হাদীস নং ১৬৩৪
মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে মায়মুন, ইয়াহইয়া ইবনে মূসা ও মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইর রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, আব্বাস রা. পানি পান করানোর জন্য মিনার রাতগুলোতে মক্কায় অবস্থানের ব্যাপারে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অনুমতি চাইলেন। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। আবু উসামা, উকবা ইবনে খালিদ ও আবু যামরা রহ. এ হাদীস বর্ণনায় মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইরের অনুসরণ করেছেন।
হাদীস নং ১৬৩৫
আবু নুআইম রহ………ওবারা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, কখন কংকর মারব ? তিনি বললেন, তোমার ইমাম যখন কংকর মারবে, তখন তুমিও মারবে। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন, আমরা সময়ের অপেক্ষা করতাম, যখন সূর্য ঢলে যেত তখনই আমরা কংকর মারতাম।
হাদীস নং ১৬৩৬
মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ………আবদুর রাহমান ইবনে ইয়াযীদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ রা. বাতনে ওয়াদী থেকে কংকর মারেন। তখন আমি তাকে বললাম, হে আবু আবদুর রহমান ! লোকেরা তো এর উচ্চস্থান থেকে কংকর মারে। তিনি বললেন, সে সত্তার কসম ! যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এটা সে স্থান, যেখানে সূরা বাকারা নাযিল হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে ওয়ালীদ রহ……..আমাশ রহ. থেকে এরূপ বর্ণনা করেন।
হাদীস নং ১৬৩৭
হাফস ইবনে উমর রহ……….আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি বড় জামরার কাছে গিয়ে বায়তুল্লাহকে বামে ও মিনাকে ডানে রেখে সাতটি কংকর নিক্ষেপ করেন। আর বলেন, যার প্রতি সূরা বাকারা নাযিল হয়েছে তিনিও এরূপ কংকর মেরেছেন।
হাদীস নং ১৬৩৮
আদম রহ………আবদুর রহমান ইবনে ইয়াযিদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে মাসউদ রা.-এর সঙ্গে হজ্জ আদায় করলেন। তখন তিনি বায়তুল্লাহকে নিজের বামে রেখে এবং মিনাকে ডানে রেখে বড় জামরাকে সাতটি কংকর মারতে দেখেছেন। এরপর তিনি বললেন, এ তাঁর দাঁড়াবার স্থান যার প্রতি সূরা বাকারা নাযিল হয়েছে।
হাদীস নং ১৬৩৯
মুসাদ্দাদ রহ……..আমাশ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হাজ্জাজকে মিম্বরের উপর এরূপ বলতে শুনেছি, যে সূরার মধ্যে বাকারার উল্লেখ রয়েছে, যে সূরার মধ্যে আলে ইমরানের উল্লেখ রয়েছে এবং যে সূরার মধ্যে নিসা-এর উল্লেখ রয়েছে অর্থাৎ সে সূরা বাকারা, সূরা আলে ইমরান ও সূরা নিসা বলা পছন্দ করত না। বর্ণনাকারী আমাশ রহ. বলেন, এ ব্যাপারটি আমি ইবরাহীম রহ.-কে বললাম। তিনি বললেন, আমার কাছে আবদুর রাহমান ইবনে ইয়াযীদ রা. বর্ণনা করেছেন যে, জামরায়ে আকাবাতে কংকর মারার সময় তিনি ইবনে মাসউদ রা.-এর সঙ্গে ছিলেন। ইবনে মাসউদ রা. বাতনে ওয়াদীতে গাছটির বরাবর এসে জামরাকে সামনে রেখে দাঁড়ালেন এবং তাকবীর সহকারে কংকর মারলেন। এরপর বললেন, সে সত্তার কসম যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, এ স্থানেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি, যার উপর নাযিল হয়েছে সূরা বাকারা (অর্থাৎ সূরা বাকারা বলা বৈধ।
হাদীস নং ১৬৪০
উসমান ইবনে আবু শাইবা রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি প্রথম জামরায় সাতটি কংকর নিক্ষেপ করতেন এবং প্রতিটি কংকর নিক্ষেপের সাথে তাকবীর বলতেন। তারপর সামনে অগ্রসর হয়ে সমতল ভূমিতে এসে কিবলামুখী হয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়াতেন এবং তাঁর উভয় হাত তুলে দু’আ করতেন। তারপর মধ্যবর্তী জামরায় কংকর মারতেন এবং একটু বাঁ দিকে চলে সমতল ভূমিতে এসে কিবলামুখী দাঁড়িয়ে তাঁর উভয় হাত উঠিয়ে দু’আ করতেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন। এরপর বাতনে ওয়াদী থেকে জামরায়ে আকাবায় কংকর মারতেন। এর কাছে তিনি বিলম্ব না করে ফিরে আসতেন এবং বলতেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ করতে দেখেছি।
হাদীস নং ১৬৪১
ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ রহ………সালিম ইবনে আবদুল্লাহ রহ. থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. নিকটবর্তী জামরায় সাতটি কংকর মারতেন এবং প্রতিটি কংকর নিক্ষেপের সাথে তাকবীর বলতেন। এরপর সামনে এগিয়ে গিয়ে সমতল ভূমিতে এসে কিবলামুখী হয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন এবং উভয় হাত উঠিয়ে দু’আ করতেন। তারপর মধ্যবর্তী জামরায় অনুরূপভাবে কংকর মারতেন। এরপর বাঁ দিক হয়ে সমতল ভূমিতে এসে কিবলামুখী হয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়াতেন এবং উভয় হাত উঠিয়ে দু’আ করতেন। তারপর বাতনে ওয়াদী থেকে জামরায়ে আকাবায় কংকর মারতেন এবং এর কাছে তিনি দেরী করতেন না। তিনি বলতেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি অনুরূপ করতে দেখেছি।
হাদীস নং ১৬৪২
মুহাম্মদ রহ……….যুহরী রহ. থেকে বর্ণিত যে, মসজিদে মিনার দিক থেকে প্রথমে অবস্থিত জামরায় যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কংকর মারতেন, সাতটি কংকর মারতেন এবং প্রত্যেকটি কংকর মারার সময় তিনি তাকবীর বলতেন। এরপর সামনে এগিয়ে সামনে গিয়ে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে উভয় হাত উঠিয়ে দু’আ করতেন এবং এখানে অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন। তারপর দ্বিতীয় জামরায় এসে সাতটি কংকর মারতেন এবং প্রতিটি কংকর মারার সময় তিনি তাকবীর বলতেন। তারপর বাঁ দিকে মোড় নিয়ে ওয়াদীর কাছে এসে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়াতেন এবং উভয় হাত উঠিয়ে দু’আ করতেন। অবশেষে আকাবার কাছের জামরায় এসে তিনি সাতটি কংকর মারতেন এবং প্রতিটি কংকর মারার সময় তাকবীর বলতেন। এরপর ফিরে যেতেন, এখানে বিলম্ব করতেন ন। যুহরী রহ. বলেন, সালিম ইবনে আবদুল্লাহ রহ.-কে তাঁর পিতার মাধ্যমে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করতে শুনেছি। (রাবী বলেন) ইবনে উমর রা.-ও তাই করতেন।
