হাদীস নং ১৬৬৯
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..আবদুর রাহমান ইবনে আবু বাকর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তাঁর সাওয়ারীর পিঠে আয়িশা রা. -কে বসিয়ে তানঈম থেকে উমরা করানোর নির্দেশ দেন। রাবী সুফিয়ান রহ. একবার বলেন, এ হাদীস আমি আমরের কাছে বহুবার শুনেছি।
হাদীস নং ১৬৭০
মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ……….জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ হজ্জের ইহরাম বেঁধেছিলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তালহা রা. ছাড়া কারো সাথে কুরবানীর পশু ছিল না। আর আলী রা. ইয়ামান থেকে এলেন এবং তাঁর সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। তিনি বলেছিলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বিষয়ের ইহরাম বেঁধেছেন, আমিও তার ইহরাম বাঁধলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ইহরামকে উমরায় পরিণত করতে এবং তাওয়াফ করে এরপরে মাথার চুল ছোট করে হালাল হয়ে যেতে নির্দেশ দিলেন। তবে যাদের সঙ্গে কুরবানীর পশু রয়েছে। (তারা হালাল হবে না)। তাঁরা বললেন, আমরা মীনার দিকে রওয়ানা হব এমতাবস্থায় আমাদের কেউ স্ত্রীর সাথে সহবাস করে এসেছে। এ সংবাদ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌছলে তিনি বললেন : যদি আমি এ কুরবানীর পশু আমার সঙ্গে না থাকত অবশ্যই আমি হালাল হয়ে যেতাম। আর (একবার) আয়িশা রা.-এর ঋতু দেখা দিল। তিনি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ছাড়া হজ্জের সব কাজই সম্পন্ন করে নিলেন। রাবী বলেন, এরপর যখন তিনি পাক হলেন এবং তাওয়াফ করলেন, তখন বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনারা তো হজ্জ এবং উমরা উভয়টি পালন করে ফিরেছেন, আমি কি শুধু হজ্জ করেই ফিরব? তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রাহমান ইবনে আবু বকর রা.-কে নির্দেশ দিলেন তাকে সঙ্গে নিয়ে তানঈমে যায়। তারপর যিলহজ্জ মাসেই হজ্জ আদায়ের পর আয়িশা রা. উমরা আদায় করলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জামরাতুল আকাবায় কংকর মারছিলেন তখন সুরাকা ইবনে মালিক ইবনে জুশুম রা.-এর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাক্ষাত হয়। তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এ হজ্জের মাসে উমরা আদায় করা কি আপনাদের জন্য খাস ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : না, এতো চিরদিনের জন্য।
হাদীস নং ১৬৭১
মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন যিলহজ্জ মাস আগত প্রায়, তখন আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে রওয়ানা দিলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যে ব্যক্তি উমরার ইহরাম বাঁধতে চায়, সে যেন উমরার ইহরাম বেঁধে নেয়। আমি যদি কুরবানীর জানোয়ার সঙ্গে না আনতাম তাহলে অবশ্যই আমি উমরার ইহরাম বাঁধতাম। তাই তাদের কেউ উমরার ইহরাম বাঁধলেন আর কেউ হজ্জের ইহরাম বাঁধলেন। যারা উমরার ইহরাম বেঁধেছিলেন, আমি তাদের মধ্যে একজন। এরপর মক্কা পৌছার আগেই আমার ঋতু দেখা দিল। আরাফার দিবস চলে এল, আর আমি ঋতুবতী অবস্থায় ছিলাম। তারপর আমার এ অসুবিধার