হাদীস নং ১৬৬০
আমর ইবনে আলী রহ……….ইকরিমা ইবনে খালিদ রহ. বলেন, আমি ইবনে উমর রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম। অবশিষ্ট অংশে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
হাদীস নং ১৬৬১
কুতাইবা রহ………..মুজাহিদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং উরওয়া ইবনে যুবাইর রহ. মসজিদে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. আয়িশা রা.-এর হুজরার পাশে বসে আছেন। ইতিমধ্যে কিছু লোক মসজিদে সালাতুদ্দোহা আদায় করতে লাগল। আমরা তাকে এদের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, এটা বিদআত। এরপর উরওয়া ইবনে যুবাইর রহ. তাকে বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতবার উমরা আদায় করেছেন ? তিনি বললেন, চারবার। এর মধ্যে একটি রজব মাসে। আমরা তাঁর কথা রদ করা পছন্দ করলাম না। আমরা উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা রা.-এর হুজরার ভিতর থেকে তাঁর মিসওয়াক করার আওয়াজ শুনতে পেলাম। তখন উরওয়া রা. বললেন, হে আম্মাজন, হে মুমিনীন ! আবু আবদুর রাহমান কি বলছেন, আপনি কি শুনেননি ? আয়িশা রা. বললেন, তিনি কি বলছেন ? উরওয়া রহ বললেন, তিনি বলছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারবার উমরা আদায় করেছেন। এর মধ্যে একটি রজব মাসে। আয়িশা রা. বললেন, আবু আবদুর রাহমানের প্রতি আল্লাহর রহম করুন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কোন উমরা আদায় করেননি, যে তিনি তাঁর সঙ্গে ছিলেন না। কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজব মাসে কখনো উমরা আদায় করেননি।
হাদীস নং ১৬৬২
আবু আসিম রহ………উরওয়া ইবনে যুবাইর রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা রা. -কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজব মাসে কখনো উমরা আদায় করেননি।
হাদীস নং ১৬৬৩
হাসসান ইবনে হাসসান রহ……..কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত যে, আমি আনাস রা. -কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতবার উমরা আদায় করেছেন ? তিনি বললেন, চারবার। তন্মধ্যে হুদায়বিয়ার উমরা যুল-কাদা মাসে যখন মুশরিকরা তাকে মক্কা প্রবেশ করতে বাঁধা দিয়েছিল। পরবর্তী বছরের যুল-কাদা মাসের উমরা, যখন মুশরিকদের সাথে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল জীরানার উমরা, যেখানে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গনীমতের মাল, সম্ভবতঃ হুনায়নের যুদ্ধে বন্টন করেন। আমি বললাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতবার হজ্জ করেছেন ? তিনি বললেন, একবার।
হাদীস নং ১৬৬৪
আবুল ওয়ালীদ হিশাম ইবনে আবদুল মালিক রহ……….কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত যে, আমি আনাস রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার উমরা করেছেন যখন তাকে মুশরিকরা ফিরিয়ে দিয়েছিল। তার পরবর্তী বছর ছিল হুদায়বিয়ার (চুক্তি অনুযায়ী) উমরা, (তৃতীয়) উমরা (জীরানা) যুল-কাদা মাসে আর হজ্জের মাসে অপর একটি উমরা করেছেন।
হাদীস নং ১৬৬৫
হুদবা ইবনে খালিদ রহ………হাম্মাম রহ. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারটি উমরা করেছেন। তন্মধ্যে হজ্জের মাসে যে উমরা করেছেন তা ছাড়া বাকী সব উমরাই যুল-কুদা মাসে করেছেন। অর্থাৎ হুদায়বিয়ার উমরা, পরবর্তী বছরের উমরা, জীরানার উমরা, যেখানে তিনি হুনায়নের মালে গনীমত বন্টন করেছিলেন এবং হজ্জের মাসে আদায়কৃত উমরা।
হাদীস নং ১৬৬৬
আহমদ ইবনে উসমান রহ………আবু ইসহাক রহ. বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মাসরূক, আতা এবং মুজাহিদ রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, তাঁরা বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-কাদা মাসে হজ্জের আগে উমরা করেছেন। রাবী বলেন, আমি বারা ইবনে আযিব রা.-কে বলতে শুনেছি যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ করার আগে দু’বার যুল-কাদা মাসে উমরা করেছেন।
হাদীস নং ১৬৬৭
মুসাদ্দাদ রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আনাসারী মহিলাকে বললেন : আমাদের সঙ্গে হজ্জ করতে তোমার বাঁধা কিসের ? ইবনে আব্বাস রা. মহিলার নাম বলেছিলেন কিন্তু আমি ভুলে গিয়েছি। মহিলা বলল, আমাদের একটি পানি বহনকারী উট ছিল। কিন্তু তাতেই অমুকের পিতা ও তার পুত্র (অর্থাৎ মহিলার স্বামী ও ছেলে) আরোহণ করে চলে গেছেন। আর আমাদের জন্য রেখে গেছেন পানি বহনকারী আরেকটি উট যার দ্বারা আমরা পানি বহন করে থাকি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আচ্ছা, রমযান এলে তখন উমরা করে নিও । কেননা, রমযানের একটি উমরা একটি হজ্জের সমতুল্য। অথবা সেরূপ কোন কথা তিনি বলেছিলেন।
হাদীস নং ১৬৬৮
মুহাম্মদ ইবনে সালাম রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম যখন যিলহজ্জ আগতপ্রায়। তখন তিনি আমাদের বললেন : তোমাদের মধ্যে যে হজ্জের ইহরাম বাঁধতে চায়, সে যেন হজ্জের ইহরাম বেঁধে নেয়। আর যে উমরার ইহরাম বাঁধতে চায় সে যেন উমরার ইহরাম বেঁধে নেয়। আমি যদি কুরবানীর জানোয়ার সঙ্গে না আনতাম তাহলে অবশ্যই আমি উমরার ইহরাম বাঁধতাম । আয়িশা রা. বলেন, আমাদের মধ্যে কেউ উমরার ইহরাম বাঁধলেন, আবার কেউ হজ্জের । যারা উমরার ইহরাম বেঁধেছিলেন, আমি তাদের একজন। আরাফার দিন এল, তখন আমি ঋতুবতী ছিলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তা জানালাম। তিনি বললেন : উমরা ছেড়ে দাও এবং মাথার বেণী খুলে মাথা আচড়িয়ে নাও। তারপর হজ্জের ইহরাম বাঁধ। যখন মুহাসসাবের রাত হল, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সঙ্গে (আমার ভাই) আবদুর রাহমানকে তানঈমে পাঠালেন এবং আমি ছেড়ে দেওয়া উমরার স্থলে নতুনভাবে উমরার ইহরাম বাঁধলাম।
