
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……..আবু মূসা আল-আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার বাতহায় অবতরণ করলে আমি তাঁর নিকট গেলাম। তিনি বললেন, তুমি কি হজ্জ করেছ ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন : তুমি কিসের ইহরাম বেঁধেছিলে ? আমি বললাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইহরামের মত আমিও ইহরামের তালবিয়া পাঠ করেছি। তিনি বলেলেন : ভাল করেছ। এখন বায়তুল্লাহ এবং সাফা-মারওয়ার সায়ী করে হালাল হয়ে যাও। তারপর আমি বায়তুল্লাহ এবং সাফা-মারওয়ার সায়ী করে কায়স গোত্রের এক মহিলার কাছে গেলাম। সে আমার মাথার উকুন বেছে দিল। এরপর আমি হজ্জের ইহরাম বাঁধলাম এবং উমর রা.-এর খিলাফত পর্যন্ত আমি এভাবেই ফতোয়া দিতে থাকি। উমর রা. বললেন, যদি আমরা আল্লাহর কিতাব গ্রহণ করি তা তো আমাদের পূর্ণ করার নির্দেশ দেয়। আর যদি আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী গ্রহণ করি তাহলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর জানোয়ার তার স্থানে পৌছার পূর্ব পর্যন্ত হালাল হননি।
