হাদীস নং ১৬৪৩
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার এ দু’ হাত দিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খুশবু লাগিয়েছি, যখন তিনি ইহরাম বাঁধার ইচ্ছা করেছেন এবং তাওয়াফে যিয়ারতের পূর্বে যখন তিনি ইহরাম খুলে হালাল হয়েছেন। এ কথা বলে তিনি তাঁর উভয় হাত প্রসারিত করলেন।
হাদীস নং ১৬৪৪
মুসাদ্দাদ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকদের নির্দেশ দেওয়া হয় যে, তাদের শেষ কাজ যেন হয় বায়তুল্লাহর তাওয়াফ। তবে এ হুকুম ঋতুবতী মহিলাদের জন্য শিথিল করা হয়েছে।
হাদীস নং ১৬৪৫
আসবাগ ইবনে ফারজ রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর, আসর, মাগরিব ও ইশার সালাত আদায় করে উপত্যকায় কিছুক্ষণ শুয়ে থাকেন। তারপর সাওয়ারীতে আরোহণ করে বায়তুল্লাহর দিকে এসে তিনি বায়তুল্লাহ দিকে এসে তিনি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেন। লায়স রহ………আনাস ইবনে মালিক রা.-এর মাধ্যমে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ হাদীস বর্ণনায় আমর ইবেন হারিস রহ-এর অনুসরণ করেছেন।
হাদীস নং ১৬৪৬
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই রা. হায়েযা হলেন এবং পরে এ কথাটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অবগত করানো হয়। তখন তিনি বললেন : সে কি আমাদের আটকিয়ে রাখবে ? তারা বললেন, তিনি তো তাওয়াফে যিয়ারত সমাধা করে নিয়েছেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাহলে তো আর বাধা নেই।
হাদীস নং ১৬৪৭
আবু নুমান রহ………ইকরিমা রহ. থেকে বর্ণিত যে, তাওয়াফে যিয়ারতের পর হায়েয এসেছে এমন মহিলা সম্পর্কে মদীনাবাসী ইবনে আব্বাস রা.-কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি তাদের বললেন, সে রওয়ানা হয়ে যাবে। তার বললেন, আমরা আপনার কথা গ্রহণ করব না এবং যায়েদের কথাও বর্জন করব না। তিনি বললেন, তোমরা মদীনায় ফিরে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে নেব। তাঁরা মদীনায় এসে জিজ্ঞাসা করলেন। যাদের কাছে তাঁরা জিজ্ঞাসা করেছিলেন তাদের মধ্যে উম্মে সুলাইম রা.-ও ছিলেন। তিনি তাদের সাফিয়্যা (উম্মুল মু’মিনীন) রা.-এর ঘটনাটি বর্ণনা করলেন। হাদীসটি খালিদ ও কাতাদা রহ. ইকরিমা রহ. থেকে বর্ণনা করেন।
হাদীস নং ১৬৪৮
মুসলিম রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করার পর ঋতুবতী মহিলাকে রওনা হয়ে যাওয়ার জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি ইবনে উমর রা.-কে বলতে শুনেছি যে, সে মহিলা রওয়ানা হতে পারবে না। পরবর্তীতে তাকে এ কথাও বলতে শুনেছি যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে অনুমতি দিয়েছেন।
হাদীস নং ১৬৪৯
আবু নুমান রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বের হলাম। হজ্জই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় পৌছে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সায়ী করলেন। তবে ইহরাম ফেলেননি। তাঁর সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। তাঁর সহধর্মিণী ও সাহাবীগণের মধ্যে যারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁরাও তাওয়াফ করলেন। তবে যাদের সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল না, তাঁরা হালাল হয়ে গেলেন। এরপর আয়িশা রা. ঋতুবতী হয়ে পড়লেও আমরা হজ্জের সমুদয় হুকুম-আহকাম আদায় করলাম। এরপর যখন লায়লাতুল-হাসবা অর্থাৎ রওয়ানা হওয়ার রাত হল, তখন তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি ব্যতীত আপনার সকল সাহাবী তো হজ্জ ও উমরা করে ফিরছেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমরা যে রাতে এসেছি সে রাতে তুমি কি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করনি ? আমি বললাম, না। তারপর তিনি বললেন : তুমি তোমার ভাইয়ের সঙ্গে তানঈম (নামক স্থানে) চলে যাও এবং সেখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে নাও। আর অমুক অমুক স্থানে তোমার সঙ্গে সাক্ষাতের ওয়াদা থাকল। আয়িশা রা. বলেন, এরপর আমি আবদুর রাহমান রা.-এর সঙ্গে তানঈমের দিকে গেলাম এবং উমরার ইহরাম বাঁধলাম। আর সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই রা.-এর ঋতু দেখা দিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে বিরক্ত হয়ে বলেন। তুমি তো আমাদেরকে আটকিয়ে ফেললে। তুমি কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করছিলে ? তিনি বললেন : হ্যাঁ। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাহলে কোন বাঁধা নেই, রওয়ানা হও। (আয়িশা রা. বলেন) আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মিলিত হলাম। এমতাবস্থায় যে, তিনি মক্কার উপরের দিকে উঠছিলেন, আর আমি নিচের দিকে নামছিলাম। অথবা আমি উঠছিলাম আর তিনি নামছিলেন। মুসাদ্দাদ রহ.-এর বর্ণনায় এ হাদীসে (হ্যাঁ)-এর পরিবর্তে ‘লা’ (না) রয়েছে। রাবী জারীর রহ. মনসূর রহ. থেকে এ হাদীস বর্ণনায় মুসাদ্দাদ রহ.-এর অনুরূপ ‘লা’ (না) বর্ণনা করেছেন।
হাদীস নং ১৬৫০
মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ……..আবদুল আযীয ইবনে রুফায় রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক রা.-কে বললাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মনে রেখেছেন আমন কিছু কথা আমাকে বলুন। তারবিয়ার দিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত আদায় করেছেন ? তিনি বললেন, মিনাতে। আমি বললাম, প্রত্যাবর্তনের দিন আসরের সালাত কোথায় আদায় করেছেন ? তিনি বললেন, আবতাহ নামক স্থানে। (তারপর বললেন) তুমি তাই কর যেভাবে তোমার শাসক গণ করেন।
