হাদীস নং ১৬২৮
সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রা. থেকে বর্ণিত যে, কুরবানীর দিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর খুতবা দেওয়ার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তখন এক সাহাবী দাঁড়িয়ে বললেন, আমার ধারণা ছিল অমুক কাজের আগে অমুক কাজ। এরপর অপর এক সাহাবী দাঁড়িয়ে বললেন, আর আমার ধারণা ছিল অমুক কাজের আগে অমুক কাজ, আমি কুরবানী করার আগে মাথা কামিয়ে ফেলেছি। আর কংকর মারার আগে কুরবানী করে ফেলেছি। এরূপ অনেক কথা জিজ্ঞাসা করা হয়। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : করে নাও, কোন দোষ নেই। সব কটির জবাবে তিনি এ কথাই বললেন। সেদিন তাকে যা-ই জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, উত্তরে তিনি বলেন, করে নাও, কোন দোষ নেই।
হাদীস নং ১৬২৯
ইসহাক ইবনে মানসুর রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উটনীর উপর অবস্থান করছিলেন। তারপর হাদীসের শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন। যুহরী রহ. থেকে এ হাদীস বর্ণনায় মামার রহ. সালেহ রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।
হাদীস নং ১৬৩০
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন লোকদের উদ্দেশ্যে একটি খুতবা দিলেন। তিনি বললেন : হে লোক সকল ! আজকের এ দিনটি কোন দিন ? সকলেই বললেন, সম্মানিত দিন। তারপর তিনি বললেন : এ শহরটি কোন শহর? তাঁরা বললেন, সম্মানিত শহর। তারপর তিনি বললেন : এ মাসটি কোন মাস ? তারা বললেন : সম্মানিত মাস। তিনি বললেন : তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ, তোমাদের ইযযত-হুরমত তোমাদের জন্য তেমনি সম্মানিত, যেমন সম্মানিত তোমাদের এ দিনটি, তোমাদের এ শহরে এবং তোমাদের এ মাসে । এ কথাটি তিনি কয়েকবার বললেন। পরে মাথা উঠিয়ে বললেন : ইয়া আল্লাহ ! আমি ক (আপনার পয়গাম) পৌঁছিয়েছি ? হে আল্লাহ ! আমি কি পৌঁছিয়েছি ? ইবনে আব্বাস রা. বলেন, সে সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই এ কথাগুলো ছিল তার উম্মতের জন্য অসিয়ত। (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বললেন) উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছিয়ে দেয়। আমার পরে তোমরা কুফরীর দিকে প্রত্যাবর্তন করবে না যে, পরস্পর পরস্পরকে হত্যা করবে।
হাদীস নং ১৬৩১
হাফস ইবনে উমর রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আরাফার ময়দানে খুতবা দিতে শুনেছি। ইবনে উয়াইনা রহ. আমর রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় শুবা রহ. -এর অনুসরণ করেছেন।
হাদীস নং ১৬৩২
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….আবু বাকরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরবানীর দিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের খুতবা দিলেন এবং বললেন : তোমরা কি জান আজ কোন দিন ? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচাইতে বেশী জানেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব হয়ে গেলেন। আমরা ধারণা করলাম সম্ভবত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নাম পাল্টিয়ে অন্য নামে নামকরণ করবেন। তিনি বললেন : এটা কি কুরবানীর দিন নয় ? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই সব চাইতে বেশী জানেন। তিনি নীরব হয়ে গেলেন। আমরা মনে করতে লাগলাম, হয়ত তিনি এর নাম পাল্টিয়ে অন্য কোন নামে নামকরণ করবেন। তিনি বললেন : এ কি যিলহজ্জের মাস নয় ? আমরা বললাম, হ্যাঁ। তারপর তিনি বললেন : এটি কোন শহর ? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই সবচাইতে বেশী জানেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব হয়ে গেলেন। ফলে আমরা ভাবতে লাগলাম, হয়ত তিনি এর নাম বদলিয়ে অন্য নামকরণ করবেন। তিনি বললেন : এ কি সম্মানিত শহর নয় ? আমরা বললাম, নিশ্চয়ই। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমাদের জান এবং তোমাদের মাল তোমাদের জন্য তোমাদের রবের সঙ্গে সাক্ষাতের দিন পর্যন্ত এমন সম্মানিত যেমন সম্মান রয়েছে তোমাদের এ দিনের, তোমাদের এ মাসে এবং তোমাদের শহরে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের লক্ষ্য করে বললেন : শোন ! আমি পৌঁছিয়েছি তোমাদের কাছে ? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ (ইয়া রাসূলাল্লাহ !) তারপর তিনি বললেন : প্রত্যেক উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে (আমার দাওয়াত) পৌঁছিয়ে দেয়। কেননা, কোন কোন মুবাল্লাগ শ্রবণকারী থেকে কখনো কখনো অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে। তোমরা আমার পরে কুফরীর দিকে প্রত্যাবর্তন করো না যে, পরস্পর পরস্পরকে হত্যা করবে।
হাদীস নং ১৬৩৩
মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় অবস্থানকালে বললেন : তোমরা কি জান, এটি কোন দিন ? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচাইতে বেশী জানেন। তিনি বললেন : এটি সম্মানিত দিন। (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : তোমরা কি জান এটি কোন শহর ? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচাইতে বেশী জানেন। তিনি বললেন : এটি সম্মানিত শহর। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমরা কি জান এটি কোন মাস ? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন : এটি সম্মানিত মাস। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এ মাসে, এ শহরে, এ দিনটি তোমাদের জন্য যেমন সম্মানিত, তেমনিভাবে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন, তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের ইযযত-আবরুকে তোমাদের পরস্পরের জন্য সম্মানিত করে দিয়েছেন। হিশাম ইবনে গায রহ. নাফি রহ.-এর মাধ্যমে ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হজ্জ আদায়কালে কুরবানীর দিন জামারাতের মধ্যবর্তী স্থলে দাঁড়িয়ে এ কথাগুলো বলেছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন যে, এটি হল হজ্জে আকবরের দিন। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে লাগলেন : ইয়া আল্লাহ ! তুমি সাক্ষী থাক। এরপর তিনি সাহাবীগণকে বিদায় জানালেন। তখন সাহাবীগণ বললেন, এ-ই বিদায় হজ্জ।
