হাদীস নং ১৬৭৯
আহমদ রহ…….আবুল আসওয়াদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর রা.-এর কন্যা আসমা রা.-এর আযাদকৃত গোলাম আবদুল্লাহ রা. তাঁর বর্ণনা করেছেন, যখনই আসমা রা. হাজ্জুন এলাকা দিয়ে গমন করতেন তখনই তাকে বলতে শুনেছেন (সাল্লাল্লাহু আলা রাসূলিহী) আল্লাহ তাঁর রাসূলের প্রতি রহমত নাযিল করুন, এ স্থানে আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে অবতরণ করেছিলাম। তখন আমাদের বোঝা ছিল খুব অল্প, যানবাহন ছিল একেবারে নগণ্য এবং সম্বল ছিল খুবই কম। আমি, আমার বোন আয়িশা রা. যুবাইর রা. এবং অমুক অমুক উমরা আদায় করলাম। তারপর বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করে আমরা সকলেই হালাল হয়ে গেলাম এবং সন্ধ্যাকালে হজ্জের ইহরাম বাঁধলাম।
হাদীস নং ১৬৮০
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই কোন জিহাদ, বা হজ্জ অথবা উমরা থেকে প্রত্যাবর্তন করতেন তখন তিনি প্রত্যেক উচু ভূমিতে তিনবার তাকবীর বলতেন এবং পরে বলতেন : আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই। সর্বময় ক্ষমতা এবং সকল প্রশংসা কেবল তাঁরই। তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। আমরা প্রত্যাবর্তনকারী ও তাওবাকারী, ইবাদতকারী, আমাদের প্রভূর উদ্দেশ্যে সিজদাকারী ও প্রশংসাকারী। আল্লাহ তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন, নিজ বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই সকল শত্রু দলকে পরাজিত করেছেন।
হাদীস নং ১৬৮১
মুআল্লা ইবনে আসাদ রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় এলে আবদুল মুত্তালিব গোত্রীয় কয়েকজন তরুণ তাকে খোশ-আমদেদ জানায়। তিনি একজনকে তাঁর সাওয়ারীর সামনে ও অন্যজনকে পেছনে তুলে নেন।
হাদীস নং ১৬৮২
আহমদ ইবনে হাজ্জজ রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার উদ্দেশ্যে বের হয়ে মসজিদে শাজারাতে সালাত আদায় করতেন। আর যখন ফিরতেন, যুল-হুলাইফার বাতনুল ওয়াদীতে সালাত আদায় করতেন এবং এখানে সকাল পর্যন্ত রাত যাপন করতেন।
হাদীস নং ১৬৮৩
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে কখনো পরিবারের কাছে প্রবেশ করতেন না। তিনি সকালে কিংবা বিকালে ছাড়া পরিবারের কাছে প্রবেশ করতেন না।
হাদীস নং ১৬৮৪
মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ……..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা পরিবারের কাছে প্রবেশ করতে নিষেধ করেছেন।
হাদীস নং ১৬৮৫
সাঈদ ইবনে মারইয়াম রহ……..হুমাইদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি আনাস রা.-কে বলতে শুনেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর থেকে ফিরে যখন মদীনার উচু রাস্তাগুলো দেখতেন তখন তিনি তাঁর উটনী দ্রুতগতিতে চালাতেন আর বাহন অন্য জানোয়ার হলে তিনি তাকে তাড়া দিতেন।
হাদীস নং ১৬৮৬
কুতাইবা রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (উচু রাস্তা) এর পরিবর্তে (দেয়ালগুলো) শব্দ বলেছেন। হারিস ইবনে উমরার রহ. ইসমাঈল রহ.-এর অনুরূপ বর্ণনা করেন। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, হারিস ইবনে উমায়র হুমায়দ রহ. সূত্রে তাঁর বর্ণনায় আরো বাড়িয়ে বলেছেন, মদীনার মুহব্বাতে তিনি বাহনকে দ্রুত চালিত করতেন।
হাদীস নং ১৬৮৭
আবুল ওয়ালিদ রহ……..আবু ইসহাক রহ. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি বারা রা.-কে বলতে শুনেছি, এ আয়াতটি আমাদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছিল। হজ্জ করে এসে আনসারগণ তাদের বাড়িতে সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ না করে পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশ করতেন। এক আনসার ফিরে এসে তার বাড়ির সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করলে তাকে এ জন্য লজ্জা দেওয়া হয়। তখনই নাযিল হয় : পশ্চাৎ দিক দিয়ে তোমাদের গৃহ-প্রবেশ করাতে কোন কল্যাণ নেই। বরং কল্যাণ আছে যে তাকওয়া অবলম্বন করে। সুতরাং তোমরা (সামনের) দরজা দিয়ে গৃহে প্রবেশ কর। (২ : ১৮৯)
হাদীস নং ১৬৮৮
আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সফর আযাবের অংশ বিশেষ। তা তোমাদের যথাসময় পানাহার ও নিদ্রায় বাঁধা সৃষ্টি করে। তাই প্রত্যেকেই যেন নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে অবিলম্বে আপন পরিজনের কাছে ফিরে যায়।
হাদীস নং ১৬৮৯
সাঈদ ইবনে আবু মারইয়াম রহ………আসলাম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কার পথে আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর সঙ্গে ছিলাম। সাফিয়্যা বিনতে আবু উবায়দ রা.-এর গুরুতর অসুস্থ হওয়ার সংবাদ তাঁর কাছে পৌঁছল। তখন তিনি গতি বাড়িয়ে দিলেন। (পশ্চিম আকোশের) লালিমা অদৃশ্য হবার পর সাওয়ারী থেকে নেমে মাগরিব ও ইশা একসাথে আদায় করেন। তারপর বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছি, সফরে দ্রুত চলার প্রয়োজন হলে তিনি মাগরিবকে বিলম্ব করে মাগরিব ও ইশা একসাথে আদায় করতেন।
হাদীস নং ১৬৯০
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………নাফি রহ. থেকে বর্ণিত যে, হাঙ্গামা চলাকালে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. উমরার নিয়ত করে মক্কায় রওয়ানা হওয়ার পর বললেন, বায়তুল্লাহর পথে বাঁধাগ্রস্ত হলে, তাই করব যা করেছিলাম আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে । তাই তিনি উমরার ইহরাম বাঁধলেন। কেননা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ও হুদায়বিয়ার বছর উমরার ইহরাম বেঁধেছিলেন।
