হাদীস নং ১৬৫১
আবদুল মুতাআলী ইবনে তালিব রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর, আসর, মাগরিব ও ইশার সালাত আদায়ের পর মুহাসসাবে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকেন, পরে সাওয়ার হয়ে বায়তুল্লাহর দিকে গেলেন এবং বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেন।
হাদীস নং ১৬৫২
আবু নুআইম রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তা হল একটি মানযিল মাত্র, যেখানে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবতরণ করতেন, যাতে বেরিয়ে যাওয়া সহজতর হয় অর্থাৎ আবতাহ।
হাদীস নং ১৬৫৩
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাসসাবে অবতরণ করা (হজ্জের) কিছুই নয়। এ তো শুধু একটি মানযিল, যেখানে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবতরণ করেছিলেন।
হাদীস নং ১৬৫৪
ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ……….নাফি রহ. থেকে বর্ণিত, তিন বলেন, ইবনে উমর রা. দু’ পাহাড়ের মধ্যস্থিত যু-তুয়া নামক স্থানে রাত যাপন করতেন। এরপর মক্কার উচু গিরিপথের দিক থেকে প্রবেশ করতেন। হজ্জ বা উমরা আদায়ের জন্য মক্কা আসলে তিনি মসজিদে হারামের দরজার সামনে ব্যতীত কোথাও উট বসাতেন না। তারপর মসজিদে প্রবেশ করে হজরে আসওয়াদের কাছে আসতেন এবং সেখান থেকে তাওয়াফ আরম্ভ করতেন এবং সাত চক্কর তাওয়াফ করতেন। তিনবার দ্রুতবেগে আর চারবার স্বাভাবিক গতিতে। এরপর ফিরে এসে দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন এবং নিজের মনযিলে ফিরে যাওয়ার আগে সাফ-মারওয়ার মধ্যে সায়ী করতেন। আর যখন হজ্জ বা উমরা থেকে ফিরতেন তখন যুল-হুলাইফা উপত্যকার বাতহা নামক স্থানে অবতরণ করতেন, যেখানে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবতরণ করেছিলেন।
হাদীস নং ১৬৫৫
আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব রহ………..খালিদ ইবনে হারিস রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন উবায়দুল্লাহ রহ.-কে মুহাসসাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি নাফি রহ. থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করলেন যে, তিনি বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমর ও ইবনে উমর রা. সেখানে অবতরণ করেছেন। নাফি রহ. থেকে বর্ণিত, রয়েছে যে, ইবনে উমর রা. মুহাসসাবে যুহর ও আসরের সালাত আদায় করতেন। আমার মনে হচ্ছে, তিনি মাগরিবের কথাও বলেছেন। খালিদ রা. বলেন, ইশা সম্পর্কে আমার কোন সন্দেহ নেই এবং তিনি সেখানে কিছুক্ষণ নিদ্রা যেতেন। এ কথা ইবনে উমর রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেই বর্ণনা করতেন।
হাদীস নং ১৬৫৬
উসমান ইবনে হায়সাম রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহিলী যুগে যল-মাজায ও উকায লোকদের ব্যবসা কেন্দ্র ছিল। ইসলাম আসার পর মুসলিমগণ যেন তা অপছন্দ করতে লাগল, অবশেষে এ আয়াত নাযিল হয় : “তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ সন্ধান করাতে তোমাদের কোন পাপ নেই হজ্জের মৌসুমে” (২ : ১৯৮)।
হাদীস নং ১৬৫৭
উমর ইবসে হাফস রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রত্যাবর্তনের দিন সাফিয়্যা রা.-এর ঋতু দেখা দিলে তিনি বললেন, আমার মনে হচ্ছে আমি তোমাদেরকে আটকিয়ে ফেললাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে ‘আকরা’ ‘হালকা’ বলে বিরক্তি প্রকাশ করলেন এবং বললেন : সে কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করেছে ? বলা হল, হ্যাঁ। তিনি বললেন : তবে চল। আবু আবদুল্লাহ (ইমাম বুখালি রহ.) অন্য সূত্রে বর্ণনা করেন, মুহাম্মদ ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম। হজ্জ আদায় করাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা (মক্কায়) আসলাম, তখন আমাদের হালাল হওয়ার নির্দেশ দেন। তারপর প্রত্যাবর্তনের রাত এলে সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই রা..-এর ঋতু আরম্ভ হল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘হালকা’ ‘আকরা’ বলে বিরক্তি প্রকাশ করে বললেন : আমার ধারণা, সে তোমাদের আটকিয়েই ফেলবে। তারপর বললেন, তুমি কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করছিলে ? সাফিয়্যা রা. বললেন, হ্যাঁ। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তবে চল। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি তো (উমরা আদায় করে) হালাল হইনি। তিনি বললেন : তাহলে এখন তুমি তানঈম থেকে উমরা আদায় করে নাও। তারপর তাঁর সঙ্গে তাঁর ভাই (আবদুর রাহমান ইবনে আবু বকর রা.) গেলেন। আয়িশা রা. বলেন, (উমরা আদায় করার পর) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাক্ষাত হয়, যখন তিনি শেষ রাতে (বিদায়ী তাওয়াফের জন্য) যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন : অমুক স্থানে তোমরা সাক্ষাত করবে।
হাদীস নং ১৬৫৮
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : এক উমরার পর আর এক উমরা উভয়ের মধ্যবর্তী সময়ের (গুনাহের) জন্য কাফফারা। আর জান্নাতই হল হজ্জে মাবরূরের প্রতিদান।
হাদীস নং ১৬৫৯
আহমদ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….ইকরিমা ইবনে খালিদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে উমর রা.-কে হজ্জের আগে উমরা আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বললেন, এতে কোন দোষ নেই। ইকরিমা রহ. বলেন, ইবনে উমর রা. বলেছেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জের আগে উমরা আদায় করেছেন। ইবরাহীম ইবেন সাদ রা. ইবনে ইসহাক রহ. থেকে বর্ণনা করেন যে, ইকরিমা ইবনে খালিদ রহ. বলেছেন, আমি ইবনে উমর রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম। পরবর্তী অংশ উক্ত হাদীসের অনুরূপ।