কথা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট বললাম। তিনি বললেন : উমরা ছেড়ে দাও। আর বেণী খুলে মাথা আচড়িয়ে নাও। তারপর হজ্জের ইহরাম বেঁধে নাও। আমি তাই করলাম। মুহাসসাবের রাতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে আবদুর রামহমানকে তানঈম পাঠালেন। (রাবী বলেন) আবদুর রাহমান রা. তাকে সাওয়ারীতে নিজের পেছনে বসিয়ে নিলেন। তারপর আয়িশা রা. আগের উমরার স্থলে নতুন উমরার ইহরাম বাঁধলেন। এমনিভাবেই আল্লাহ তা’আলা তাঁর হজ্জ এবং উমরা উভয়টিই পুরা করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এর কোন ক্ষেত্রেই কুরবানী বা সাদকা দিতে কিংবা সিয়াম পালন করতে হয়নি।
হাদীস নং ১৬৭২
মুসাদ্দাদ রহ……….আসওয়াদ রহ. থেকে বর্ণিত যে, আয়িশা রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সাহাবীগণ ফিরেছেন দুটি নুসুক (অর্থাৎ হজ্জ এবং উমরা) পালন করে আর আমি ফিরছি একটি নুসুক (শুধু হজ্জ) আদায় করে। তাকে বলা হল, অপেক্ষা কর। পরে যখন তুমি পবিত্র হবে তখন তানঈমে গিয়ে ইহরাম বাঁধবে এরপর অমুক স্থানে আমাদের কাছে আসবে। এ উমরা (এর সাওয়াব) হবে তোমার খরচ বা কষ্ট অনুপাতে।
হাদীস নং ১৬৭৩
আবু নাআইম রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হজ্জের ইহরাম বেঁধে বের হলাম, হজ্জের মাসে এবং হজ্জের অনুষ্ঠানাদি পালনের উদ্দেশ্যে। যখন সারিফ নামক স্থানে অবতরণ করলাম, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবাগণকে বললেন : যার সাথে কুরবানীর পশু নেই এবং সে এই ইহরামকে উমরায় পরিণত করতে চায়, সে যেন তা করে নেয় (অর্থাৎ উমরা করে হালাল হয়)। আর যার সাথে কুরবানীর জানোয়ার আছে সে এরূপ করবে না। (অর্থাৎ হালাল হতে পারবে না)। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর কয়েকজন সমর্থ সাহাবীর নিকট কুরবানীর জানোয়ার ছিল তাদের উমরা হয়নি। (আয়িশা রা. বললেন) আমি কাঁদছিলাম, এমতাবস্থায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এসে বললেন : তুমি কাঁদছ কেন ? আমি বললাম, আপনি আপনার সাহাবীগণকে যা বলেছেন, আমি তা শুনেছি। আমি তো উমরা থেকে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে গেছি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমার কি অবস্থা ? আমি বললাম, আমি তো সালাত আদায় করছি না। তিনি বললেন : এতে তোমার ক্ষতি হবে না। তুমি তো একজন আদম কন্যাই। তাদের অদৃষ্টে যা লেখা ছিল তোমার জন্যও তা লিখিত হয়েছে। সুতরাং তুমি তোমার হজ্জ আদায় কর। সম্ভবত : আল্লাহ তা’আলা তোমাকে উমরাও দান করবেন। আয়িশা রা. বলেন, আমি এ অবস্থায়ই থেকে গেলাম এবং পরে মিনা থেকে প্রত্যাবর্তন করে মুহাসসাবে অবতরণ করলাম। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রাহমান রা.-কে ডেকে বললেন : তুমি তোমার বোনকে হারামের বাইরে নিয়ে যাও। সেখান থেকে যেন সে উমরার ইহরাম বাঁধে । তারপর তোমরা তাওয়াফ করে নিবে। আমি তোমাদের জন্য এখানে অপেক্ষা করব। আমরা মধ্যরাত এলাম। তিনি বললেন : তোমরা কি তাওয়াফ সমাধা করেছ ? আমি বললাম, হ্যাঁ। এ সময় তিনি সাহাবীগণকে রওয়ানা হওয়ার ঘোষণা দিলেন। তাই লোকজন এবং যারা ফজরের পূর্বে তাওয়াফ করেছিলেন তাঁরা রওয়ানা হলেন। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা অভিমুখে রওয়ানা হলেন।
